যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) © টিডিসি সম্পাদিত
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) এক শিক্ষক ও এক প্রকৌশলীকে পৃথক অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একইসঙ্গে তিনটি বিভাগে পরীক্ষা-সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগে উচ্চতর তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম রিজেন্ট বোর্ডের ১১১তম সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বরখাস্তকৃতরা হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আমজাদ হোসেন এবং প্রকৌশল দপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) মিজানুর রহমান।
রিজেন্ট বোর্ড সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ ডিসেম্বর যশোর কেন্দ্রীয় পোস্ট অফিস থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মকর্তার নাম জালিয়াতি করে তথ্য পাঠাচ্ছিলেন ইইই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আমজাদ হোসেন। পরে ভুক্তভোগী কর্মকর্তার অভিযোগের প্রেক্ষিতে গঠিত ‘ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং’ কমিটির তদন্তে এই ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়। এর প্রেক্ষিতে ইইই বিভাগের এ সহযোগী অধ্যাপককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার আগের অর্জিত ছুটিও বাতিল করা হয়েছে। এই ঘটনায় অধিকতর তদন্তের জন্য রিজেন্ট বোর্ড সদস্য অধ্যাপক ড. মো. আলতাফ হোসেনকে আহ্বায়ক করে একটি উচ্চতর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তর থেকে তথ্য সংগ্রহ ও পাচারের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় প্রকৌশল দপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) মিজানুর রহমানকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগনামার জবাব গ্রহণ ও শুনানির জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের রিজেন্ট বোর্ড সদস্য অধ্যাপক ড. মো. মাহমুদ হাসানকে আহ্বায়ক করে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
রিজেন্ট বোর্ডের সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি বিভাগে পরীক্ষা-সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে আলোচনা করা হয়। বিভাগগুলো হলো—ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই), মার্কেটিং, ফিজিওথেরাপি অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন (পিটিআর)। এসব বিভাগের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে একটি অধিকতর তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
এছাড়া সভার শুরুতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং যবিপ্রবির সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলামের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।