শিক্ষা মন্ত্রণালয় © ফাইল ছবি
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সংশোধিত বদলি নীতিমালায় নিজ জেলায় কর্মরত শিক্ষকরা বদলির সুযোগ পাচ্ছেন না। যদিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বদলির সংশোধিত নীতিমালায় নিজ জেলায় কর্মরত শিক্ষকরা বদলির সুযোগ পাচ্ছেন বলে খবর চাউর হয়েছে। তবে এ ধরনের খবরের সত্যতা নেই বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
গত ১৫ জানুয়ারি থেকে ফেসবুকের একাধিক গ্রুপে খবর ছড়িয় পড়ে যে, বদলির সংশোধিত নীতিমালায় নিজ জেলায় কর্মরত শিক্ষকদের বদলির সুযোগ রাখা হয়েছ। মূলত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নাম ব্যবহার করে ফেসবুকের গ্রুপগুলোতে এ সংক্রান্ত তথ্য ছড়িয়ে পরে।
এ তথ্য দিয়ে কয়েকটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে সংবাদ প্রকাশিত হলে বদলির অপেক্ষায় থাকা কয়েক লাখ শিক্ষকের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়ে। তথ্যের সত্যতা জানতে অসংখ্য শিক্ষক দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের অফিস এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদককে কল করেন।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের সাথে এ বিষয়ে আলাপকালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের শীর্ষ এক কর্মকর্তা বলেন, ‘নিজ জেলায় কর্মরত শিক্ষকরা বদলির সুযোগ পাবেন না। এ বিষয়টি আগের মতোই রয়েছে। এখানে কোনো পরিবর্তন করা হয়নি।’
এদিকে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি সফটওয়্যার তৈরির চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) এবং টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের মধ্যে এ সংক্রান্ত চুক্তি সম্পন্ন হয়।
মাউশির একটি সূত্র জানিয়েছে, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি সফটওয়্যার তৈরি হলেও সংশোধিত নীতিমালা জারি হয়নি। নীতিমালা জারি না হওয়া পর্যন্ত বদলি সফটওয়্যার তৈরির কার্যক্রম শুরু করা যাবে না। এজন্য আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। নীতিমালা জারির পর সফটওয়্যারর তৈরির কাজ শুরু হবে।
আরও পড়ুন: বৈশাখাী ভাতা নিয়ে যে সুপারিশ করতে যাচ্ছে পে-কমিশন
জানা গেছে, এনটিআরসিএর সুপারিশে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের আগে বদলির কোনো সুযোগ ছিল না। প্রকাশিত গণবিজ্ঞপ্তিতে আবেদন করে তারা প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের সুযোগ পেতেন। প্রথম থেকে তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তি পর্যন্ত ইনডেক্সধারী শিক্ষকরা এই সুযোগ পেলেও চতুর্থ গণবিজ্ঞপ্তি থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের আবেদন করার সুযোগ বন্ধ করে দেয়।
পরবর্তীতে শিক্ষকদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে বদলি চালুর উদ্যোগ নেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এজন্য একটি বদলি নীতিমালাও প্রণয়ন করা হয়। তবে শিক্ষকদের এক পক্ষের রিট, সফটওয়্যার প্রস্তুত না হওয়া, নীতিমালা সংশোধনসহ একাধিক কারণে এখনো বদলি কার্যক্রম শুরু হয়নি। এ অবস্থায় হতাশা ব্যক্ত করেছেন শিক্ষকরা।