কিলিয়ান এমবাপ্পে © সংগৃহীত
ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসে গোলের রেকর্ড নিয়ে দীর্ঘদিন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন মিরোস্লাভ ক্লোসা। ১৬ গোল নিয়ে জার্মান কিংবদন্তির রেকর্ডটি অনেকের কাছেই প্রায় অপ্রতিরোধ্য মনে হচ্ছিল। কিন্তু চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপে এসে সেই চিত্র বদলেছে। ক্লোসাকে পেছনে ফেলে নিজের গোলসংখ্যা ১৮-তে নিয়ে গেছেন লিওনেল মেসি। তবে আর্জেন্টাইন মহাতারকারও নিজের রেকর্ড নিয়ে স্বস্তিতে থাকার সুযোগ নেই। কারণ, তার খুব কাছেই আছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে।
ইরাকের বিপক্ষে জোড়া গোল করে নিজের বিশ্বকাপ গোলসংখ্যা ১৬-তে তুলেছেন ফরাসি অধিনায়ক। অর্থাৎ মেসির সঙ্গে তার ব্যবধান এখন মাত্র দুই গোল। চলতি আসরেই সেই ব্যবধান মুছে ফেলার সুযোগ ফরাসি এই সেনসেশনের সামনে।
তবে শুধু বর্তমান সংখ্যাই নয়, বয়স এবং সময়ও এমবাপ্পের সবচেয়ে বড় শক্তি। মেসি তার ১৮ গোল করেছেন ৬টি বিশ্বকাপ খেলে। প্রথম গোল করেছিলেন ২০০৬ বিশ্বকাপে, আর রেকর্ড গড়লেন ২০২৬ আসরে। অর্থাৎ এই উচ্চতায় পৌঁছাতে তার প্রায় ২০ বছর লেগেছে। অন্যদিকে মাত্র তৃতীয় বিশ্বকাপ খেলেই ১৬ গোল করে ফেলেছেন এমবাপ্পে। বয়সও মাত্র ২৭-এর কাছাকাছি। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ২০৩০ এবং ২০৩৪ বিশ্বকাপেও স্বাভাবিকভাবেই তাকে দেখা যেতে পারে।
আরেকটি চমকপ্রদ বিষয় হলো, এমবাপ্পের গোল করার হার। ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে ৪ গোল, ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে ৮ গোল এবং ২০২৬ বিশ্বকাপেও ধারাবাহিকভাবে গোল করে চলেছেন তিনি। এখন পর্যন্ত মাত্র দুই ম্যাচেই পেয়েছেন ৪ গোল। সেই হিসেবে বিশ্বকাপের বড় মঞ্চে তার গোল করার প্রবণতাও অন্য অনেক তারকার তুলনায় অনেক বেশি। নকআউট ম্যাচেও যদি তিনি নিয়মিত গোল করেন, তবে মেসির রেকর্ড ভাঙার সম্ভাবনা আরও অনেক বাড়িয়ে দেবে।
এমবাপ্পের সামনে আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। ইতিহাস বলছে, অনেক ফুটবলার দুর্দান্ত শুরু করলেও বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বমঞ্চে সেই ধার ধরে রাখতে পারেননি। কিন্তু এমবাপ্পের ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত তেমন কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বরং ফ্রান্সের আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দু তিনিই এবং দলের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য গোলস্কোরারও।
সবকিছু বিবেচনায় বলাই যায়, মেসির ১৮ গোলের রেকর্ড ভাঙার সবচেয়ে শক্তিশালী দাবিদার এখন এমবাপ্পেই। শুধু তাই নয়, যদি তিনি আরও দুটি বিশ্বকাপ খেলেন, তাহলে রেকর্ডটি হয়তো এমন এক উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারেন, যা ভবিষ্যতে অন্যদের জন্য ছোঁয়াও কঠিন হয়ে যাবে।