সাদা-আকাশি জার্সি যেভাবে পেল আর্জেন্টিনা 

২৭ জুন ২০২৬, ১২:০৫ AM , আপডেট: ২৭ জুন ২০২৬, ১২:০৭ AM
আর্জেন্টিনার জার্সি

আর্জেন্টিনার জার্সি © সংগৃহীত

ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে পরিচিত ও জনপ্রিয় দৃশ্যগুলোর একটি হলো আর্জেন্টিনার ঐতিহ্যবাহী আকাশি-সাদা ডোরাকাটা জার্সি। মাঠে এই দুই রঙের সমন্বয় যেন লাতিন আমেরিকার দেশটির ফুটবল ঐতিহ্য, জাতীয় গর্ব এবং কোটি ভক্তের আবেগের প্রতিনিধিত্ব করে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই জার্সি শুধু একটি সাধারণ ক্রীড়া পোশাক নয়, বরং আর্জেন্টাইন পরিচয়ের এক অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে।

বিশ্বকাপের দীর্ঘ ইতিহাসে আর্জেন্টিনার সাফল্যের সঙ্গে এই জার্সির সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপ থেকেই দলটি আকাশি-সাদা ডোরাকাটা জার্সি পরে মাঠে নামছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নকশা, ফেব্রিক ও প্রযুক্তিতে নানা আধুনিক পরিবর্তন এলেও এর মূল রঙের ঐতিহ্যকে সব সময়ই অটুট রাখা হয়েছে। বর্তমানে আর্জেন্টিনার জার্সি তৈরি করে বিশ্বখ্যাত জার্মান ক্রীড়া সামগ্রী নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘এডিডাস’। 

১৯৯০ বিশ্বকাপ থেকে দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিষ্ঠানটি আর্জেন্টাইন ফুটবলের অফিশিয়াল পোশাকসঙ্গী বা কিট স্পনসর হিসেবে কাজ করছে। মাঝে অল্প সময়ের জন্য বিরতি থাকলেও দুই পক্ষের এই ঐতিহাসিক সম্পর্ক এখনো অত্যন্ত মজবুত।

চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য উন্মোচিত নতুন জার্সিতেও ধরে রাখা হয়েছে আর্জেন্টিনার সেই চিরায়ত আকাশি-সাদা ডোরাকাটা নকশা। তবে এবার বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে এতে যুক্ত করা হয়েছে দেশটির বিশ্বকাপজয়ী তিনটি স্মরণীয় আসর—১৯৭৮, ১৯৮৬ এবং ২০২২ সালের জার্সির বিভিন্ন ঐতিহাসিক উপাদানের অনুপ্রেরণা। ফলে এই নতুন কিটটি হয়ে উঠেছে অতীতের গৌরব ও বর্তমানের উচ্চাকাঙ্ক্ষার এক অনন্য প্রতীকী মিশ্রণ।

তবে আর্জেন্টিনার জার্সির ইতিহাসে সবচেয়ে রোমাঞ্চকর ও রূপকথার মতো গল্পটি জড়িয়ে আছে ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপে। সেবার মেক্সিকোর অতিরিক্ত তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার কারণে ফুটবলাররা চরম অস্বস্তিতে ভুগছিলেন। কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার মূল জার্সি পরে নামার সুযোগ ছিল না, ফলে তাদের পরতে হতো গাঢ় নীল রঙের দ্বিতীয় বা ‘অ্যাওয়ে’ জার্সি। কিন্তু এডিডাসের সরবরাহ করা সেই জার্সিটি ছিল বেশ ভারী ও মেক্সিকোর গরমের অনুপযোগী।

খেলার মাত্র কয়েক দিন আগে নতুন আরামদায়ক জার্সি বানিয়ে আনার মতো সময় ছিল না। অগত্যা কোচ কার্লোস বিলার্দো তার সহকারী রুবেন মোশেল্লাকে মেক্সিকো সিটির স্থানীয় বাজারগুলো ঘুরে কোনো হালকা নীল রঙের সুতি বা পাতলা জার্সি পাওয়া যায় কি না তা দেখতে পাঠান। মোশেল্লা বাজার থেকে অপেক্ষাকৃত পাতলা দুটি জার্সির নমুনা নিয়ে এলে অধিনায়ক ডিয়েগো ম্যারাডোনা একটির দিকে আঙুল নির্দেশ করে বলেন, ‘এই জার্সি কেটেই আমরা ইংল্যান্ডকে হারাব।’

ব্যস, ম্যারাডোনার পছন্দে সেই সাধারণ দোকান থেকেই তড়িঘড়ি করে আরও ৩৮টি ওই রকম সাধারণ জার্সি কিনে আনা হলো। এরপর রাতারাতি দর্জি ডেকে প্রতিটিতে সেলাই করে বসানো হলো আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের ব্যাজ এবং চকচকে রুপালি রঙের জার্সি নম্বর। ম্যাচের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে তৈরি হওয়া সেই সাধারণ জার্সি গায়েই মাঠে নেমেছিল আলবিসেলেস্তেরা। আর সেই ম্যাচেই জন্ম নিয়েছিল ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত দুই মুহূর্ত—ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ এবং ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’। মেক্সিকোর গলি-ঘুপচি থেকে আনা সেই সাধারণ নীল জার্সিটি এভাবেই রাতারাতি ফুটবল ইতিহাসের অমর এক উপাখ্যানে পরিণত হয়।

এইচএসসিতে ২০২৬-এর বদলে দেওয়া হলো ২০২৫-এর প্রশ্ন, অতঃপর...
  • ১৯ জুলাই ২০২৬
‘কাউন্সিল অব ইউরোপ’— ফুটবলে প্রতারণার দুয়ার খুলেছে ফিফা
  • ১৯ জুলাই ২০২৬
মাসিক ভাতাসহ ইন্টার্নশিপের সুযোগ জ্বালানি ও বিদ্যুৎ গবেষণা …
  • ১৯ জুলাই ২০২৬
বিশ্বকাপ ফাইনালের রেফারি একসময় ছিলেন বাংলাদেশের তৈয়েব হাসান…
  • ১৯ জুলাই ২০২৬
অবকাঠামো ও জনবল সংকটে বুটেক্স ডে-কেয়ার সেন্টার
  • ১৯ জুলাই ২০২৬
নারীর ময়নাতদন্তে নারী ডোম নিয়োগে হাইকোর্টের রুল
  • ১৯ জুলাই ২০২৬