মাহদী আমিন
প্রেস কনফারেন্সে বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন © সংগৃহীত
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী পালনে ফ্যাসিবাদের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংস্কৃতি ভেঙে ফেলা হয়েছে বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন। অতীতের মতো এমন অনুষ্ঠানে কোনো কোমলমতি শিক্ষার্থীকে রোদের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড় করিয়ে রাখা হয়নি, কিংবা রাষ্ট্রীয় আড়ম্বরের প্রদর্শনীও করা হয়নি বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি। বলেছেন, সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই এই আয়োজনকে অর্থবহ করেছে।
আজ সোমবার (১ জুন) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক প্রেস কনফারেন্সে তিনি এসব কথা বলেন। মাহদী আমিন সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা লক্ষ্য করেছেন— মাত্র দুই দিন আগে বিএনপি আয়োজিত দলটির প্রতিষ্ঠাতা, মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক এবং ইতিহাসের অবিস্মরণীয় রাষ্ট্রনায়ক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী সারাদেশে গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও আবেগের মধ্য দিয়ে দলীয়ভাবে পালিত হয়েছে। এই আয়োজনের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক ছিল ফ্যাসিবাদের দীর্ঘ সংস্কৃতি সম্পূর্ণরূপে ভেঙে দিয়ে জনগণের সম্পৃক্ততা এবং স্বতঃস্ফূর্ততা শতভাগ নিশ্চিত করা।
তিনি বলেন, গণমুখী রাজনীতির যে ঐতিহ্য বিএনপি বহু দশক ধরে লালন করে আসছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুস্পষ্ট নির্দেশনা, কোথাও কোনো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে বলা হয়নি, কোনো কোমলমতি শিক্ষার্থীকে রোদের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড় করিয়ে রাখা হয়নি, কিংবা জনগণের কষ্টার্জিত অর্থ ব্যয় করে রাষ্ট্রীয় আড়ম্বরের প্রদর্শনীও করা হয়নি। বরং দলের নেতাকর্মী, সমর্থক এবং সাধারণ মানুষের আবেগতাড়িত অংশগ্রহণ, ভালোবাসা ও শ্রদ্ধাই দেশব্যাপী বিএনপির রাজনৈতিক কর্মসূচিকে সার্থক ও অর্থবহ করেছে।
আরও পড়ুন: সরানো হচ্ছে সড়ক পরিবহনের শেখ রবিকে, কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে আলোচনায় নতুন মুখ
মাহ্দী আমিন বলেন, অনেকের কাছেই হয়ত এটি বিস্ময়কর মনে হতে পারে যে, রাষ্ট্র পরিচালনাকারী দলটির প্রতিষ্ঠাতা এবং কালজয়ী রাষ্ট্রনায়কের শাহাদাতবার্ষিকী রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার না করেও এত ব্যাপকভাবে পালিত হতে পারে। কিন্তু এটিই ফ্যাসিবাদের কাঠামো ভেঙে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তিত ধারা, যেখানে মানুষের হৃদয়ের টানই সবচেয়ে বড় শক্তি, প্রশাসনিক নির্দেশ নয়; যেখানে শ্রদ্ধা অর্জিত হয় ভালোবাসার মাধ্যমে, ক্ষমতার বলে নয় এবং জনগণই সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস।
ফ্যাসিবাদী আমলের বিবরণ দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, আমরা অতীতে দেখেছি, বিভিন্ন দিবস উদযাপনের নামে সরকারি দপ্তর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং প্রশাসনিক কাঠামোকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে ব্যস্ত রাখা হয়েছে। সেখানে রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় হয়েছে, জনগণের অর্থ ব্যয় হয়েছে, এমনকি ব্যবসায়ীসহ নানা মহল থেকে আয়োজনের নাম করে বিপুল পরিমাণ অর্থ বলপূর্বক আদায় করা হয়েছে। কিন্তু একটি দায়িত্বশীল, গণমুখী ও জবাবদিহিমূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতির লক্ষ্য হওয়া উচিত জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার প্রদর্শন নয়।
রাষ্ট্রীয় বাধ্যবাধকতা নয়, মানুষের হৃদয়ের আহ্বানই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিকে আজও জীবন্ত রেখেছে বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি। বলেছেন, চার দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি কোটি-কোটি মানুষ ও পরিবারের হৃদয়ে সমানভাবে প্রাসঙ্গিক, সম্মানিত এবং অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে আছেন। এটিই একজন প্রকৃত জননেতার প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান; এটাই ইতিহাসে অমর হয়ে থাকার প্রকৃত পথ।
মাহ্দী আমিন বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার যে গণমুখী ও জনসম্পৃক্ত রাজনৈতিক আদর্শ, সেটিকে পাথেয় করেই গণমানুষের নেতা তারেক রহমান বিশ্বাস করেন— রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে কাউকে রাজনৈতিকভাবে প্রচার করা যায়, সাময়িকভাবে ব্যক্তিপূজার পরিবেশও তৈরি করা যায়; কিন্তু জনগণের হৃদয়ে স্থায়ী আসন তৈরি করা যায় না। ইতিহাস সাক্ষী, ক্ষমতার বলয়ে নির্মিত জনপ্রিয়তা ক্ষণস্থায়ী; কিন্তু মানুষের ভালোবাসা, আস্থা ও শ্রদ্ধার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা রাষ্ট্রনায়কোচিত নেতৃত্ব যুগের পর যুগ বেঁচে থাকে, যার প্রমাণ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, যার প্রমাণ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া।
ঈদুল আজহা পরবর্তী প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের প্রথম প্রেস কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, স্পিচ রাইটার এস এ এম মাহফুজুর রহমান, উপ প্রেস সচিব-১ জাহিদুল ইসলাম রনি, উপ প্রেস সচিব মোস্তফা জুলফিকার হাসান, মো. সুজন মাহমুদ, শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন, আশরোফা ইমদাদ, কে এম নাজমুল হক, আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ শাহরিয়ার পামির প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।