প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে হাবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা: ছাত্রসংসদ, অ্যালামনাই নেটওয়ার্কসহ পাঁচ দাবি

০৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৪১ PM
হাবিপ্রবির শিক্ষার্থী

হাবিপ্রবির শিক্ষার্থী © টিডিসি ফটো

উত্তরবঙ্গের বাতিঘর খ্যাত হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি) আজ (৮ এপ্রিল) পদার্পণ করছে তার গৌরবের নতুন বছরে। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে কৃষি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রসারে এই বিদ্যাপীঠ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কুড়িয়েছে অসামান্য খ্যাতি। হাজারো শিক্ষার্থীর পদচারণায় মুখরিত এই ক্যাম্পাসের বাঁকে বাঁকে মিশে আছে শত শত সাফল্যগাথা। তবে এই উৎসবের আমেজেও প্রাপ্তির খাতার পাশাপাশি দীর্ঘদিনের কিছু অমীমাংসিত `অপ্রাপ্তি' সাধারণ শিক্ষার্থীদের মনে আক্ষেপের জন্ম দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের এই আনন্দঘন মুহূর্তে শিক্ষার্থীরা তাদের প্রাপ্তির হিসাবের পাশাপাশি তুলে ধরেছেন কিছু প্রাণের দাবি। তাদের চাওয়া, সব অপ্রাপ্তি ঘুচিয়ে প্রিয় ক্যাম্পাস হয়ে উঠুক আগামীর জন্য আরও আধুনিক ও শিক্ষার্থীবান্ধব। শিক্ষার্থীদের সেইসব দাবী ও প্রত্যাশা তুলে ধরেছেন দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস এর হাবিপ্রবি প্রতিনিধি রিয়া মোদক। 

শিক্ষার্থী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে ছাত্রসংসদের বিকল্প নেই
২৫ বছর পূর্তির এই সময়ে শিক্ষার্থীদের অন্যতম বড় প্রত্যাশা একটি কার্যকর ও গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ প্রতিষ্ঠা। একটি সক্রিয় ছাত্রসংসদ শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি তুলে ধরার প্রাতিষ্ঠানিক প্ল্যাটফর্‌ম হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু ছাত্রসংসদ না থাকায় বিভিন্ন একাডেমিক ও অবকাঠামোগত সমস্যা সমাধানে শিক্ষার্থীদের কার্যকর প্রতিনিধিত্ব অনুপস্থিত। ফলে ক্যাম্পাসের অনেক সংকট দ্রুত সমাধান সম্ভব হয় না।

তবুও আশা হারিয়ে যায়নি। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ থাকলে এসব অপ্রাপ্তি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। তাই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই মুহুর্তে হওয়া উচিত আত্মসমালোচনা, নতুন পরিকল্পনা এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়নের প্রত্যয় গ্রহণের সময়। আমাদের প্রত্যাশা—আগামী দিনে ছাত্রসংসদ প্রতিষ্ঠা, উন্নত গবেষণা পরিবেশ এবং আধুনিক সুযোগ–সুবিধা নিশ্চিত করে হাবিপ্রবি সত্যিকার অর্থে একটি আদর্শ বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হবে।

এটিএম ছিফাতুল্লাহ, কৃষি অনুষদ ২২ ব্যাচ 

ক্যারিয়ারের সেতুবন্ধনে চাই ‘অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন’
​কনভোকেশনের সময় প্রাক্তন ও বর্তমানদের মিলনমেলায় ক্যাম্পাস মুখরিত হলেও, ক্যারিয়ারের বন্ধুর পথে বড় ভাইবোনদের এই সাহচর্য আমরা সারা বছর পাই না। চাকরির বাজারে প্রবেশের আগে সঠিক দিকনির্দেশনার অভাবে অনেক গ্রাজুয়েট হতাশ হয়ে পড়েন। অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শক্তিশালী অ্যালামনাই নেটওয়ার্ক থাকায় তারা চাকরি বা ইন্টার্নশিপে যে সুবিধা পায়, হাবিপ্রবি শিক্ষার্থীরা তা থেকে বঞ্চিত। সিনিয়র-জুনিয়রদের এই দূরত্বের দেয়াল ভাঙতে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য ও নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করতে একটি সুপ্রতিষ্ঠিত ‘অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন’ এখন সময়ের দাবি।

 মো. মনিরুজ্জামান, ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং বিভাগ ২৪ ব্যাচ

