ঢাবিতে মেট্রোরেল স্টেশন অতিক্রম করার সময় স্টেশনের ছাদে আটকে যায় © সংগৃহীত
উৎসবমুখর পরিবেশে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ বরণ করে নিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ আয়োজিত বৈশাখী শোভাযাত্রায় একটি অনাকাঙ্ক্ষিত অঘটন ঘটেছে।
আজ মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শোভাযাত্রাটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেট্রোরেল স্টেশন এলাকা অতিক্রম করার সময় উচ্চতার কারণে তিনটি প্রধান মোটিফ স্টেশনের ছাদে আটকে যায়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, এবারের শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া পাঁচটি প্রধান মোটিফের মধ্যে হাতি ও একটি ঘোড়া নিরাপদে স্টেশন এলাকা পার হতে পারলেও বৃহদাকার লাল ঝুঁটি মোরগ, দোতারা এবং অন্য একটি ঘোড়া স্টেশনের ছাদে বাধাগ্রস্ত হয়। এসময় ছাদে ঘষা লেগে লাল ঝুঁটি মোরগের ওপরের একটি ছোট অংশ ভেঙে যায়। পরে উপস্থিত স্বেচ্ছাসেবক ও শিক্ষার্থীরা রাস্তার ঢালু পাশ ব্যবহার করে সতর্কতার সাথে মোটিফগুলো পার করে নিয়ে যান।
এবারের শোভাযাত্রায় পাঁচটি প্রধান মোটিফ বা প্রতীক স্থান পেয়েছে, যার প্রতিটি বহন করছে বিশেষ বার্তা। নতুন সূচনা ও অন্ধকারের বিনাশ হিসেবে থাকছে ‘মোরগ’, যা মূলত গণতান্ত্রিক ভোরের প্রতীক। লোকজ ঐতিহ্য ও শক্তির প্রতীক হিসেবে ‘হাতি’, গ্রামীণ স্মৃতি জাগানিয়া টেপা আকৃতির ‘ঘোড়া’, শান্তি ও সহাবস্থানের বারতায় ‘পায়রা’ এবং বাউল সংস্কৃতির সংহতি ও তাদের ওপর হামলার প্রতিবাদ স্বরূপ ‘দোতারা’কে মোটিফ হিসেবে রাখা হয়েছে। এছাড়া ১৫০ ফুট দীর্ঘ স্ক্রল পেইন্টিং এবং বাঘ, মাছ, ময়ূর ও হরিণ শাবকের প্রতিকৃতি শোভাযাত্রাকে বৈচিত্র্যময় করে তুলেছে।
বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে এবার পাঁচটি পটচিত্র স্থান পেয়েছে, যা তৈরি করেছেন পটচিত্রী টাইগার নাজির। এসব পটে সুন্দরবনের ‘দেবী বনবিবি’, সম্রাট আকবর, বাংলাদেশের অভ্যুদয় ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, গাজীর পট এবং মনসামঙ্গলের ‘বেহুলা’র চরিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।