© টিডিসি ফটো
‘আত্মহনন কখনও সমাধান হতে পারে না। নিজেকে বাচিয়ে রাখতে পারাটাই জীবনের সবচেয়ে বড় সফলতা। মৃত্যুতো নাকের ডগায়। সবকিছুর পরেও বলতে হয়, জীবনটা সুন্দর, প্রচুর পরিমাণে সুন্দর।’ চলতি মাসের দুই তারিখে রাজশাাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রের আত্মহত্যার পর ফেসবুকে এমন স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল নোমান। মাস না পেরোতেই সেই শিক্ষার্থী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
বুধবার রাত ১১টার দিকে সোনাকুড়ের মেস থেকে বায়োকেমিস্ট্রি এন্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের ২য় বর্ষে পড়ুয়া ওই শিক্ষার্থীর শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় একটি সুইসাইড নোটও উদ্ধার করা হয়। তার বাড়ি চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায়। প্রথম সেমিস্টারের পরীক্ষায় প্রথম হয়েছিলেন তিনি।
আরও পড়ুন: বশেমুরবিপ্রবি ছাত্রের আত্মহত্যা, সুইসাইড নোট উদ্ধার
নোমানের আত্মহত্যার পর তার সেই স্ট্যাটাসে অনেকেই মন্তব্য করছেন। মোতাহার হোসেন নামে একজন মন্তব্যের ঘরে লিখেছেন, ‘ভাই শেষ পর্যন্ত আপনি নিজেই আত্নহত্যা করে ফেলছেন। বেঁচে থেকে কি সমস্যা সমাধান করা যেত না? তাহলে আসল সমাধান কি আত্নহত্যা হয়ে দাঁড়াল?’ সীমান্ত খান লিখেছেন, ‘নোমান ভাই আপনি আজ নিজেই আত্মহত্যা করলেন!’
এদিকে, নোমানের রুম থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করা হয়েছে; যেখানে তিনি লিখেছেন, তার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নন। যদিও সুইসাইড নোটটি প্রকাশ করা হয়নি। তবে নাম প্রকাশ না করা শর্তে মেসের এক ছাত্র জানিয়েছেন, ‘সুইসাইড নোটে লিখেছে ওর মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়, ওর একটা অসুখ রয়েছে যেটা সহ্য করতে না পেরে সুইসাইড করেছে। ওর মায়ের কাছে ক্ষমা চেয়েছে, ছোট ভাইয়ের দিকে খেয়াল রাখতে বলেছে। বন্ধুদের অনুরোধ করেছে, ওর ড্রেসগুলো যেনো কুরিয়ার করে পাঠিয়ে দেয়; আর মালামালগুলো যেনো বিক্রি করে দেয়।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. রাজিউর রহমান বলেন, ঘটনাটি শুনে আমি ঘটনাস্থলে যাই। ছেলেটির পরিবারকে জানানো হয়েছে। নোমানের বন্ধুরা জানান, নোমান মানসিকভাবে কিছুটা অসুস্থ ছিল। বেশ কয়েকবার চিকিৎসাও করানো হয়। তবে আজ তার আচরণ স্বাভাবিক ছিল। আজকেও মেসের বাজার করেছে। নামাজও পড়েছে।