© টিডিসি ফটো
অসচ্ছল পরিবারে জন্ম নেয়ায় পড়াশোনা করা তাদের কাছে এক ধরণের ‘গরিবের ঘোড়া রোগ’- এর শামিল। তবে এ অসাধ্যকে সাধন করার আত্মপ্রত্যয়ে রাস্তায় নেমে উপার্জনে লেগে পড়েছেন একদল শিশু। এক মওসুমে কাজ করে সারাবছরের পড়াশোনার খরচ চালান তারা।
আজ বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি) আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ারের প্রত্যন্ত কিছু এলাকায় চতুর্থ থেকে ষষ্ঠ শ্রেণির ১০-১২ জন ছাত্র পড়াশোনা চালাতে ঝাড়ু বিক্রি করছেন।
সারাবছর যাতে নির্বিঘ্নে স্কুলে পড়াশোনা করা যায়, সে জন্য শুধু পিকনিকের মৌসুমে স্কুল কামাই দিয়ে ঝাড়ু নিয়ে পিকনিক স্পটে ঘুরে বেড়ায় তারা।
জানা গেছে, শীতকালে আলিপুরদুয়ারের ফাসখোয়া, জয়ন্তী ভরে যায় পিকনিকের দলে। আসেন অনেক পর্যটকও। তাদের কাছে ফুল ঝাড়ু বিক্রি করেন স্কুলপড়ুয়া এই ক্ষুদে তারুণ্য।
কথা বলে জানা যায়, তাদের কেউ পড়েন চতুর্থ শ্রেণিতে, কেউ পঞ্চমে। একজন এবারে ষষ্ঠ শ্রেণিতে উঠেছেন। এই সময়ে স্কুলে ছুটি থাকে। কিন্তু স্কুল খুললেও তারা যায় না। রোজগারের চিন্তায় নেমে পড়তে হয় ঝাড়ুর ব্যবসায়।
তারা জানায়, দিনমজুর বাবা-মা পড়ার সব খরচ দিতে পারেন না। তাই তো ঝাড়ু বেচতে হয়।
জানা গেছে, এসব এলাকার বাসিন্দাদের অধিকাংশই অতি দরিদ্র। চা বাগানে কাজ করে তাদের দিন চলে। গত দু’বছর ধরে তারা ঠিক করে নিয়েছে, এই সময়ে ঝাড়ু বেচে আয় করবে। আয়ের টাকা থেকেই কেউ কিনবে একাডেমিক বই, কেউ দেবে হাইস্কুলে ভর্তির খরচ। এই শিশুদের মধ্যে পড়াশোনার এমন আগ্রহ দেখে বিস্মিত হয়েছেন এখানকার পর্যটকেরাও।
কোচবিহারের দিনহাটা থেকে বেড়াতে আসা নীলিমা সেন বলেন, ‘ছেলেগুলোর পড়ার প্রতি আগ্রহ দেখে খুব ভাল লাগছে। তবে প্রশাসনিক কর্মকর্তারাও ওদের কথা ভাবুন। ওদের জন্য এগিয়ে আসুন। না হলে স্থায়ী সমাধান হবে না।’ [সূত্র: আনন্দবাজার]