পাবিপ্রবির দুই ছাত্রী হলে নেই ক্যান্টিন—খাবার-পণ্য কিনতে ভোগান্তি, রাতে নিরাপত্তা ঝুঁকি

১৭ আগস্ট ২০২৬, ১২:৪৩ PM
পাবিপ্রবির মাতৃভাষা ও গণতন্ত্র হল

পাবিপ্রবির মাতৃভাষা ও গণতন্ত্র হল © টিডিসি সম্পাদিত

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) নারী শিক্ষার্থীদের জন্য দুটি আবাসিক হল থাকলেও সেখানে নেই কোনো ক্যান্টিনের ব্যবস্থা। ফলে প্রায় এক হাজার ২৫০ জন আবাসিক শিক্ষার্থীর প্রয়োজনীয় খাবার ও অন্যান্য সামগ্রী কিনতে হলের বাইরে যেতে হচ্ছে। বিশেষ করে রাতে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ঝুঁকির পাশাপাশি ভোগান্তিতে পড়ছেন আবাসিক শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নারী শিক্ষার্থীদের আবাসিক সুবিধার জন্য মাতৃভাষা ও গণতন্ত্র নামে দুটি হল রয়েছে। এর মধ্যে মাতৃভাষা হল বিশ্ববিদ্যালয়ের শুরু থেকেই চালু থাকলেও গণতন্ত্র হল চালুরও এক বছর পেরিয়ে গেছে। দুটি হলেই আবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য ডাইনিংয়ের ব্যবস্থা থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনো ক্যান্টিন চালু করা হয়নি।

শিক্ষার্থীরা জানান, হলের ডাইনিং চালু থাকলেও প্রতিদিনের প্রয়োজন অনুযায়ী সব সময় সেখান থেকে খাবার সংগ্রহ করা সম্ভব হয় না। বিশেষ করে ডাইনিংয়ের খাবারের মান নিয়ে তাদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। ফলে অনেক সময় বাইরে থেকে খাবার বা প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতে হয়। কিন্তু হলের গেট নির্ধারিত সময়ের পর বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রাতে বাইরে গিয়ে এসব প্রয়োজনীয় জিনিস কেনার সুযোগ থাকে না।

আবাসিক শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, রাতে হঠাৎ কোনো প্রয়োজনীয় খাবার বা নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনার প্রয়োজন হলে তারা চাইলেও হল থেকে বের হতে পারেন না। ফলে ছোটখাটো প্রয়োজন মেটাতেও তাদের পরদিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। শিক্ষার্থীদের মতে, হলের ভেতরে ক্যান্টিন থাকলে এ সমস্যা অনেকটাই কমে আসত।

হলের ডাইনিং চালু থাকলেও প্রতিদিনের প্রয়োজন অনুযায়ী সব সময় সেখান থেকে খাবার সংগ্রহ করা সম্ভব হয় না। বিশেষ করে ডাইনিংয়ের খাবারের মান নিয়ে তাদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। ফলে অনেক সময় বাইরে থেকে খাবার বা প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতে হয়। কিন্তু হলের গেট নির্ধারিত সময়ের পর বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রাতে বাইরে গিয়ে এসব প্রয়োজনীয় জিনিস কেনার সুযোগ থাকে না।

গণতন্ত্র হলের আবাসিক শিক্ষার্থী হুমায়রা হিসাব বলেন, ‘মেয়েদের হলে ক্যান্টিন না থাকায় বাধ্য হয়ে প্রয়োজনীয় অনেক ছোটখাটো জিনিসপত্র কিনতেও বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের বাইরের দোকানগুলোতে যেতে হয়। এতে শুধু সময়ের অপচয়ই নয়, ক্লাস, পড়াশোনা ও অন্যান্য অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমের মাঝেও প্রয়োজনীয় জিনিসের জন্য বাইরে যেতে হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘সন্ধ্যার পর বা জরুরি প্রয়োজনে খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহ করতে গিয়ে বাড়তি ভোগান্তিতে পড়তে হয়। একটি আবাসিক হলে ক্যান্টিন থাকা শিক্ষার্থীদের মৌলিক প্রয়োজনের অংশ। তাই দ্রুত মেয়েদের হলগুলোতে স্বাস্থ্যসম্মত ও সাশ্রয়ী মূল্যের ক্যান্টিন চালুর বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ কামনা করছি।’

