বিশ্বকাপে ব্রাজিল দল © সংগৃহীত
চলতি বিশ্বকাপের ‘সি’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হয়ে শেষ ষোলো বা নকআউট পর্বে পা রেখেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে সেলেসাওদের প্রতিপক্ষ এশিয়ার পরাশক্তি জাপান, যারা ‘এফ’ গ্রুপে নেদারল্যান্ডস ও সুইডেনের বিপক্ষে ড্র এবং তিউনিশিয়াকে হারিয়ে রানার্স-আপ হিসেবে নকআউটে এসেছে। আগামী সোমবার (২৯ জুন) বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার হাইভোল্টেজ ম্যাচে মুখোমুখি হবে এই দুই দল।
ঐতিহাসিক এই লড়াইয়ের আগে মাঠের শক্তিমত্তায় ব্রাজিল এগিয়ে থাকলেও এশিয়ার দলটির বিপক্ষে সেলেসাওদের চরম সতর্ক হয়ে খেলার পরামর্শ দিয়েছেন ইনজুরির কারণে চলতি বিশ্বকাপ মিস করা রিয়াল মাদ্রিদের ব্রাজিলীয় ডিফেন্ডার এদের মিলিতাও। তার মতে, জাপান বর্তমানে তাদের ফুটবল ইতিহাসের সেরা সময় পার করছে।
বিশেষ করে জাপানের ফুটবলারদের অবিশ্বাস্য স্ট্যামিনা বা ‘জাপানি ইঞ্জিন’ নিয়ে দলকে সতর্ক করেছেন এই ডিফেন্ডার। বিশ্বে যেমন জাপানি যন্ত্রাংশের কার্যকারিতা ও স্থায়িত্বের সুনাম রয়েছে, ঠিক তেমনি জাপানের ফুটবলারদের শারীরিক সক্ষমতাও দারুণ টেকসই, যারা মাঠের ৯০ মিনিট অবিরাম দৌড়াতে পারেন বলে মনে করেন তিনি।
দলটির প্রশংসা করে মিলিতাও বলেন, ‘আমার মনে হয়, জাপান তাদের ইতিহাসের সেরা বছর পার করছে। দলগত শক্তি এবং খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স—সব বিচারেই তারা এখন সেরা সময়ের সাক্ষী। গত কয়েক বছর ধরে তারা ফুটবলে অবিশ্বাস্য উন্নতি করেছে এবং এই বিশ্বকাপেও প্রমাণ করেছে যে, তারা বিশ্বমঞ্চে বড় আলোচনায় থাকার মতোই দল।’
জাপানকে হালকাভাবে না নেওয়ার পেছনে অবশ্য সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানও বড় কারণ। গত অক্টোবরে একটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে ব্রাজিলকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়েছিল জাপান। লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে ব্রাজিল প্রথমার্ধে লিড নিলেও দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্ত কামব্যাক করে ম্যাচ জিতে নেয় ‘ব্লু সামুরাই’রা। এর মাধ্যমে এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে সেলেসাওদের হারানোর ঐতিহাসিক কীর্তি গড়েছিল তারা। এখানেই শেষ নয়, গত মার্চে আরেকটি প্রীতি ম্যাচে শক্তিশালী ইংল্যান্ডকেও ১-০ গোলে হারিয়েছে এশীয় দলটি।
এই ব্যাক-টু-ব্যাক বড় জয় প্রমাণ করে যে কৌশলগত ও ট্যাকটিক্যাল দিক থেকেও জাপান এখন অনেক পরিপক্ব। বিশেষ করে কাউন্টার অ্যাটাক বা ট্রানজিশনে তাদের গতি প্রতিপক্ষের জন্য মারাত্মক ডিফেন্সিভ হুমকি তৈরি করে। মিলিতাও এই দিকটি নিয়েই দলকে সতর্ক করে বলেন, ‘আমাদের প্রতিটি সেকেন্ড সতর্ক থাকতে হবে। ওরা মাঠে দৌড়ানো থামায় না। নকআউটে যেকোনো মুহূর্তে একটা বড় ধাক্কা দিয়ে বসার ক্ষমতা ওদের আছে। তাদের নিখুঁত কৌশল মেনে খেলার ধরণ এবং মাঠের নিবেদন সত্যিই সমীহ জাগানিয়া।’
অবশ্য প্রতিপক্ষকে সমীহ করলেও মাঠের লড়াইয়ে নিজেদের দলকেই এগিয়ে রাখছেন এই তারকা ডিফেন্ডার। মিলিতাও বিশ্বাস করেন, ব্লু সামুরাইদের হারানোর মতো সব ধরনের রসদ ও বৈচিত্র্য ব্রাজিলের স্কোয়াডে আছে। চলতি বিশ্বকাপে ব্রাজিল প্রতি ম্যাচেই নিজেদের গ্রাফ উন্নত করেছে উল্লেখ করে তিনি যোগ করেন, ‘জাপানকে হারানো নিয়ে আমি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী। গ্রুপ পর্বের প্রতিটি ম্যাচেই আমাদের দল ছন্দে ফিরেছে এবং আরও উন্নতি দেখিয়েছে। জাপানের বিপক্ষে একটি ইতিবাচক ফলাফল বের করে নেওয়ার মতো সব দক্ষতাই আমাদের ফুটবলারদের রয়েছে।’