সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম © সংগৃহীত
পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন পথে বাড়তি যাত্রীচাপ, যানবাহনের চাপ এবং কোরবানির পশু পরিবহনের মধ্যেও এবারের ঈদযাত্রা তুলনামূলকভাবে স্বস্তিদায়ক হয়েছে বলে দাবি করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেছেন, নির্ধারিত ভাড়ায় ও শৃঙ্খলার সঙ্গে যাত্রীরা গন্তব্যে যেতে পারছেন এবং নানা চ্যালেঞ্জ থাকলেও সবকিছু মিলিয়ে একটা ভালো ঈদযাত্রা ম্যানেজ করতে সক্ষম হয়েছি।
বুধবার (২৭ মে) দুপুরে রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ব্যাপক চাপ থাকা সত্ত্বেও সরকার সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছে।
সড়মন্ত্রী এমন সময়ে এই কথা বলেছেন, যখন বৃষ্টি আর সড়কের বিভিন্ন স্থানে যানবাহন বিকল হওয়ায় ঈদযাত্রার শেষ মুহূর্তে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের ৪০ কিলোমিটারে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। এতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কে আটকা পড়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কয়েক হাজার ঘরমুখী মানুষ। মঙ্গলবার (২৬ মে) দিবাগত রাত ১০টা থেকে এই মহাসড়কের গাজীপুর ও সাভার অঞ্চল থেকে শুরু করে যমুনা সেতুর পশ্চিম প্রান্ত পর্যন্ত ক্ষণে ক্ষণে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। যানজটের কারণে নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। এর পাশাপাশি গতকাল থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টির কারণে খোলা ট্রাক ও পিকআপে যাতায়াতকারী ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রীদের অবর্ণনীয় ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
যানজটে আটকা পড়া এমনই একজন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল। ঢাকা থেকে রওনা হয়ে ১২ ঘণ্টায় মাত্র টাঙ্গাইল পৌঁছাতে পারায় এবং নির্ধারিত সময়ে এলাকায় উপস্থিত হতে না পেরে তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
ফেসবুক পোস্টে নূরুল ইসলাম বুলবুল লিখেন, গরিব অসহায় ও দুস্থ মানুষের ঈদ সহযোগিতার জন্য প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে বরাদ্দকৃত ১০ লাখ টাকার ঈদ উপহার সাধারণ মানুষের মাঝে বিতরণের জন্য এবং টাঙ্গাইলে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নের মামুনের পরিবার ও চরবাগডাঙ্গায় বজ্রপাতে নিহত মনোয়ারার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার উদ্দেশ্যেই গতকাল রাত ১১টা ৩৮ মিনিটে ঢাকা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা হন। কিন্তু আজ বেলা ১১টা ২৫ মিনিট পর্যন্ত তীব্র যানজটের কারণে তারা টাঙ্গাইলেই আটকে ছিলেন।
যদিও সড়ক মন্ত্রী জানান, কয়েক দিনের মধ্যে প্রায় দেড় কোটি মানুষ রাজধানী ছেড়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছেন। একই সময়ে প্রায় ৮০ লাখ কোরবানির পশুও পরিবহন করা হচ্ছে। এত বড় চাপ সামাল দিতে সড়ক, রেল ও নৌপথে সর্বোচ্চ সক্ষমতা ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি বলেন, কিছু স্থানে যানজট থাকলেও সেটি পরিস্থিতিগত কারণে সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে যমুনা সেতুর আগে চন্দ্রা এলাকায় সাত লেনের যানবাহন দুই লেনে প্রবেশ করায় ধীরগতি দেখা দিচ্ছে। তবে ব্যবস্থাপনায় কোনো বড় ধরনের সমস্যা নেই বলে দাবি করেন তিনি।
ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ প্রসঙ্গে শেখ রবিউল আলম বলেন, বাস কাউন্টারের বাইরে কিছু অসাধু চক্র যাত্রীদের কাছ থেকে বেশি ভাড়া আদায়ের চেষ্টা করছে। তবে এমন অভিযোগ পাওয়া মাত্রই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্টদের জরিমানাও করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, বিআরটিএর কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল থেকে সার্বক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে সরকার নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করছে যে তারা নির্ধারিত ভাড়ায় ভ্রমণ করতে পারছেন কিনা।
রেলপথে যাত্রীসেবা বাড়াতে কয়েকটি আন্তঃনগর ট্রেনে নারীদের জন্য বিশেষ কোচ সংযোজনের কথাও জানান মন্ত্রী। ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে এ ব্যবস্থা চালু হয়েছে। এছাড়া ঈদ উপলক্ষে অতিরিক্ত ৫১টি কোচ যুক্ত করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে উত্তরার দিয়াবাড়িতে মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পশুর হাট বসানো প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এ সিদ্ধান্ত মন্ত্রণালয়ের ছিল না। বিষয়টি সিটি করপোরেশনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে মন্তব্য করেন তিনি।