শিক্ষার্থীদের বড় আর্থিক প্রণোদনা দিচ্ছে সরকার, জুনিয়র বৃত্তির সংখ্যা বাড়ছে ৯ হাজার

০৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:১৩ AM
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর © ফাইল ছবি

নিম্ন মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষায় ‘জুনিয়র বৃত্তি’র সংখ্যা ২০ শতাংশ বা ৯ হাজার ২৪০ জন বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের অর্থের পরিমাণ দ্বিগুণ করার প্রস্তাব করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। বাজারদরের সাথে সংগতি রেখে তাদের মাসিক ভাতা ও এককালীন অনুদান বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি এ সংক্রান্ত খসড়া প্রস্তাবের সারসংক্ষেপ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। 

জুনিয়র বৃত্তির সংখ্যা বৃদ্ধি ও আর্থিক সুবিধা বাড়ানো সংক্রান্ত সম্ভাব্য বাজেট প্রস্তাব পর্যালোচনা করে তা অর্থ বিভাগের কাছে পাঠানো হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের যুগ্মসচিব (মাধ্যমিক-১ অনুবিভাগ) সাইদুর রহমান এ তথ্য জানিয়েছেন। খবর: বাসস।

এ কর্মকর্তা জানান, মাউশি থেকে বৃত্তির সংখ্যা বৃদ্ধি ও অর্থের পরিমাণ বাড়ানোর প্রস্তাব পাওয়া গেছে। এ সংক্রান্ত প্রস্তাব পর্যালোচনা করা হচ্ছে। প্রস্তাবটি নীতিগত অনুমোদন হলে বাজেট বরাদ্দের জন্য অর্থ বিভাগের অনুমোদন নেওয়া হবে। এ ধরনের একটি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

২০২৫ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর মাউশির সাবেক মহাপরিচালক প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আজাদ খান স্বাক্ষরিত এক প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়, ২০১৫-১৬ অর্থবছরের পর থেকে দীর্ঘ ৯ বছর বৃত্তির হার অপরিবর্তিত রয়েছে। প্রস্তাবনা অনুযায়ী, বর্তমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে তা শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত নয়। তাই মেধাবী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পথ মসৃণ করতে টাকার অঙ্ক দ্বিগুণ করার প্রস্তাব করা হলো। 

একই সঙ্গে সারা দেশে মাধ্যমিক থেকে স্নাতক পর্যন্ত সব স্তরের শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। এজন্য বৃত্তির সংখ্যা বৃদ্ধি এবং বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মাসিক ও এককালীন টাকার পরিমাণ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, জুনিয়র বৃত্তি সংক্রান্ত কার্যবিবরণী অনুচ্ছেদ ৬.০ (৬.২)-এর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বৃত্তির সংখ্যা, অর্থের পরিমাণ ও সম্ভাব্য বাজেটের একটি খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক বি. এম. আব্দুল হান্নান জানান, বর্তমান বাজারদরের সাথে সংগতি রেখে শিক্ষার্থীদের মাসিক ভাতা ও এককালীন অনুদান বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবটি প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়ের (শিক্ষা মন্ত্রণালয়) অনুমোদনের পর অর্থ বিভাগে বাজেট নির্ধারণের জন্য পাঠানো হবে। বাজেট প্রাপ্তির পর বৃত্তির সংখ্যা বৃদ্ধি ও আর্থিক প্রণোদনা বাড়ানোর বিষয়টি কার্যকর করা হবে।

শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন ও ঝরে পড়া রোধে সরকার এ উদ্যোগ নিয়েছে জানিয়ে মহাপরিচালক বলেন, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পথ মসৃণ করতে বর্তমানের চেয়ে আরও অতিরিক্ত ২০ শতাংশ কোটা বৃদ্ধি এবং টাকার অঙ্ক দ্বিগুণ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ৮ম শ্রেণির নতুন বাংলা বই থেকে বাদ শেখ মুজিবের ৭ মার্চের ভাষণ

