কলকাতা

ঘরে বসে পরীক্ষা দেবে শিক্ষার্থীরা, সঠিক মূল্যায়ন নিয়ে প্রশ্ন

০৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৬:০১ PM

© ফাইল ফটো

করোনাভাইরাস সংক্রমণের মধ্যে বাড়িতে বসেই পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরের শিক্ষার্থীরা। বই খুলে পরীক্ষা দেওয়ার পদ্ধতি গ্রহণ করা হলেও তার জন্য কতটা প্রস্তুত রয়েছেন পরীক্ষার্থীরা- এটা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে সংশ্লিষ্টদের।

কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্তরে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নের ক্ষেত্রে ‘ওপেন বুক এক্সাম’ বা বাড়ি থেকে পরীক্ষা দেওয়ার পদ্ধতি আন্তর্জাতিক স্তরে স্বীকৃত। ভারতেও কোনো কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। কিন্তু মোটের উপর এদেশের শিক্ষাক্ষেত্রে অতীতের পদ্ধতিই চলে।

অর্থাৎ পরীক্ষাকেন্দ্রে গিয়ে পরীক্ষার্থী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রশ্নের উত্তর দেন। প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষায় একই ছবি। কিন্তু করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতি পাল্টে দিয়েছে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে বিপুল সংখ্যক ছাত্র-ছাত্রীর পরীক্ষা নেওয়া কষ্টসাধ্য হওয়ায় জোর দেওয়া হচ্ছে ডিজিটাল ব্যবস্থায়।

পরীক্ষা ও ফলপ্রকাশ নিয়ে দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পর রাজ্য সরকার উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে বলেছে, অক্টোবরে পরীক্ষা নিয়ে সেই মাসেই ফল প্রকাশ করতে হবে। কিন্তু একটি কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থীকে অন্য প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষায় বসিয়ে, তাঁদের উত্তরপত্রের বহির্মূল্যায়ন করে এক মাসের মধ্যে ফল বার করা সম্ভব নয়। তাই অনলাইন বা অফলাইন পরীক্ষার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

বুধবার কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ঘোষণা করেছে, তারা পরীক্ষা নেবে ডিজিটাল পদ্ধতিতে। উপাচার্য সোনালী চক্রবর্তী বন্দোপাধ্যায় জানিয়েছেন, স্নাতক স্তরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশ্ন তৈরি করে পাঠাবে কলেজকে। সেই প্রশ্ন কলেজ শিক্ষার্থীদের দেবে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উত্তরপত্র তৈরি করে অনলাইনে জমা দিতে হবে। প্রয়োজনে কেউ অফলাইনে বা কলেজে এসে উত্তরপত্র জমা দিতে পারেন।

উত্তরপত্র মূল্যায়নের ক্ষেত্রে নিয়মে পরিবর্তন আসছে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্ত, কোনো কলেজ সেখানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের খাতা দেখবে। স্নাতকোত্তর স্তরের ক্ষেত্রেও পরীক্ষা গ্রহণে যেমন একই পদ্ধতি নেওয়া হবে, তেমনই উত্তরপত্র মূল্যায়ন করবেন সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগীয় শিক্ষকরা। অর্থাৎ ফলাফলের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার স্বার্থে অন্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের খাতা দেখা বা বহির্মূল্যায়নের সুযোগ থাকছে না।

অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ও পরীক্ষা গ্রহণের পদ্ধতি চূড়ান্ত করতে আলোচনা চালাচ্ছে। সিদো কানহু বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাসমূহের নিয়ামক সুবল দে জানান, তাঁরা এবার পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষাকেন্দ্রে এসে পরীক্ষা দিতে বলবেন না।

বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাসমূহের নিয়ামক অনিন্দ্যজ্যোতি পাল জানিয়েছেন, তাঁরা পদ্ধতি নির্ধারণের জন্য আলোচনা করছেন।