​স্বাস্থ্য সুরক্ষায় চাই আধুনিক ‘মেডিকেল সেন্টার’
​বিশ্ববিদ্যালয় দিবস আমাদের গর্বের প্রতীক, কিন্তু এই গর্ব পূর্ণতা পাবে শিক্ষার্থীদের মৌলিক অধিকার সুনিশ্চিত হলে। একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আমি মনে করি, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু অনেকাংশেই অবহেলিত একটি দিক হলো মেডিকেল সেন্টার। প্রতিদিন অসংখ্য শিক্ষার্থী বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভোগে, কিন্তু প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধা, পর্যাপ্ত ওষুধ এবং দক্ষ জনবলের অভাবে অনেকেই যথাযথ সেবা থেকে বঞ্চিত হয়।বিশ্ববিদ্যালয় একটি পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে শুধুমাত্র একাডেমিক উন্নয়ন নয়, শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার দিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

মেডিকেল সেন্টারের উন্নয়নে কার্যকর ও স্থায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক। আমাদের প্রশাসনের কাছে দাবি—মেডিকেল সেন্টারকে আধুনিক যন্ত্রপাতি, প্রয়োজনীয় ওষুধ,  ২৪ ঘণ্টা জরুরি সেবা ও পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা দিয়ে সমৃদ্ধ করা হোক। কারণ, একটি সুস্থ শিক্ষার্থী সমাজই শক্তিশালী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তি।

সাদিকা জামান, ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগ ২৪ ব্যাচ

​সৃজনশীলতার বিকাশে চাই ‘মুক্তমঞ্চ’
বিশ্ববিদ্যালয় মানেই মুক্ত চিন্তা ও সংস্কৃতির বিকাশ। কিন্তু আমাদের অনেক আয়োজনই এখন সীমাবদ্ধ গণ্ডিতে আটকে থাকে। বিশ্ববিদ্যালয় দিবসকে আরও প্রাণবন্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে একটি ‘মুক্তমঞ্চ’ অত্যন্ত জরুরি। এটি হবে শিক্ষার্থীদের ভাবনা ও সৃজনশীলতা প্রকাশের স্বাধীন প্ল্যাটফর্‌ম; যেখানে গান, কবিতা আর আড্ডায় গড়ে উঠবে গণতান্ত্রিক চর্চার পরিবেশ। প্রশাসনের কাছে জোর দাবি—স্থায়ী একটি মুক্তমঞ্চ করা হোক, যাতে প্রতিটি শিক্ষার্থী নিজের প্রতিভাকে সবার সামনে তুলে ধরতে পারে।এটি কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক চর্চা এবং পারস্পরিক বন্ধন দৃঢ় করার একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে।​ প্রকৃত বিশ্ববিদ্যালয় চেতনা তখনই বিকশিত হয়, যখন ভিন্নমত ও সৃজনশীলতা প্রকাশের অবাধ সুযোগ থাকে। 

মো. সৌরভ আহমেদ, ইসিই বিভাগ ২৩ ব্যাচ

​শিক্ষার মান নিশ্চিতে ‘Teacher Quality Evaluation System’ চাই 
​বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃত উন্নয়ন নির্ভর করে ক্লাসরুমের পঠন-পাঠনের ওপর। শিক্ষকদের ক্লাস নেওয়ার ধরন, সময়ানুবর্তিতা এবং শিক্ষার্থীদের সাথে তাদের একাডেমিক যোগাযোগের বিষয়ে একটি স্বচ্ছ মূল্যায়ন পদ্ধতি থাকা প্রয়োজন। সেমিস্টার শেষে শিক্ষার্থীদের গোপন ফিডব্যাক এবং নিয়মিত একাডেমিক রিভিউর মাধ্যমে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গেলে শিক্ষার মান বহুগুণ বেড়ে যাবে। মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে শিক্ষকতার মান যাচাই ব্যবস্থা দ্রুত কার্যকর করা হোক।

সানোয়ার হোসেন শয়ন, সিএসই অনুষদ ২২ ব্যাচ

গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ধারাবাহিক কর্মসূচি ঘোষণা এনস…
  • ০৮ এপ্রিল ২০২৬
যুক্তরাজ্যের বিসিআইয়ের সদস্য পদ পেল বাংলাদেশ ব্যাংক
  • ০৮ এপ্রিল ২০২৬
ছাত্রীদের ফুটবল খেলার ভিডিও ধারণ নিয়ে বিএনপি নেতার ছেলের তু…
  • ০৮ এপ্রিল ২০২৬
কোনদিন অনলাইন ক্লাস, কোনদিন অফলাইন—পরিকল্পনা জানালেন শিক্ষা…
  • ০৮ এপ্রিল ২০২৬
শিক্ষকদের বৈশাখী ভাতার ১৮১ কোটি টাকা ছাড়, পাবেন যেদিন
  • ০৮ এপ্রিল ২০২৬
বিসিবি নির্বাচন নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিনকে জবাব দ…
  • ০৮ এপ্রিল ২০২৬
close