তৌহিদী জনতার বাধায় যশোরে বন্ধ হলো ঈদগাহ মাঠে বিশ্বকাপের ফাইনাল © সংগৃহীত
যশোরে বড় পর্দায় ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ প্রদর্শনের জন্য ঈদগাহ মাঠে নেওয়া সমস্ত প্রস্তুতি শেষ মুহূর্তে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় ‘তৌহিদী জনতা’র ব্যানারে একদল মুসল্লির প্রতিবাদ এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপে আয়োজকরা মাঠ থেকে তাঁদের প্রজেক্টরসহ যাবতীয় সরঞ্জাম সরিয়ে নিতে বাধ্য হন।
ফ্যাশন রিটেইল ব্র্যান্ড ‘সেইলর’-এর উদ্যোগে চলতি বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলো যশোর টাউন হল মাঠে বড় পর্দায় দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু সেখানে বর্তমানে বৃক্ষমেলা চলমান থাকায়, আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যকার মেগা ফাইনাল ম্যাচটি দেখানোর জন্য বিকল্প ভেন্যু হিসেবে যশোর ঈদগাহ মাঠকে বেছে নেওয়া হয়েছিল এবং সেই অনুযায়ী সব প্রস্তুতিও সম্পন্ন করা হয়।
রোববার (১৯ জুলাই) রাত ৯টার দিকে হঠাৎ করেই ‘তৌহিদী জনতা’র ব্যানারে একদল মুসল্লি ঈদগাহ মাঠে জড়ো হন। তারা ঈদগাহ মাঠের পবিত্রতা ও মর্যাদা রক্ষার দাবি তুলে সেখানে বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ প্রদর্শনে বাধা দেন এবং ব্যানার নিয়ে মানববন্ধনের প্রস্তুতি নেন।
আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে ইয়াসিন আরাফাত নামে এক মুসল্লি বলেন, ‘ঈদগাহ মাঠ একটি পবিত্র ধর্মীয় স্থান। সেখানে ফুটবল বিশ্বকাপের মতো জুয়া ও ভিন্ন কালচারের সংস্কৃতি চলতে পারে না। খেলার নামে অপসংস্কৃতি চলবে ঈদগাহ মাঠে, এটা কোনোভাবেই মানা যায় না। তাই ধর্মপ্রাণ সচেতন মুসলিম হিসেবে আমরা এখানে প্রতিবাদ জানাতে এসেছিলাম।’
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া বক্তারা উল্লেখ করেন, ঈদগাহ মাঠ মুসল্লিদের ধর্মীয় ইবাদতের জন্য নির্ধারিত একটি স্থান। এমন জায়গায় বিশ্বকাপ ফুটবলের মতো বিনোদনমূলক বা বাণিজ্যিক অনুষ্ঠান আয়োজন মাঠের মর্যাদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সচেতন মুসলিম হিসেবে মাঠের পবিত্রতা রক্ষা করা তাঁদের নৈতিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব এবং সেই দায়িত্ববোধ থেকেই তারা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। একপর্যায়ে পুলিশ প্রশাসন, আয়োজক কমিটি এবং প্রতিবাদী মুসল্লিদের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় আলোচনার পর সিদ্ধান্ত হয় যে, ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধা রেখে ঈদগাহ মাঠে বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ দেখানো হবে না। এই সিদ্ধান্তের পর আয়োজকরা তাঁদের স্ক্রিন ও প্রজেক্টর সরিয়ে নেন।
এ বিষয়ে যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘শহরে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আয়োজক কমিটি, জেলা প্রশাসন ও মানববন্ধনকারীদের সঙ্গে কথা বলে ঈদগাহ মাঠে খেলা প্রদর্শনের আয়োজন স্থগিত করা হয়েছে। খেলাকে কেন্দ্র করে যেন কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সেদিকে পুলিশ সতর্ক নজর রাখছে।’