স্কুল ও অভিযুক্ত শিক্ষকের ছবি © টিডিসি ফটো
সারাদেশে কোচিং ও প্রাইভেট বন্ধে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলনের কঠোর হুঁশিয়ারি থাকলেও ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার আছিম শাহাবুদ্দিন মহাবিদ্যালয়ে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। সরকারি নির্দেশনাকে তোয়াক্কা না করে এই কলেজের একদল শিক্ষক গড়ে তুলেছেন রমরমা কোচিং বাণিজ্য। কলেজের নিয়মিত ক্লাসের পরিবর্তে শিক্ষকদের কোচিংমুখী হওয়ার প্রভাবে প্রতিষ্ঠানটির পাসের হারে বড় ধরনের ধস নেমেছে, যা নিয়ে অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কলেজের অন্তত চারজন শিক্ষক তাদের নির্ধারিত বিষয়ের বাইরে গিয়ে কোচিংয়ে অন্য বিষয় পড়িয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা করছেন। ইতিহাসের শিক্ষক আল আমিন শেখ কলেজের দক্ষিণ পাশে একটি টিনশেড ঘর ভাড়া নিয়ে আইসিটি কোচিং করাচ্ছেন। একই ভবনের অন্য কক্ষে ইংরেজি পড়ান শিক্ষক মো. সালিম। অন্যদিকে, পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষক হিমায়েত হোসেন 'হিমায়েত স্যার সায়েন্স একাডেমি' খুলে বাংলা বাদে প্রায় সব বিষয় পড়াচ্ছেন। এছাড়া কলেজের শ্রেণিকক্ষ ব্যবহার করে সকালে বাংলা পড়ান শিক্ষক শাহাদত হোসেন।
নিজ বিষয়ের বাইরে গিয়ে ভিন্ন বিষয় পড়ানোর বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা কোনো যৌক্তিক উত্তর দিতে পারেননি। একসময় পাসের হারে উপজেলার শীর্ষস্থানে থাকা এই প্রতিষ্ঠানের গৌরব এখন ম্লান হতে বসেছে। সবশেষ এইচএসসি পরীক্ষায় ৫৯৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২২৭ জনই ফেল করেছেন, যাদের বড় অংশই অকৃতকার্য হয়েছেন ইংরেজি ও আইসিটি বিষয়ে। অভিযোগ উঠেছে, এনটিআরসিএ থেকে নিয়োগ পাওয়া একদল শিক্ষক কলেজের নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে কোচিং ব্যবসায় মত্ত থাকায় ক্লাসে পাঠদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার্থীরাও ভোর ৬টায় কোচিংয়ের নামে বাড়ি থেকে বেরিয়ে ক্লাস ফাঁকি দিয়ে বাজারে আড্ডা দিচ্ছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ তুলেছেন।
এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ মকবুল হোসেন বলেন, ইতিহাসের শিক্ষকের আইসিটি পড়ানো কলেজের জন্য চরম বদনাম এবং এটি শিক্ষার্থীদের সাথে বড় ধরনের প্রতারণা। দুই মাস আগেও কোচিং বন্ধের নির্দেশ দিয়ে চিঠি দেওয়া হলেও শিক্ষকরা তা মানেননি।
তিনি আরও জানান, আজই শিক্ষকদের সাথে বসে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং আবারও বিধি অনুযায়ী চিঠি দেওয়ার কথা বলছেন। তবে কেবল চিঠিতেই এই অনিয়ম বন্ধ হবে কি না, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।