কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর © ফাইল ছবি
কারিগরি শিক্ষকদের স্বেচ্ছায় বদলির জন্য শূন্য পদের তথ্য সংগ্রহের সময় বারবার বাড়ানো হলেও এখনও তা শেষ করতে পারেনি কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর। সারাদেশের অনেক কারিগরি প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠানপ্রধান শূন্য পদের তথ্য দিতে পারেননি। কেউ কেউ সফটওয়্যারেই প্রবেশ করতে পারেননি। ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোর অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে আবারও সময় বাড়ানো হয়েছে। নতুন সময় অনুযায়ী, এই সপ্তাহজুড়েই শূন্য পদের চাহিদা দেওয়া যাবে।
কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, স্বেচ্ছা বদলি কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গত ৬ সেপ্টেম্বর থেকে প্রতিষ্ঠানগুলোর শূন্য পদের তথ্য নেওয়া শুরু হয়। প্রথম দফায় ১২ সেপ্টেম্বর দুপুর ২টা পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়ে অনেক প্রতিষ্ঠান তথ্য দিতে না পারায় পরে সময় বাড়িয়ে ১৭ সেপ্টেম্বর দুপুর ২টা পর্যন্ত করা হয়।
এরপরও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সফটওয়্যারে প্রবেশ করতে না পারা, ই-মেইল ও লগইনসংক্রান্ত জটিলতাসহ নানা সমস্যার কথা জানায়। ফলে শূন্য পদের তথ্য সংগ্রহ পুরোপুরি শেষ করা সম্ভব হয়নি। এসব প্রতিষ্ঠানের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতেই এবার আরও সময় দেওয়া হয়েছে।
দুই হাজারের বেশি কারিগরি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১ হাজার ৪২১টি প্রতিষ্ঠান শূন্য পদের তথ্য জমা দিয়েছে। এখনও অনেক প্রতিষ্ঠান তথ্য না দেওয়ায় বদলির মূল কার্যক্রম শুরু করার আগে শূন্য পদের তথ্য সংগ্রহ শেষ করার চেষ্টা করছে অধিদপ্তর।
শূন্য পদের তথ্য সংগ্রহ হয়েছে ১৪২১টি
অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশের দুই হাজারের বেশি কারিগরি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১ হাজার ৪২১টি প্রতিষ্ঠান শূন্য পদের তথ্য জমা দিয়েছে। এখনও অনেক প্রতিষ্ঠান তথ্য না দেওয়ায় বদলির মূল কার্যক্রম শুরু করার আগে শূন্য পদের তথ্য সংগ্রহ শেষ করার চেষ্টা করছে অধিদপ্তর।
অধিদপ্তর সূত্র বলছে, শূন্য পদের তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই শিক্ষক বদলির পরবর্তী প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে। কোন প্রতিষ্ঠানে কোন পদ ও বিষয়ের কতটি পদ শূন্য রয়েছে, তা সফটওয়্যারে সঠিকভাবে থাকা জরুরি। ফলে তথ্য সংগ্রহ শেষ না করে সরাসরি বদলি কার্যক্রম শুরু করতে চাচ্ছে না অধিদপ্তর।
ই-মেইল ও সফটওয়্যার জটিলতায় ভোগান্তি
শূন্য পদের তথ্য দিতে গিয়ে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান সফটওয়্যারে প্রবেশ করতে পারেনি। কোথাও প্রতিষ্ঠানের ই-মেইল নিয়ে সমস্যা হয়েছে, কোথাও লগইন বা ওটিপি পাওয়া নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে। আবার কিছু প্রতিষ্ঠানে তথ্য মাইগ্রেশনের পর প্রতিষ্ঠান বা বিষয়ের তথ্য সঠিকভাবে প্রদর্শিত না হওয়ার অভিযোগও এসেছে।
এর আগে প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক ই-মেইল ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কোথাও ব্যক্তিগত ই-মেইল ব্যবহার, কোথাও একই ই-মেইল একাধিক ব্যবহারকারীর ক্ষেত্রে ব্যবহারের কারণে লগইন ও ওটিপি-সংক্রান্ত সমস্যা তৈরি হয়।
অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এসব সমস্যা সমাধানে প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তা করা হচ্ছে। যেসব প্রতিষ্ঠানের ই-মেইল বা সফটওয়্যার ব্যবহারে সমস্যা হয়েছে, তাদের তথ্য ঠিক করে দিয়ে শূন্য পদের চাহিদা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
আরও খবর: ঢাবি অধ্যাপককে ভিসি নিয়োগের প্রতিবাদে সেন্ট্রালের শিক্ষার্থীদের সায়েন্সল্যাবে সড়ক অবরোধ
শূন্য পদের তথ্য সংগ্রহ যে কারণে গুরুত্বপূর্ণ
অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের ভাষ্য, কোনো প্রতিষ্ঠানের একটি পদ সফটওয়্যারে শূন্য দেখা গেলেও বাস্তবে ওই পদে একজন শিক্ষক নিয়োগপ্রাপ্ত থাকতে পারেন। তিনি হয়তো এখনও এমপিওভুক্ত হননি। ফলে সফটওয়্যারে তার তথ্য না থাকায় পদটি শূন্য হিসেবে দেখা যেতে পারে।
এ অবস্থায় ওই পদে অন্য কোনো শিক্ষককে বদলি করে দেওয়া হলে একই পদে দুজন শিক্ষক হয়ে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তখন কোনো শিক্ষককে রাখা হবে বা বাদ দেওয়া হবে, তা নিয়ে নতুন জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণেই প্রতিষ্ঠান প্রধানের মাধ্যমে শূন্য পদের বাস্তব তথ্য নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে অধিদপ্তর।
শূন্য পদের তথ্য সংগ্রহ শেষ হওয়ার পর সেগুলো যাচাই করে বদলি কার্যক্রমের পরবর্তী ধাপে যাওয়া হবে। একই সঙ্গে বদলির পর নতুন প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের বেতন-ভাতা দেওয়ার ব্যবস্থাও সফটওয়্যারের মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে। কারণ প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের পর সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বেতন নতুন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দেওয়ার জন্য সফটওয়্যারে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে হবে।
এ বিষয়ে আগের সফটওয়্যার কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় নতুন করে সফটওয়্যার সহায়তার বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সফটওয়্যার-সংক্রান্ত কাজ ও বেতন প্রদানের ব্যবস্থা নিশ্চিত হওয়ার পরই বদলি কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে। তাই শূন্য পদের তথ্য সংগ্রহ শেষ করা এখন বদলি কার্যক্রম শুরুর গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।