২০২৬ বিশ্বকাপে গড়তে পারে যেসব ঐতিহাসিক রেকর্ড

২৭ মে ২০২৬, ০৯:২১ AM
২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপে গড়তে পারে বেশ কিছু ঐতিহাসিক রেকর্ড

২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপে গড়তে পারে বেশ কিছু ঐতিহাসিক রেকর্ড © এআই সৃষ্ট ছবি

দরজায় কড়া নাড়ছে ফিফা বিশ্বকাপের ২৩তম আসর। আগামী ১১ জুন থেকে গড়াবে দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ। সেই হিসেবে বৈশ্বিক এই মহারণের আর মাত্র ২৬ দিন বাকি। তবে শুধু নতুন ৪৮ দলের ফরম্যাটের কারণেই নয়, বরং একাধিক ঐতিহাসিক রেকর্ড গড়ার সম্ভাবনার কারণেও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে এবারের বৈশ্বিক মহারণ। 

প্রথমবারের মতো তিনটি দেশ যৌথভাবে ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে যাচ্ছে। এ ছাড়া ফুটবল ইতিহাসে ব্যক্তিগত ও দলীয় রেকর্ডের দিক থেকেও অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্টে পরিণত হতে পারে এটি।

নজিরবিহীন রেকর্ডের সামনে মেসি, রোনালদো ও ওচোয়া
নজিরবিহীন এক রেকর্ডের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন লিওনেল মেসি, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এবং গুইলারমো ওচোয়া। ২০২৬ বিশ্বকাপে মাঠে নামলে ইতিহাসের প্রথম ফুটবলার হিসেবে ছয়টি ভিন্ন আসরে খেলার বিশ্বরেকর্ড গড়বেন মেসি-রোনালদো। দুই তারকাই ২০০৬, ২০১০, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপে খেলেছেন। ফলে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠেয় আসরে অংশ নিলে ফুটবল ইতিহাসে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে যাবেন তারা।

অন্যদিকে মেক্সিকোর গোলরক্ষক ওচোয়াও ষষ্ঠ বিশ্বকাপ দলে জায়গা পেতে চলেছেন। তবে পার্থক্য হলো, মেসি ও রোনালদো আগের পাঁচটি বিশ্বকাপেই মাঠে খেলেছেন। কিন্তু ২০০৬ জার্মানি বিশ্বকাপে কোনো ম্যাচে মাঠে নামেননি ওচোয়া।

সর্বোচ্চ গোলদাতার মাইলফলকের দ্বারপ্রান্তে মেসি-এমবাপ্পে
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এখনও সর্বোচ্চ গোলদাতা মিরোস্লাভ ক্লোজ। জার্মান এই স্ট্রাইকারের নামের পাশে ১৬টি গোল আছে। তবে আসন্ন আসরে হুমকির মুখে সেই রেকর্ড। ইতোমধ্যেই বিশ্বমঞ্চে ১৩টি গোলে নাম তুলেছেন লিওনেল মেসি। অন্যদিকে ১২ গোল নিয়ে ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা ফর্ম নিয়েই বিশ্বকাপের ২৩তম আসরে নামবেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। এ ছাড়া ফ্রান্স যদি আরেকবার বিশ্বকাপ তরী পাড়ি দিতে সক্ষম হয়, তবে এমবাপ্পের সামনে ক্লোজের ঐতিহাসিক রেকর্ড ভেঙে দেওয়ার বড় সুযোগ তৈরি হবে।

ইতিহাসের দ্বারপ্রান্তে মেক্সিকো স্টেডিয়াম
এবারের বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়বে মেক্সিকো সিটি স্টেডিয়াম। এটিই হতে যাচ্ছে বিশ্বের প্রথম ভেন্যু, যেখানে তিনটি ভিন্ন বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে, ১৯৭০ ও ১৯৮৬ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী আয়োজনও এই ঐতিহাসিক স্টেডিয়ামে হয়েছিল। পেলে এবং ডিয়াগো ম্যারাডোনার স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে আছে এই স্টেডিয়াম। এবার আরও এক নতুন ইতিহাসের সাক্ষী হতে প্রস্তুত মেক্সিকো সিটির এই আইকনিক স্টেডিয়াম।

রেকর্ডের সামনে দেশম
ফ্রান্সের দিদিয়ের দেশমের সামনে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে সফল কোচ হওয়ার সুযোগ হাতছানি দিচ্ছে। বর্তমানে সবচেয়ে বেশি বিশ্বকাপ জয়ের রেকর্ডটি এখন জার্মান কোচ হেলমুট শোনের দখলে। বিশ্বমঞ্চে ২৫টি ম্যাচ জয়ের ছক কষেছেন তিনি। 

অন্যদিকে ফরাসি কোচ দেশম বিশ্বমঞ্চে ইতোমধ্যেই ১৯টি জয়ে নিজের নাম তুলেছেন। এবারও যদি বৈশ্বিক মহারণে ফ্রান্স দারুণ পারফরম্যান্স করে, তাইলেই ইতিহাসের সর্বাধিক জয় পাওয়া কোচ হয়ে যেতে পারেন দেশম।

