রুয়েট শিক্ষার্থীদের মানবিক কর্মসূচি © টিডিসি
নতুন বছরের প্রথম দিনটি চিরাচরিত রূপে সবাই শুরু করতে চায় উদযাপনের মাধ্যমে। সেই উদযাপন অনেক সময় কেবল নিজের আনন্দ ও ব্যস্ততার মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকে। তবে সেই গণ্ডি পেরিয়ে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) শিক্ষার্থীরা নতুন বছরের প্রথম দিনটি পালন করেছেন মানবিক পদক্ষেপ নিয়ে, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে।
গত ১ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) রুয়েটের মানবিক ক্লাব সোপানের তত্ত্বাবধানে শিক্ষার্থীরা রাজশাহী শহরের বিভিন্ন এলাকায় মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন। কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাস্তার অসহায় ও অবহেলিত ছিন্নমূল মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ করেন তারা। পাশাপাশি পথশিশুদের হাতে তুলে দেওয়া হয় চকলেট, যেন নতুন বছরের প্রথম দিনে তারা কিছুটা হলেও আনন্দ ও হাসির মুহূর্ত পায়।
আয়োজক শিক্ষার্থীরা জানান, নতুন বছরের শুরুতেই মানবিক দায়িত্ববোধ জাগ্রত করাই ছিল কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য। ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা চর্চার মাধ্যমে একটি মানবিক সমাজ গড়ে তোলার প্রত্যয় থেকেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
রুয়েট শিক্ষার্থীদের এ ধরনের কার্যক্রম ক্যাম্পাস কেন্দ্রিক শিক্ষার পাশাপাশি সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা ও মানবিক চেতনা বিকাশে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, অন্যদের সাথে আনন্দ ভাগ করে নেয়ার এই ধারা আগামী দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ্য, নতুন বছরের এই মানবিক উদ্যোগের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরেই সামাজিক ও মানবসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে রুয়েটের সংগঠন সোপান। প্রকৌশল শিক্ষার সাথে শিক্ষার্থীদের মূল্যবোধ চর্চায় উদ্বুদ্ধ করতে সংগঠনটি নিয়মিতভাবে ত্রাণ বিতরণ, খাদ্য ও ইফতার সামগ্রী বিতরণ, এতিমখানায় সহায়তা এবং দুর্যোগকালে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এর আগে গত ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে সোপানের স্বেচ্ছাসেবীরা রাজশাহী শহরের বিভিন্ন এলাকায় শীতবস্ত্র বিতরণ করেন।
সোপানের স্বেচ্ছাসেবীরা জানান, প্রকৌশল শিক্ষার সাথে সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ, সহমর্মিতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি গড়ে তোলাই সংগঠনটির মূল লক্ষ্য। শীত, দুর্যোগ কিংবা সামাজিক সংকটে মানুষের পাশে দাঁড়াতে রুয়েট শিক্ষার্থীদের এই সম্মিলিত উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।