বাড়িতে বসে পরীক্ষা দিলে সব পরীক্ষার্থী বই দেখে উত্তর দেওয়ার সুযোগ পাবে। এই ওপেন বুক এক্সামে কি পরীক্ষার্থীর সঠিক মূল্যায়ন সম্ভব? অধ্যাপকদের সংগঠন ওয়েবকুপার সভাপতি কৃষ্ণকলি বসু বলেন, ‘‘আমরা যখন উন্নত দেশের শিক্ষাদানের পদ্ধতি অনুসরণ করছি, তখন পরীক্ষা পদ্ধতি কেন নেব না। যিনি প্রশ্ন তৈরি করবেন, তাঁকে মাথায় রাখতে হবে, মুখস্থ বিদ্যা বা রেডিমেড নোট কাজে লাগিয়ে যেন উত্তর দেওয়া না যায়। যে পড়ুয়া বিষয়ের গভীরে পড়াশোনা করেছেন, এই পদ্ধতিতে তাঁর সঠিক মূল্যায়ন হবে। তাছাড়া সংক্রমণের সময় পরীক্ষাকেন্দ্রে ছেলেমেয়েদের টেনে আনা নিরাপদ নয়।’’

একই মত আশুতোষ কলেজের বিএ তৃতীয় বর্ষের ছাত্র সম্রাট গোস্বামীর। তিনি বলেন, ‘‘চিরাচরিত ধাঁচে সাধারণ প্রশ্ন হলে মূল্যায়ন ঠিক হবে না। এমন প্রশ্ন করা দরকার যার উত্তর হবে ক্রিটিক্যাল অর্থাৎ বিষয় না বুঝে লেখা যাবে না।’’

কিন্তু যে দেশে শিক্ষা মূলত কোচিং সেন্টার, সাজেশন ও নোটবুক-নির্ভর সেখানে হঠাৎ ওপেন বুক এক্সাম কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্বের অধ্যাপক অভিজিৎ পাঠক এই পদ্ধতিতে পড়ুয়াদের পরীক্ষা নেন।

তিনি বলেন, ‘‘ওপেন বুক এক্সাম-এর জন্য ছাত্রকে প্রস্তুত করতে হলে শিক্ষককে অনেক পরিশ্রম করতে হয়। আমাদের শিক্ষকদের সেই প্রশিক্ষণ নেই, আমরা শর্টকাট নিই। তাই পড়াশোনা এখন গাইডবুকের উপর নির্ভরশীল। এর ফলে ছাত্র-ছাত্রীরা মুঘল সাম্রাজ্যের পতনের দশটি কারণ মুখস্থ করে যায়, এ নিয়ে পর্যালোচনার ক্ষমতা তাদের গড়ে ওঠে না। ব্ল্যাক মানির মতো এটা ব্ল্যাক এডুকেশন। এতে শিক্ষারই অপমান।’’ [সূত্র: ডয়চে ভেলে বাংলা]

জাইমা রহমান চেলসির নারী দলে গোলকিপার হিসেবে সুযোগ পেয়েছিলেন
  • ২২ মার্চ ২০২৬
‘ঈদের নতুন জামা লুকিয়ে রাখতাম’
  • ২২ মার্চ ২০২৬
হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি ইরানের
  • ২২ মার্চ ২০২৬
ব্যক্তিগত জীবন বাদ দিয়ে হলেও শিক্ষায় মনোনিবেশ করতে হবে আমাক…
  • ২২ মার্চ ২০২৬
বিরক্ত হয়ে অনেকে সাংবাদিক পরিচয় দিতে লজ্জা পান: তথ্যমন্ত্রী
  • ২২ মার্চ ২০২৬
ঢাবিতে ছাত্রলীগের বিক্ষোভ, ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে আলটিমেটাম
  • ২২ মার্চ ২০২৬
×
  • Application Deadline
  • April 1, 2026
  • Admission Test
  • April 4, 2026
APPLY
NOW!
UNDERGRADUATE ADMISSION
SUMMER 2026!
NORTH SOUTH UNIVERSITY
Center of Excellence