ল্যাসিন মেগনান-পাভে © সংগৃহীত
কৈশোর পেরোনোর আগেই বিশ্ব ফুটবলে আলোড়ন তুলেছিলেন লামিন ইয়ামাল। তার উত্থান তরুণ প্রতিভাদের নিয়ে ইউরোপের ক্লাবগুলোর ভাবনাচিন্তাই বদলে দেয়। সেই ধারাবাহিকতায় ফ্রান্সে এবার আলো ছড়াচ্ছেন মনপেলিয়েরের ১৬ বছর বয়সী স্ট্রাইকার ল্যাসিন মেগনান-পাভে।
তাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলোর আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বার্সেলোনা, চেলসি ও আর্সেনালের মতো জায়ান্টরা নজর রাখছে তার ওপর। ৬ ফুট ২ ইঞ্চি উচ্চতার মেগনান-পাভের শারীরিক সক্ষমতা যেমনি নজরকাড়া, তেমনি বল পায়ে তার পরিণতিও অবাক করার মতো।
২০১০ সালের ৭ মার্চ ফ্রান্সে জন্ম নেওয়া মেগনান-পাভে মাত্র ৭ বছর বয়সে মনপেলিয়েরের একাডেমিতে যোগ দেন। বয়সভিত্তিক দলগুলোর প্রতিটি ধাপেই নিজের প্রতিভার ছাপ রেখেছেন তিনি। শক্তি ও উচ্চতার পাশাপাশি পিঠ দিয়ে বল ধরে রাখা, সতীর্থদের গোলের সুযোগ তৈরি করে দেওয়া এবং প্রতিপক্ষের রক্ষণে হঠাৎ আঘাত হানার দক্ষতাও রয়েছে তার। দ্রুত উন্নতির পুরস্কার হিসেবে বয়সভিত্তিক দলের গণ্ডি পেরিয়ে অল্প বয়সেই বড়দের দলে জায়গা করে নেন তিনি।
গত ২ ফেব্রুয়ারি মনপেলিয়েরের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে পেশাদার চুক্তিতে সই করেন মেগনান-পাভে। তাকে ধরে রাখতে ক্লাবটিও নেয় আগাম উদ্যোগ। ফরাসি সংবাদমাধ্যম ল’ইকিপের তথ্য অনুযায়ী, চেলসি ও আর্সেনালের আগ্রহের মধ্যেই ২০২৮ সাল পর্যন্ত তার সঙ্গে চুক্তি নিশ্চিত করেছে মনপেলিয়ের।
ফ্রান্স অনূর্ধ্ব-১৬ দলের অধিনায়ক হিসেবেও নিজের নেতৃত্বগুণের প্রমাণ দিয়েছেন এই তরুণ। ২০২৬ কাপ গামবারদেলার ফাইনালে মনপেলিয়েরকে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তার। যদিও স্ট্যাড দ্য ফ্রান্সে পিএসজির কাছে ৩-২ গোলে হেরে শিরোপা ছোঁয়া হয়নি, পুরো টুর্নামেন্টে মেগনান-পাভের তিনটি দৃষ্টিনন্দন গোল ইউরোপের স্কাউটদের নজর কেড়েছে।
পেশাদার ফুটবলের দরজা খুলে গেলেও মাটিতে পা রাখছেন মেগনান-পাভে। শৈশবের স্বপ্নপূরণের আনন্দ প্রকাশের পাশাপাশি তিনি জানেন, পথচলা মাত্র শুরু হয়েছে। ইয়ামালের মতো উইঙ্গার নন, তার মূল পজিশন সেন্টার ফরোয়ার্ড। তাই দুজনের খেলায় পার্থক্য থাকলেও অল্প বয়সে প্রতিভার ঝলক দেখানোর জায়গায় মিলটা স্পষ্ট।
হয়তো ইয়ামালের মতো রাতারাতি বিশ্বফুটবলের শীর্ষে উঠে আসবেন না মেগনান-পাভে। তবে যে গতিতে এগোচ্ছেন, তাতে ইউরোপীয় ফুটবলের ভবিষ্যৎ আলোচনায় এই ফরাসি কিশোরের নাম যে বারবার ফিরে আসবে, সেই সম্ভাবনা এখন বেশ জোরালো।