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সরকারি মাধ্যমিক শাখা জানিয়েছে, শুধু জুনিয়র বৃত্তিই নয়, এসএসসি, এইচএসসি ও স্নাতক পর্যায়ের সরকারি বৃত্তির সংখ্যা ও অর্থের পরিমাণও আনুপাতিক হারে বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে সরকার।

নতুন কাঠামো ও সংখ্যা
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো মাউশির প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, বর্তমানে সারা দেশে ৪৬ হাজার ২০০ জন শিক্ষার্থী সরকারি ‘জুনিয়র বৃত্তি’ পায় থাকেন। এর মধ্যে, ট্যালেন্টপুলে ১৪ হাজার ৭০০ জন এবং ৩১ হাজার ৫০০ জন শিক্ষার্থী সাধারণ কোটায় বৃত্তি পাচ্ছে। এ হার ২০ শতাংশ বাড়িয়ে ৫৫ হাজার ৪৪০ জনে উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৭ হাজার ৬৪০ জন ট্যালেন্টপুলে এবং ৩৭ হাজার ৮০০ জন সাধারণ কোটায় বৃত্তি পাবে।

দ্বিগুণ হচ্ছে অর্থ
খসড়া প্রস্তাবনা অনুযায়ী, ট্যালেন্টপুলে মাসিক ভাতা ৪৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯০০ এবং বার্ষিক এককালীন অনুদান ৫৬০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ১২০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এটি কার্যকর হলে একজন শিক্ষার্থী প্রতি বছর ১১ হাজার ৯২০ টাকা পাবে, যা বর্তমানে ৫ হাজার ৯৬০ টাকা।

সাধারণ কোটায় মাসিক ৩০০ টাকার পরিবর্তে ৬০০ এবং বার্ষিক এককালীন ৩৫০ টাকার পরিবর্তে ৭০০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে একজন শিক্ষার্থীর বার্ষিক সুবিধা ৩ হাজার ৯৫০ থেকে বেড়ে ৭ হাজার ৯০০ টাকা হবে। এ সুবিধা এসএসসি পরীক্ষার আগ পর্যন্ত ২ বছর ভোগ করা যাবে।

খসড়ায় বাজেট প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ বৃত্তির পেছনে সরকারে দুই বছরে ব্যয় হয় ৪২ কোটি ৪০ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। নতুন হার কার্যকর হলে দুই বছরে সরকারের সম্ভাব্য ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় ১০১ কোটি ৭৭ লাখ ৭৭ হাজার ৬০০ টাকা। আগের তুলনায় সরকারের অতিরিক্ত ৫৯ কোটি ৩৭ লাখ ৩ হাজার ৬০০ টাকা বাড়তি প্রয়োজন হবে।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের উপসচিব (সরকারি মাধ্যমিক-২) সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, প্রস্তাবটি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মতি মিললে দ্রুতই এ সংক্রান্ত সরকারি আদেশ (জিও) জারি করা হবে। এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীরা ব্যক্তিগত পড়াশোনার খরচ চালাতে আরও বেশি স্বাবলম্বী হবে এবং ঝরে পড়ার হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।

‎বাহুবলে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর
  • ১৮ মার্চ ২০২৬
দেশের উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি—নুরুল হক নুর
  • ১৮ মার্চ ২০২৬
ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদের ৫ম মৃত্যুবার্ষিকীতে আলোচনা ও দোয়া
  • ১৮ মার্চ ২০২৬
চাঁদপুর-৩ আসনের সাবেক এক এমপি মারা গেছেন
  • ১৮ মার্চ ২০২৬
ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় পোর্টেবল সিগন্যাল লাইট ব্যবহার পুলিশের
  • ১৭ মার্চ ২০২৬
রান্নাঘরে পাশাপাশি ওড়নায় ঝুলছিল মা-মেয়ের লাশ, অতঃপর...
  • ১৭ মার্চ ২০২৬
×
  • Application Deadline
  • April 1, 2026
  • Admission Test
  • April 4, 2026
APPLY
NOW!
UNDERGRADUATE ADMISSION
SUMMER 2026!
NORTH SOUTH UNIVERSITY
Center of Excellence