কিলিয়ান এমবাপ্পে © সংগৃহীত
বিশ্বকাপ ফুটবলে নতুন ইতিহাস গড়লেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। নকআউট পর্বে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় এককভাবে শীর্ষে উঠে গেছেন ফ্রান্সের অধিনায়ক।
এতদিন এই রেকর্ডটি যৌথভাবে ছিল ব্রাজিলের কিংবদন্তি রোনালদো নাজারিও ও ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড লিওনিদাসের দখলে। দুজনেই নকআউট পর্বে করেছিলেন ৮টি করে গোল। তবে এবার সেই রেকর্ড ভেঙে ৯ গোল করে নতুন ইতিহাস লিখলেন এমবাপ্পে।
সুইডেনের বিপক্ষে শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে একের পর এক আক্রমণ চালায় লে ব্লু। ম্যাচের ২০তম মিনিটে এমবাপ্পের একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়, পরে ৩২তম মিনিটে তার আরেকটি শটও পোস্টে লেগে ফিরে আসে।
শেষমেশ এমবাপ্পেই দলের ত্রাতা হয়ে হাজির হন। রিয়াল মাদ্রিদের এই ফরোয়ার্ড দুর্দান্ত দক্ষতায় জাল খুঁজে নিয়ে ফ্রান্সকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। এতে চলতি বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে লিওনেল মেসির সঙ্গে ব্যবধান কমানোর পথেও আরেক ধাপ এগিয়ে গেলেন ফরাসি অধিনায়ক। চলতি বিশ্বকাপে এটি এমবাপ্পের পঞ্চম গোল। আর সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে এটি তার ১৭তম গোল।
এদিকে বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলের তালিকায় এখনো শীর্ষে আছেন আর্জেন্টিনার মহাতারকা লিওনেল মেসি। আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী এই ফরোয়ার্ড ২৯ ম্যাচে ১৯ গোল করেছেন। তবে তার খুব কাছেই পৌঁছে গেছেন এমবাপ্পে।
মাত্র ১৮ ম্যাচেই ১৭ গোল করে ফেলেছেন ফ্রান্সের অধিনায়ক, যা তাকে বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম দ্রুততম স্কোরারদের কাতারে নিয়ে গেছে। এই ১৭ গোলের মধ্যে ৯টিই এসেছে নকআউট পর্বে।
২০১৮ বিশ্বকাপে নকআউটে ৪ ম্যাচ খেলে ৩ গোল করেছিলেন এমবাপ্পে। এরপর ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে আরও একধাপ এগিয়ে ফাইনালে হ্যাটট্রিকসহ নকআউটের ৪ ম্যাচে করেন ৫ গোল।
এতদিন নকআউট পর্বে সর্বোচ্চ ৮ গোলের রেকর্ডটি যৌথভাবে ধরে রেখেছিলেন ব্রাজিলের দুই কিংবদন্তি রোনালদো নাজারিও এবং লিওনিদাস। ১৯৩৪ ও ১৯৩৮ বিশ্বকাপে মাত্র ৫টি নকআউট ম্যাচে ৮ গোল করেছিলেন লিওনিদাস। অন্যদিকে রোনালদো নাজারিও ১৯৯৮ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত তিন বিশ্বকাপের ১০ নকআউট ম্যাচে করেন সমান ৮ গোল। তবে সেই রেকর্ড এখন ভেঙে এককভাবে শীর্ষে উঠে গেছেন এমবাপ্পে।