নববর্ষ বরণে প্রস্তুত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:০১ PM , আপডেট: ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:০২ PM
চারুকলার শিক্ষার্থীরা মোটিফ তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন

চারুকলার শিক্ষার্থীরা মোটিফ তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন © টিডিসি

তিন বছর পর নববর্ষকে সামনে রেখে বৈশাখী উৎসবের জোর প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) চারুকলা অনুষদসহ অন্যান্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা। বৈশাখী শোভাযাত্রা উপলক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা তৈরি করছেন নানা বর্ণিল মোটিফ, যেখানে বাঙালির ঐতিহ্যের পাশাপাশি উঠে আসছে সমসাময়িক বিশ্ব বাস্তবতার প্রতিফলন। এবারের শোভাযাত্রায় যুদ্ধ ও জ্বালানি সংকটের বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরা হচ্ছে।

এদিকে রাবিতে শোভাযাত্রার অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে থাকছে ঘোড়া ও ঘোড়ার গাড়ির মোটিফ, যা শক্তি, গতি ও ঐতিহ্যের প্রতীক বিবেচিত হয়। পাশাপাশি জাতীয় মাছ ইলিশ, শৈশবের স্মৃতিবাহী টমটম গাড়ি এবং প্রাচীন রাজা-বাদশা ও ঐতিহাসিক চরিত্রের মুখোশ স্থান পাচ্ছে এবারের বৈশাখী আয়োজনে। বিশ্ব পরিস্থিতি তুলে ধরতে একটি বিশেষ প্রদর্শনীরও উদ্যোগ রয়েছে।

অন্যদিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন অ্যাকাডেমিক ভবন প্রাঙ্গণে চারুকলার শিক্ষার্থীরা বাঁশ, কাঠ, লোহা ও রঙিন কাগজ দিয়ে মোটিফ তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। রংতুলির ছোঁয়ায় ধীরে ধীরে সেগুলো প্রাণবন্ত হয়ে উঠছে।

এদিকে কেন্দ্রীয়ভাবে নির্ধারিত প্রতিপাদ্য না থাকায় এবং বিতর্ক এড়াতে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী বৈশাখী শোভাযাত্রা নামেই এবারের বাংলা বর্ষবরণের আয়োজন করা হচ্ছে। জ্বালানি সাশ্রয়ের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে সময় ও বিদ্যুৎ ব্যবহারে সংযম আনা হয়েছে এবং সন্ধ্যার মধ্যেই বৈশাখী আয়োজন শেষ করা হবে। এবার নতুন করে বর্ষবরণ প্রাণ ফিরে পাচ্ছে। 

জানা গেছে, এবার রাবিতে রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ বৈশাখী শোভাযাত্রা উপভোগ করতে যাবেন ক্যাম্পাসে। শোভাযাত্রার পাশাপাশি থাকবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। আয়োজকদের মতে, এ ধরনের সর্বজনীন উৎসব গ্রাম-বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে বিস্তৃতভাবে ছড়িয়ে দেওয়া গেলে সামাজিক সম্প্রীতি বাড়বে যা মানবিক সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

রাবির চারুকলা অনুষদের মৃৎশিল্প ও ভাস্কর্য বিভাগের শিক্ষার্থী নাসির হোসেন বলেন, গত বছর পহেলা বৈশাখ ছিল রমজান মাসে। এছাড়া দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতির ফলে বর্ষবরণের আয়োজন হয়নি বড় পরিসরে। তবে এবার নতুন উদ্যমে কাজ করছি।

শিক্ষকদের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে নতুন অনেক কিছু শেখার সুযোগ পাচ্ছি। শিক্ষার্থীরা আরও জানান, নিজেদের হাতে সব কিছু তৈরির মধ্যে ভিন্নধর্মী আয়োজনে শোভাযাত্রাকে আরও আকর্ষণীয় ও বর্ণিল করতে তারা দিনরাত কাজ করছেন।

চারুকলা অনুষদের অধ্যাপক ড. আরিফুল ইসলামের মতে, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত দিতে এমন মোটিফ তৈরি করা হচ্ছে, যেখানে মানুষ আবার পুরোনো বাহনের দিকে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। তিনি বলেন, প্রাচীন বাহন ঘোড়া ও ঘোড়ারগাড়ি সেই বাস্তবতার প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।

অর্থায়নের বিষয়ে চারুকলা অনুষদের আরেক অধ্যাপক ড. হুমায়ুন কবীর বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহায়তার পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত শ্রম ও অর্থায়নেই এই প্রস্তুতি চলছে। সাংস্কৃতিক স্বকীয়তা বজায় রাখতে কোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের স্পন্সর নেওয়া হয়নি।

মানবাধিকার নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মশালা
  • ১৩ এপ্রিল ২০২৬
নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য রেকর্ড পারিশ্রমিক ঘোষণা
  • ১৩ এপ্রিল ২০২৬
অভিজ্ঞতা ছাড়াই চাকরি সিনোভিয়া ফার্মায়, নেবে সেলস এক্সিকিউটিভ
  • ১৩ এপ্রিল ২০২৬
সংবিধানের দোহাই দিয়ে নতুন ফ্যাসিবাদের পথে সরকার: এবি পার্টি
  • ১৩ এপ্রিল ২০২৬
সদস্য সংগ্রহ করছে ঢাবির ‌‘ভয়েস অব বিজনেস’
  • ১৩ এপ্রিল ২০২৬
জার্মানিতে বিক্রমপুর-মুন্সিগঞ্জ সমিতির ঈদ পুনর্মিলনী
  • ১৩ এপ্রিল ২০২৬