নাম পরিবর্তনে সনদ বিড়ম্বনায় গোপালগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েটরা
- গোবিপ্রবি প্রতিনিধি
- প্রকাশ: ১১ মার্চ ২০২৫, ০২:১০ PM , আপডেট: ১১ মার্চ ২০২৫, ০২:১০ PM

গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) নাম পরিবর্তনের পর সনদ তুলতে গিয়ে বিভিন্ন জটিলতা ও বিড়ম্বনার সম্মুখীন হচ্ছেন গ্র্যাজুয়েটরা। নাম পরিবর্তনের ফলে সনদ ইস্যু করতে প্রশাসনের গড়িমসি ও সিদ্ধান্তহীনতা, অনার্স ও মাস্টার্সের সার্টিফিকেট দুই দুই নামে দেওয়া, প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন নামে সনদ না দেওয়াসহ বিভিন্ন জটিলতা তৈরি হয়েছে। ফলে গ্র্যাজুয়েটরা বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।
গ্র্যাজুয়েটরা অভিযোগ করে বলেন, সনদ-সংক্রান্ত ইস্যু নিয়ে উপ-উপাচার্য বলতেন যারা আগে পাস করে গেছেন, কিন্তু সনদ ওঠাননি তারা পুরোনো নামেই সনদ পাবেন। কন্ট্রোলার দপ্তর থেকে বলা হয়েছে, যারা সনদ ওঠাননি তারাও নতুন নামে সনদ পাবেন। অন্যদিকে যারা আগের বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে অনার্সের সনদ তুলেছিলেন, তাদের নতুন নামে মাস্টার্সের সনদ দিলেও দিচ্ছে না অনার্সের সনদ। এ ছড়া কোনো দপ্তরেই সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা না থাকায় এবং একে অন্যের ওপর দায় দেওয়ায় বিড়ম্বনায় পড়ছেন গ্র্যাজুয়েটরা।
আরও পড়ুন: ২০ মার্চের মধ্যে জবির দুই ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার ফল
অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রাসেল রাইহান বলেন, ফেব্রুয়ারিতে নাম পরিবর্তনের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ কী নামে হবে, এটা নিয়ে প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয়হীনতা দেখা যায়। ফলে কাউকে আগের নামে, কাউকে বর্তমানে নামে সনদ প্রদান করা হয়। গ্র্যাজুয়েটরা এটা নিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়লে সবাইকে একই নামে সনদ দেওয়ার দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন বরাবর লিখিত আবেদন দেওয়া হয়। পরে উপাচার্য পরীক্ষা নিয়ন্ত্রককে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
ফার্মেসি বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাইনুর রহমান শাহীন বলেন, ‘অনেক জায়গায় সার্টিফিকেটে স্ক্যান কপি এবং ভার্সিটির নাম দুইটা দিয়েই অ্যাপ্লাই করতে হয়। সেখানে দেখা যাবে সার্টিফিকেট এ বশেমুরবিপ্রবি আবার অনলাইনে ভার্সিটির নাম গোবিপ্রবি। এসব এপ্লিকেশন এ শর্টলিস্টেই করবে না। এ ছাড়া ভাইভা বোর্ড এ একই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে দুই নামে দুই সার্টিফিকেট নিয়ে যেতে হবে যেটা অবশ্যই ব্যাড ইম্পাক্ট ফেলবে। সব জায়গায় একটা আইডেন্টি ক্রাইসিসে ফেলে দেবে।’
আরও পড়ুন: ইবিতে বিভাগ সংস্কার নিয়ে মুখোমুখি শিক্ষার্থীদের দুই পক্ষ
এ বিষয়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক গোলাম হায়দার বলেন, ‘১৩ তারিখে প্রজ্ঞাপন জারির পর থেকে নতুন নামেই দিচ্ছিলাম। আগে যেগুলো দেওয়া হয়েছিল, সেগুলো ওই নামে থাকার বিষয়ে প্রজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শিক্ষার্থীরা নতুন নামে সার্টিফিকেট পাওয়ার বিষয়ে আবেদন করার পরিপ্রেক্ষিতে আগামীকাল (১২ মার্চ) একাডেমিক কাউন্সিলের মিটিং আছে, সেখানে বিষয়টি উস্থাপন করা হবে এবং যে সিদ্ধান্ত হয়ে আসবে তার ভিত্তিতেই সনদ দেওয়া হবে।’
এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. হোসেন উদ্দিন শেখরের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি ব্যস্ত আছেন বলে জানান। পরবর্তী সময়ে তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করে আর পাওয়া যায়নি।