প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর মালয়েশিয়ায়

০২ জুন ২০২৬, ১০:৪৪ AM
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান © সংগৃহীত

গত ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফরের গন্তব্য হতে যাচ্ছে মালয়েশিয়া। এর পরপরই চলতি মাসের শেষের দিকে তিনি সরকারি সফরে চীন যাবেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ২১–২২ জুন প্রধানমন্ত্রীর কুয়ালালামপুর সফরের প্রস্তুতি চলছে। মালয়েশিয়া সফরের পর তার বেইজিং সফরের কথা রয়েছে, তবে সেই সফরের তারিখ এখনও চূড়ান্ত করা হয়নি।

মালয়েশিয়া ও চীনের এই পরিকল্পিত সফরগুলোকে তারেক রহমান প্রশাসনের পররাষ্ট্রনীতির দিকনির্দেশনা এবং আঞ্চলিক প্রধান অংশীদারদের সাথে সম্পর্ক ভারসাম্যের ক্ষেত্রে প্রাথমিক সূচক হিসেবে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার মধ্যে মালয়েশিয়াকে প্রথম গন্তব্য হিসেবে বেছে নেওয়াকে সুচিন্তিত ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, একটি মধ্যম শক্তির দেশের সাথে প্রথম বৈদেশিক ব্যস্ততা শুরু করার মাধ্যমে ঢাকা যেকোনো অপ্রয়োজনীয় ভূ-রাজনৈতিক সংবেদনশীলতা এড়িয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি বজায় রাখতে পারবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন সাবেক কূটনীতিক বলেন, “বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে বিভিন্ন খাতে অত্যন্ত জোরালো সহযোগিতা রয়েছে। প্রথম সফর হিসেবে এমন একটি মধ্যম শক্তির দেশকে বেছে নেওয়া অত্যন্ত বিচক্ষণতার পরিচয়।  এটি বাংলাদেশের ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির অগ্রাধিকার সম্পর্কে একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করে।”

বিএনপির পররাষ্ট্রনীতি 

এই বৈদেশিক সফরগুলো বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে বর্ণিত পররাষ্ট্রনীতির প্রতিশ্রুতির সাথেও সংগতিপূর্ণ। দলটির ইশতেহারে বিদেশি সরাসরি বিনিয়োগ আকর্ষণ, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং দেশীয় শিল্পে মূল্য সংযোজন বৃদ্ধির লক্ষ্যে কৌশলগত অংশীদারত্ব সম্প্রসারণের পাশাপাশি মুসলিম বিশ্বের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও গভীর ও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার করা হয়েছে।

ইশতেহারে আন্তর্জাতিক বাজারে দক্ষ বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য আরও বড় সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে শ্রম ও অভিবাসন কূটনীতি জোরদার করার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

অভিবাসন ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা

মালয়েশিয়া এখনো বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দেশটিতে আনুমানিক ৮ লাখ থেকে ১০ লাখ বৈধ বাংলাদেশি কর্মী কর্মরত রয়েছেন, যা তাদেরকে সে দেশের বৃহত্তম বিদেশি শ্রম জনগোষ্ঠীর একটিতে পরিণত করেছে।

মালয়েশিয়ার অর্থনীতির প্রধান প্রধান খাত যেমন— পাম অয়েল বাগান, নির্মাণ শিল্প, ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন এবং রবার গ্লাভস তৈরিতে বাংলাদেশি কর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, এই সফরে অভিবাসন সংক্রান্ত বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে আলোচনা করা হবে।

এই কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে শক্তিশালী অর্থনৈতিক সহযোগিতা রয়েছে। শ্রম অভিবাসন এই সম্পর্কের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।

অভিবাসন ছাড়াও, উভয় পক্ষ বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের উপায়গুলো নিয়ে আলোচনা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি মূলত আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব বহুমুখীকরণ এবং অর্থনৈতিক কূটনীতি জোরদার করার ক্ষেত্রে ঢাকার প্রচেষ্টাকেই প্রতিফলিত করে।

প্রথম শিক্ষাবর্ষ থেকেই বাজেট পাচ্ছে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্…
  • ০২ জুন ২০২৬
নগদ লিমিটেডে চাকরি, কর্মস্থল ঢাকা, আবেদন ১০ জুন পর্যন্ত
  • ০২ জুন ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর মালয়েশিয়…
  • ০২ জুন ২০২৬
তরুণীকে অশালীন মন্তব্য, কিশোর গ্যাংয়ের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে…
  • ০২ জুন ২০২৬
শিশু রামিসা হত্যায় নাম আসা ডলারের পরিচয় জানা গেল
  • ০২ জুন ২০২৬
বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা দলে ইনজুরির মিছিল, শুরুর ম্যাচ মিস কর…
  • ০২ জুন ২০২৬