বিএমবি বিভাগের অকটেট-৮ ব্যাচের শিক্ষার্থী © সংগৃহীত
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) লাইফ সায়েন্স অনুষদের বায়োকেমেস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি (বিএমবি) বিভাগের অকটেট-৮ ব্যাচটি নির্ধারিত সময়ের আগেই চার বছর মেয়াদি স্নাতক সম্পন্ন করে নজির স্থাপন করেছে।
বিভাগীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ৪ঠা এপ্রিল শুরু হওয়া চার বছর মেয়াদি স্নাতক কোর্সটি ২০২৬ সালের ৪ঠা মার্চ মাত্র ৩ বছর ১১ মাসেই সম্পন্ন করে এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে বিভাগটি। বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১২ সালে যাত্রা শুরু করা বিভাগটিতে বর্তমানে ১২তম ব্যাচ চলমান। এছাড়াও স্নাতকে ৫টি ও স্নাতকোত্তরে আরও ২টি ব্যাচ চলমান রয়েছে।
এ বিষয়ে বায়োকেমেস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আছাদুজ্জামান শিকদার জানান, ‘প্রতিবার যেমনটি হয় চতুর্থ বর্ষ, দ্বিতীয় সেমিস্টারের ফাইনাল পরীক্ষা শেষ হবার পরও স্নাতকের রিসার্চ প্রজেক্টের কাজটি বাকি থাকে, সেই জন্য চার বছরের স্নাতক কোর্সটি সম্পন্ন করতে শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত আরো পাঁচ-ছয় মাস কেটে যায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিষয়টি মাথায় রেখেই এবার কোর্স কারিকুলাম অনুযায়ী আমরা চতুর্থ বর্ষ, প্রথম সেমিস্টার থেকেই রিসার্চ প্রজেক্টের কাজটি শুরু করেছিলাম, যেটি এই সেমিস্টারে (চতুর্থ বর্ষ, দ্বিতীয় সেমিস্টার) শিক্ষার্থীদের চাপ অনেক কমিয়েছে এবং তারা শুধুমাত্র ফাইনাল লিখিত পরীক্ষা ও ডিফেন্স দিয়ে নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই তাদের স্নাতক কার্যক্রম সম্পন্ন করেছেন। এক্ষেত্রে বিভাগীয় শিক্ষকদের অবদান অনস্বীকার্য।’
বায়োকেমেস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের সদ্য স্নাতক সম্পন্ন করা শিক্ষার্থী শাফিদা জারিন জানান, 'আমাদের বিভাগের অনার্স ফাইনাল পরীক্ষা সবার আগে শেষ হওয়ায় আমরা সত্যিই অনেক আনন্দিত ও গর্বিত। সাধারণত বিভিন্ন কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমে দেরি হয়ে যায় কিন্তু আমাদের বিভাগের শিক্ষকগণের আন্তরিক প্রচেষ্টা, সঠিক পরিকল্পনা এবং বিভাগের শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশের কারণে আমরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আমাদের অনার্স সম্পন্ন করতে পেরেছি।'
তিনি আরো বলেন, ‘এই অর্জন পুরো বিভাগের জন্যই একটি বড় সাফল্য। কারণ সময়মতো অনার্স শেষ করতে পারা আমাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা যেমন মাস্টার্সে ভর্তি, উচ্চশিক্ষা বা চাকরির প্রস্তুতি, সবকিছুকে আরও সহজ করে দিয়েছে। এর ফলে আমরা নতুন লক্ষ্য নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছি।’
বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী মারুফ হাসান জানান, 'আমাদের অনার্স কোর্স, যা সাধারণত ৪ বছরের হয়ে থাকে, তা মাত্র ৩ বছর ১১ মাসেই সম্পন্ন হলো। এই অসাধারণ সাফল্যের পিছনে রয়েছেন আমাদের প্রিয় শিক্ষকগণ। তাদের অক্লান্ত পরিশ্রম, অসীম ধৈর্য, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, উদ্ভাবনী শিক্ষণ পদ্ধতি। স্যারদের আমাদের প্রতি এই অটুট বিশ্বাসের জন্য হৃদয়ের গভীর থেকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। এই সময় সংক্ষেপণ আমাদের উচ্চশিক্ষা গ্রহণের প্রক্রিয়া সমূহকে আরো ত্বরান্বিত ও গতিশীল করবে। চাকরির বাজারে দ্রুত প্রবেশের পথ সৃষ্টির মাধ্যমে আমাদেরকে প্রতিযোগিতায় অনেক ধাপ এগিয়ে রাখবে। এতে পরিবারের উপর চাপ কমবে, এবং আমরা দেশের উন্নয়নে দ্রুত অবদান রাখতে পারব।
এটি শিক্ষাব্যবস্থার এক যুগান্তকারী উদাহরণ হিসেবে থাকবে, এবং পরবর্তী ব্যাচগুলোতে যেন এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকে সেই আশা থাকবে।'
উল্লেখ্য, বিভাগটিতে এ পর্যন্ত মোট ৭টি ব্যাচ স্নাতক ও ৫টি ব্যাচ স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছে।