রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় © সংগৃহীত
ডিজিটাল বাংলাদেশ ও স্মার্ট ক্যাম্পাসের স্লোগান থাকলেও রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) অনলাইন পেমেন্ট সিস্টেম চালুর বিষয়টি এখনো ফাইলবন্দি। প্রায় দেড় বছর ধরে শিক্ষার্থীরা ক্যাশলেস ক্যাম্পাসের দাবি জানিয়ে এলেও বাস্তবায়নের ধীরগতিতে বাড়ছে ক্ষোভ। প্রচণ্ড গরমে ব্যাংকের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ফি জমা দিতে গিয়ে একাডেমিক ও শারীরিকভাবে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রচণ্ড দাবদাহের মধ্যে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে রেজিস্ট্রেশন, পরীক্ষা বা হলের ফি জমা দেওয়া একটি প্রযুক্তিভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বেমানান। এমনকি লাইব্রেরির মাত্র ১৫ থেকে২০ টাকা জরিমানার জন্যও দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হয়। ২০২৪ সালের আগস্টে উত্থাপিত ১২ দফা দাবির অন্যতম ছিল এই ক্যাশলেস পেমেন্ট। কিন্তু বারবার আশ্বাস সত্ত্বেও দৃশ্যমান অগ্রগতি সামান্যই।
আইসিটি সেল সূত্রে জানা গেছে, জনবল-সংকট ও পুরোনো সফটওয়্যার মেইনটেইন করতে গিয়ে কাজের গতি কমেছে। আইসিটি সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. সামিউল হাবিব জানান, থার্ড পার্টি চুক্তিগুলোর মেয়াদ শেষ হওয়ায় কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছিল। তবে বর্তমানে ‘হল অটোমেশন’ সফটওয়্যারের কাজ চলছে, যা সফল হলে অনলাইন পেমেন্ট চালু করা সম্ভব হবে।
আরও পড়ুন: ফ্লোরিডায় বাংলাদেশি ছাত্র-ছাত্রী হত্যার ঘটনায় ডেইলি ক্যাম্পাসকে যা বলল যুক্তরাষ্ট্র পুলিশ
ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের তত্ত্বাবধানে বর্তমানে একটি পাইলট প্রজেক্ট চলমান। এর আওতায় স্থাপত্য বিভাগের প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থীর তথ্য ‘রুপালী ক্যাশ’ অ্যাপে সংযুক্ত করা হয়েছে। এই ধাপ সফল হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭০০০ শিক্ষার্থীকে এর আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
উদ্যোগটি ইতিবাচক হলেও এর মন্থর গতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থীরা। ইইই বিভাগের শিক্ষার্থী সাব্বির আহমেদ জানান, সামান্য ফি বা জরিমানার জন্য দীর্ঘ সময় নষ্ট হওয়া অত্যন্ত হতাশাজনক। এ ছাড়া অনলাইন পেমেন্ট করলেও তার প্রিন্টেড কপি বিভাগে জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা ডিজিটাল ব্যবস্থার সুফলকে সীমিত করে দিচ্ছে।
শিক্ষার্থীরা মনে করেন, কাগজপত্রের ঝামেলামুক্ত একটি পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম চালু করাই এখন সময়ের দাবি। প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও ভোগান্তি নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ডিজিটাল ক্যাম্পাসের স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাবে।