ডাকসু নির্বাচন

কারচুপি হলে উপাচার্যের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত

২২ জানুয়ারি ২০১৯, ১০:৩৪ PM
ঢাবি উপাচার্য

ঢাবি উপাচার্য

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে যদি কারচুপির ঘটনা ঘটে তাহলে ফলাফল প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে উপাচার্য বরাবর অভিযোগ উপস্থাপন করতে হবে। তবে কোন ব্যক্তি বা সংগঠনের পক্ষ থেকে কারচুপির অভিযোগ আনা হলেও ডাকসুর সভাপতি (পদাধিকার বলে উপাচার্য) যদি নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে বলে মনে না করেন তাহলে এ ক্ষেত্রে আদালতের রায় উপাচার্যের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যাবে না। ডাকসু ও হল সংসদ গঠনতন্ত্র বিশ্লেষণ করে এমনই তথ্য পাওয়া গেছে।

দীর্ঘদিন অকার্যকর থাকা ডাকসু গঠনতন্ত্র পরিমার্জনের জন্য ৫ সদস্যের কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ছাত্র সংগঠনগুলোর সাথে বৈঠকের পর কমিটির পক্ষ থেকে ইতোমধ্যেই গঠনতন্ত্র সংশোধনের জন্য সুপারিশ জমা দেয়া হয়েছে। তবে ডাকসুর সদস্যপদ লাভের নীতিমালা ও কিছু সম্পাদক পদ বৃদ্ধির বাইরে মৌলিক কোন সংশোধনের সুপারিশ কমিটির পক্ষ থেকে করা হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।

আরো দেখুন: অপূর্ণই থাকছে শীর্ষ নেতাদের প্রার্থীতার স্বপ্ন!

ডাকসু গঠনতন্ত্র ৮ এর (এম) এ বলা হয়েছে, ‘নির্বাচন সংক্রান্ত যেকোন অভিযোগ ফলাফল প্রকাশের সুস্পষ্ট তিন দিনের ভেতর সভাপতির নিকট উপস্থাপন করা যাবে এবং সভাপতির সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে। কোন আইনি আদালতের রায় এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যাবে না।’ ডাকসুর গঠনতন্ত্রে উল্লেখিত এমন ধারাকে সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক বলে তা সংশোধনের দাবি করেছে বিভিন্ন সংগঠন। এসব সংগঠনের নেতাদের দাবি, সংবিধানের ৩১নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রের যে কোন নাগরিক যে কোন পরিস্থিতিতে আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার রাখে। কিন্তু আদালতের রায় উপাচার্যের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে না যাওয়ার এমন ধারা সংবিধান পরিপন্থী এবং রাষ্ট্রের কোন প্রতিষ্ঠান সংবিধানের সিদ্ধান্ত লঙ্ঘন করতে পারে না।

প্রগতিশীল ছাত্র জোট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সমন্বয়ক ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি সালমান সিদ্দিকী এ বিষয়ে দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘ডাকসু গঠনতন্ত্রে সভাপতিকে যেসব ক্ষমতা দেয়া হয়েছে তার অনেকগুলো গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রের সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক। আমরা এগুলো সংস্কারের সুস্পষ্ট দাবি জানিয়েছি।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি ফয়েজ উল্লাহও এ বিষয়ে দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসের সাথে কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আমরা ডাকসুর গঠনতন্ত্র থেকে সংবিধান বিরোধী ৮ এর (এম) ধারাসহ কয়েকটি ধারা সংস্কারের দাবি জানিয়েছি। আমরা আশা করব এগুলো সংশোধন করা হবে। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার আগ পর্যন্ত আমরা আমাদের চলমান কর্মসূচি চালিয়ে যাবো এবং সিন্ডিকেটের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পর এসব ধারা যদি সংস্কার করা না হয় তাহলে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা নিয়ে আমাদের পুনরায় ভেবে দেখতে হবে ।’

এদিকে ডাকসু গঠনতন্ত্রের এমন ধারাকে সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক বলে মনে করেন কোটা সংস্কার আন্দোলনের সাথে জড়িত বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতারা। আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খাঁন এ বিষয়ে বলেন, ‘গঠনতন্ত্রে কিছু অসাংবিধানিক ধারা রয়েছে আমরা এগুলো সংস্কারের দাবি জানাই। এর পাশাপাশি আমাদের দাবি থাকবে কেন্দ্রগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো হবে। তাহলে কারচুপি হলে তা ধরা সহজ হবে’।আন্দোলনের আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নুর বলেন, ‘একটি নির্বাচনে বিভিন্ন ধরণের কারচুপি হতে পারে। এগুলোর জন্য শিক্ষার্থীদের আইনি পদক্ষেপ নেয়ার সুযোগ দেয়া উচিত। অন্যথায় আমরা বুঝবো প্রশাসন একটি পাতানো নির্বাচনের আয়োজন করতে যাচ্ছে যাতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করবে না।’

ডাকসু গঠনতন্ত্র সংশোধন ও পরিমার্জন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক মিজানুর রহমান এ বিষয়ে দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘আমরা গঠনতন্ত্র সংশোধনের সুপারিশ ইতোমধ্যেই উপাচার্যের কাছে জমা দিয়ে দিয়েছি। তবে আমরা মৌলিক কোন পরিবর্তনের দিকে যাইনি। এখন এ বিষয়ে সিন্ডিকেটই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন সিদ্ধান্তই উপাচার্য বা কেউ একা নিতে পারে না। আমরা শিক্ষার্থীদের দাবিদাওয়াকে প্রাধান্য দেয়ার সুপারিশ করেছি। এখন সিন্ডিকেটই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তগ্রহণ করবে।’

রাজধানীতে ৫০ লাখ টাকার জাল নোটসহ ৩ কারবারি গ্রেফতার
  • ১৩ এপ্রিল ২০২৬
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে কঠোর নির্দেশনা জারি
  • ১২ এপ্রিল ২০২৬
রাজধানীতে ১১৭টি চোরাই মোবাইলসহ চক্রের সক্রিয় সদস্য গ্রেফতার
  • ১২ এপ্রিল ২০২৬
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ১২ ফুটের ‘কিং কোবরা’ উদ্ধার
  • ১২ এপ্রিল ২০২৬
নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে চমক দেখাল যবিপ্রবি, জাতীয় গ্রিডে যুক্…
  • ১২ এপ্রিল ২০২৬
সরকারি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রো-ভিসিকে ভারপ্রাপ্ত ভিসির দায়…
  • ১২ এপ্রিল ২০২৬