গণতন্ত্র হলের আরেক আবাসিক শিক্ষার্থী কণিকা দেবনাথ বলেন, ‘হলের একজন আবাসিক শিক্ষার্থী হিসেবে ক্যান্টিন না থাকায় আমাদের প্রতিনিয়ত নানা ধরনের ভোগান্তির মুখোমুখি হতে হয়। অনেক সময় ডাইনিংয়ের খাবার মানসম্মত না হওয়ায় কিংবা পর্যাপ্ত খাবার না থাকায় ইচ্ছা থাকলেও খাওয়া সম্ভব হয় না। বিশেষ করে রাতে হঠাৎ ক্ষুধা লাগলে বা হালকা কোনো খাবার কিংবা স্ন্যাক্স খেতে চাইলে হলের ভেতরে কোনো বিকল্প ব্যবস্থা নেই।‘

আরও খবর: সড়ক বিভাজকে সজোরে ধাক্কা ইবির বাসের, প্রাণে বাঁচলেন ২৫ শিক্ষার্থী

ফলে প্রয়োজনীয় খাবারের জন্য শিক্ষার্থীদের হলের বাইরে যেতে হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এটি রাতে বিশেষভাবে অসুবিধাজনক। একটি ক্যান্টিন বা ছোট খাবারের দোকান থাকলে শিক্ষার্থীরা সহজেই প্রয়োজন অনুযায়ী খাবার সংগ্রহ করতে পারতো। তাই আবাসিক শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি নিরসনে নারী হল দুটিতে দ্রুত ক্যান্টিন চালুর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।’

মাতৃভাষা হলেন আবাসিক শিক্ষার্থী ফারহানা ইয়াসমিন টিনা বলেন, ‘পাবিপ্রবির মাতৃভাষা হলে দীর্ঘদিন ধরে কোনো ক্যান্টিন নেই। এখানে অনেক সিনিয়র শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীরা থাকেন। ডাইনিংয়ের খাবার সবসময় ভালো লাগে না, তখন চা, নাস্তা বা হালকা কিছু খেতে ইচ্ছা করে। কিন্তু সেজন্য প্রতিবার বাইরে দোকানে যাওয়া সম্ভব হয় না, বিশেষ করে রাতে।’

তিনি আরও বলেন, ‘অনেক সময় পড়াশোনার ব্যস্ততা বা অসুস্থতার কারণেও বাইরে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তাই শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন প্রয়োজনের কথা বিবেচনা করে মাতৃভাষা হলে একটি ক্যান্টিন থাকা জরুরি। এতে হলের শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে।’

এ বিষয়ে মাতৃভাষা হলের প্রভোস্ট ড. রেবেকা সুলতানা রেখা বলেন, ‘নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেছি। এ সময় শিক্ষার্থীরা হলের বিভিন্ন সমস্যা ও প্রয়োজনীয়তার বিষয়গুলো আমাকে জানিয়েছেন। বিষয়গুলো সম্পর্কে আমি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবগত করেছি। একইসঙ্গে হলের স্টেশনারি শপের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও প্রশাসনকে জানিয়েছি। আশা করছি, খুব দ্রুতই এসব সমস্যার সমাধান হবে।’

ইরানকে হয়তো ধ্বংস করে দেওয়া হবে, শিগগিরই জানতে পারবেন: ট্রা…
  • ০৬ নভেম্বর ২০২৬
দেয়ালে ‘জয় বাংলা’, ‘ফিরছি আবার ডিসেম্বরে’ স্লোগান, তদন্তে স…
  • ০৬ নভেম্বর ২০২৬
ট্রেইনার নিয়োগ দেবে সিসিপ, আবেদন ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত
  • ০৬ নভেম্বর ২০২৬
খুতবা না শুনলেও কি আদায় হবে জুমার নামাজ?
  • ০৬ নভেম্বর ২০২৬
অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর পদত্যাগ করলেন প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট
  • ০৬ নভেম্বর ২০২৬
এনসিপির নাহিদরা কেন আমার স্ত্রী দাবি করা মহিলার প্রতি এতটা …
  • ০৬ নভেম্বর ২০২৬
×
NORTH SOUTH
UNIVERSITY Center of Excellence
UNDERGRADUATE
ADMISSION
SPRING 2027
APPLY NOW
APPLICATION DEADLINE
NOVEMBER 22, 2026
ADMISSION TEST
NOVEMBER 28, 2026
WORLD RANKINGS 2027#801-1000
WORLD RANKINGS 2027#901-950