রেকর্ডের সামনে ইয়ামাল
সবচেয়ে কম বয়সে ব্যালন ডি’অর জয়ের এখনও রেকর্ড ধরে রেখেছেন রোনালদো নাজারিও। ১৯৯৮ সালে মাত্র ২১ বছর বয়সে পুরস্কারটি জিতেছিলেন ব্রাজিলের এই কিংবদন্তি। তবে ইতোমধ্যেই সেই রেকর্ডের দিকে চোখ রাখছে নতুন প্রজন্ম। 

লামিনে ইয়ামাল, এস্তেভাও এবং দেজিরে দুয়ের মতো তরুণরা এবারের বৈশ্বিক মহারণে দুর্দান্ত পারফর্ম করতে পারলে রোনালদোর রেকর্ড ভেঙে দিতে পারেন। বিশেষ করে বার্সেলোনার তরুণ তারকা ইয়ামাল মাত্র ১৮ বছর বয়সে বিশ্বকাপে খেলতে নামবেন।

রেকর্ডসংখ্যক জয়ে চোখ মেসির
কেবল ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলার রেকর্ডই নয়, বরং বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ জয়ের রেকর্ডও তাড়া করছেন লিওনেল মেসি। এই রেকর্ডটিও মিরোস্লাভ ক্লোজের দখলে। বিশ্বমঞ্চে ১৭টি ম্যাচ জয়ের সঙ্গে জড়িয়ে তার নাম। অন্যদিকে আর্জেন্টিনার হয়ে কাতার বিশ্বকাপ পর্যন্ত ১৬টি ম্যাচে জিতেছেন মেসি। অর্থাৎ আর মাত্র দুটি জয় পেলেই এককভাবে শীর্ষে উঠে যাবেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

আরও পড়ুন: নিশাত-ওয়াসফিয়ার পর এবার এভারেস্ট জয় করলেন নিম্মি

কোর্তোয়ার গোল না হজমের রেকর্ডের হাতছানি
বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম কঠিন এক রেকর্ডের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন থিবো কোর্তোয়া। বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ক্লিন শিটের রেকর্ড বর্তমানে পিটার শিলটন এবং ফ্যাবিয়ান বার্থেজের দখলে। বিশ্বমঞ্চে ১০টি করে ক্লিন শিটের সঙ্গে জড়িয়ে আছেন তারা। অন্যদিকে কোর্তোয়ার ঝুলিতে এখন রয়েছে ৭টি ক্লিন শিট। ২০২৬ বিশ্বকাপে তার সামনে এই রেকর্ডে নাম তোলার হাতছানি।

ঐতিহাসিক রেকর্ডের দ্বারপ্রান্তে মেসি
বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি অ্যাসিস্টের রেকর্ড এখনও ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি পেলের দখলে। তবে লিওনেল মেসিও তার পেছনেই ছুটছেন। কাতার বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর মেসির অ্যাসিস্ট সংখ্যা ৮-এ দাঁড়ায়। অন্যদিকে পেলের নামের পাশে ১০টি অ্যাসিস্ট রয়েছে। এবার আর্জেন্টাইন মহাতারকার সামনে এই রেকর্ড ছিনিয়ে নেওয়ার সুযোগ।

মেসি-এমবাপ্পের সামনে তিন ফাইনাল
বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত কেবল ব্রাজিলিয়ান কাফুই টানা তিনটি ফাইনাল খেলেছেন। তবে মেসি ও এমবাপ্পের সামনে সুযোগ সেই রেকর্ডে ভাগ বসানোর। আর্জেন্টিনার হয়ে মেসি এবং ফ্রান্সের হয়ে এমবাপ্পে; দুজনেই দুটি করে বিশ্বকাপ ফাইনাল মাতিয়েছেন। ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালেও জায়গা করে নিতে পারলে ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি কাফুর পাশে নাম লিখাবেন এই দুই তারকা ফুটবলার।

সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে অর্ধশত পরিবারে ঈদুল আজহা উদযাপন
  • ২৭ মে ২০২৬
বিএনপি সরকারের প্রথম ১০০ দিন কেমন কাটল?
  • ২৭ মে ২০২৬
জিলহজ মাসের ৯ তারিখে রাসূল (সা.) যে দোয়া পড়তেন
  • ২৭ মে ২০২৬
ঠাকুরগাঁওয়ে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে তিন কলেজ শিক্ষার্থীর অকাল মৃ…
  • ২৭ মে ২০২৬
ঈদ যাত্রায় রাজধানীতে পদে পদে ভোগান্তি, নেওয়া হচ্ছে ৪-৫ গুণ …
  • ২৭ মে ২০২৬
বাংলাদেশের হয়ে খেলতে সম্মত ইংল্যান্ডপ্রবাসী ২ ভাই
  • ২৭ মে ২০২৬