মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে এবার পাসের হার ৯৯ দশমিক ৮৪ শতাংশ। জিপিএ-৫ প্রাপ্তির হার ৮১ দশমিক ২৯ শতাংশ। সংখ্যায় বাড়লেও শাতাংশের হিসেবে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির হার কমেছে ভিকারুননিসায়। প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ফেরদৌসি বেগম সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছেন।
এবার এসএসসি পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটি থেকে অংশগ্রহণ করেছিল এক হাজার ৮২৬ জন পরীক্ষার্থী। এরমধ্যে পাস করেছে এক হাজার ৮২৩ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে এক হাজার ৪৮২ জন। পাসের হার ৯৯ দশমিক ৮৪ শতাংশ। আর জিপিএ-৫ প্রাপ্তির হার ৮১ দশমিক ২৯ শতাংশ। ভিকারুননিসার মাত্র তিনজন অকৃতকার্য হয়েছে। এর মধ্যে ব্যবসায়ী শাখা থেকে দুইজন ও বিজ্ঞান শাখা থেকে এক জন।
গত বছর ভিকারুননিসায় এক হাজার ৬১২ জন শিক্ষার্থী পাস করেছিল। পাসের হার ছিল ৯৯ দশমিক ৮৮ শতাংশ। আর জিপিএ-৫ পেয়েছিল এক হাজার ৪৪১ জন। জিপিএ-৫ পাওয়ার হার ছিল ৮৯ দশমিক ৫০ শতাংশ। সুতরাং গত বছরের তুলনায় এবার ফলাফল খুব একটা এদিক ওদিক হয়নি।
এসএসসি ফলাফল প্রকাশের পর বাঁধভাঙা উল্লাস করতে থাকে স্কুলের শিক্ষার্থীরা। ফারিয়া নামে এক ছাত্রী বলেন, ‘১০ বছর পর কাঙ্খিত ফলাফল দেখে খুব ভালো লাগছে। ভাবতে পারছি না এতো ভালো রেজাল্ট করতে পেরেছি। আমার এ অর্জন আমার বাবা-মা, শিক্ষক-শিক্ষিকার কঠোর অনুশাসনের ফসল।’
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বলেন, ‘গতবারের তুলনায় সামান্য কম তবে এটাকে খারাপ বলব না। আশা করি সামনে আরও ভালো করবে আমাদের শিক্ষার্থীরা। আর সামান্য খারাপ করলেই যে সব খারাপ হয়ে যাবে এটাতে আমি বিশ্বাসী না।’
শিক্ষকেরা জানান, এই অর্জন পরিবার, বিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীদের কঠোর পরিশ্রমের সমন্বিত ফসল। ফল প্রকাশের কয়েক মুহূর্ত পর থেকেই শিক্ষা জীবনের অন্যতম সেরা সাফল্যকে উদযাপনে কার্পণ্য ছিল না কারো মধ্যেই। দীর্ঘ সময় ধরে পরীক্ষা দেওয়া ও ভালো ফলাফলে উল্লাসের শেষ তাদের মধ্যে।’
আজ সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশ করেন। এবার পাশের হার বাড়লেও কমেছে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা।
এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় আটটি সাধারণ এবং মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাবোর্ডে পাসের হার ৮২ দশমিক ২০ শতাংশ। আগের বছর ছিল ৭৭ দশমিক ৭৭ শতাংশ। বেড়েছে ৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ।
এবার জিপিএ-৫ পেয়েছেন এক লাখ পাঁচ হাজার ৫৯৪ জন। আগের বছর ছিল এক লাখ ১০ হাজার ৬২৯জন। শতভাগ পাস করেছে দুই হাজার ৫৮৩টি প্রতিষ্ঠানে। এছাড়া পাশের হার শূণ্য ১০৭টি প্রতিষ্ঠানে।