কলেজছাত্রী সুকন্যা কি হারিয়েই গেল?

২০ আগস্ট ২০২২, ০৫:১৫ PM
সংবাদ সম্মেলেন

সংবাদ সম্মেলেন © সংগৃহীত

সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ইয়াশা মৃধা সুকন্যা। প্রায় দুই মাস কেটে গেলেও নিখোঁজ সুকন্যা। গত ২৩ জুন মডেল টেস্ট পরীক্ষা দিতে গিয়ে ‘কলেজ থেকে নিখোঁজ’ হয় সে।

পরীক্ষার নাম করে ছেলেবন্ধুর সঙ্গে গিয়ে নিখোঁজ হয় সুকন্যা। এখনো তার কোনো খবর পায়নি তার পরিবার। শনিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে মেয়েকে জীবিত ফেরত চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন সুকন্যার মা নাজমা ইসলাম লাকী। এ সময় তিনি জানান, পরীক্ষার পর কলেজ থেকে বেরিয়ে ইশতিয়াক নামে এক তরুণের সঙ্গে চলে যায় সুকন্যা। কিন্তু কলেজ থেকে তিনি কীভাবে বের হলেন- এ প্রশ্নের কোনো উত্তর নেই।

সংবাদ সম্মেলনে ওই মেয়ের মা নাজমা বলেন, লন্ডন প্রবাসীর স্ত্রী নাজমা নিজেই তার মেয়েকে নিয়ে কলেজে যাতায়াত করতেন। গত ২৩ জুন মডেল টেস্ট পরীক্ষা জন্য মেয়েকে নিয়ে যান। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সুকন্যা কলেজে ঢোকেন। এ সময় তিনি কলেজের বাইরেই অন্যান্য অভিভাবকদের সঙ্গে অপেক্ষা করতে থাকেন। নির্ধারিত সময় পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর অন্যান্য ছাত্রীরা কলেজ থেকে বের হয়ে আসলেও সুকন্যা আসেননি।

নাজমা বলেন, সুকন্যার বান্ধবীদের কাছে জানতে চাইলে তারা কিছু বলতে পারেনি। পরে আমি বিকেল ৪টার দিকে কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাইলে তারা জানান, সুকন্যার পরীক্ষা অনুপস্থিত ছিল। পরে আমি অনেক খোঁজাখুঁজি করেও মেয়েকে খুঁজে পাইনি। তার মোবাইল আমার কাছে ছিল। আমি সেটি চেক করে ইশতিয়াক নামে একটি ছেলের সঙ্গে তার কথোপকথন পাই।

এরপর রমনা থানায় গিয়ে এ ঘটনায় মামলা দায়ের করেন নাজমা। পুলিশ সুকন্যার হোয়াটসঅ্যাপ থেকে ইশতিয়াকের নম্বর নিয়ে ফোন করে। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় দেওয়া কলে ফোন রিসিভ করে ইশতিয়াকের বড় ভাই। পুলিশ তাকে বিষয়টি জানিয়ে ইশতিয়াককে সঙ্গে নিয়ে থানায় আসতে বলে। এরপর থেকে কখনও নম্বরটি বন্ধ করে রাখা হচ্ছিল; আবার কখনও চালু করা হচ্ছিল।

নাজমা বলেন, সেদিন রাত পৌনে ৯টার দিকে আমার মোবাইলে সুকন্যার ফেসবুক আইডি থেকে মেসেজ আসে- ‘মা আমি বাসায় আসছি তুমি চিন্তা কোরো না’। পরে আমি জানতে পারি মেসেজটি আমার মেয়ে নয়, ইশতিয়াক পাঠিয়েছে। রাত পৌনে ১১টার দিকে পুলিশ আমাকে ফোন দিয়ে বলে, আপনি মগবাজার বটতলায় আসুন। আপনার মেয়েকে নিয়ে ইশতিয়াক আসছে। কিন্তু সে আসেনি।

রাত সাড়ে ১১টায় আমার ফোনে কল আসে। ইশতিয়াক আমাকে বলে, আন্টি সুকন্যা কী বাসায় ফিরেছে? আমি তাকে বলি, কীভাবে ফিরবে সে তো তোমার সঙ্গে আছে। এ কথা বলে আমি ফোনটি পুলিশকে দিই। পুলিশ ইশতিয়াককে বলে সুকন্যাকে নিয়ে আসতে, নয়ত ভালো হবে না। ইশতিয়াক ২০ মিনিটের কথা বলে আর আসেনি, নিজের নম্বরটিও বন্ধ করে দেয়।

তিনি আরও বলেন, গত ২৪ জুন সকালে পুলিশ ইশতিয়াককে গ্রেফতার করে থানায় ডাকিয়ে আনে। সে তার বন্ধু সালমানকে নিয়ে আসে। আমি এ সময় তাকে বার বার সুকন্যার কথা জিজ্ঞেস করি। বলি, বাবা তুমি আমার মেয়ে কী করেছ? মেরে ফেলেছো? ইশতিয়াক বলে, না আন্টি মারব কেন? তখন আমি জিজ্ঞেস করি, সুকন্যাকে কী অন্য কারও কাছে দিয়ে দিয়েছো? সে মাথা নিচু করে রাখে।

এ সময় আমার ফেসবুকে মেসেজ পাঠানোর বিষয়টি স্বীকার করে ইশতিয়াক। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, ২৩ জুন সারাদিন সুকন্যার তার সঙ্গে ছিল। রাত ৮টায় তাকে রিকশায় তুলে দেয়। সারাদিন কোথায় কোথায় গিয়েছিলেন- পুলিশের এ প্রশ্নের উত্তরে ইশতিয়াক ওয়ারীর বিভিন্ন রেস্তরাঁর কথা জানায়। কিন্তু রেস্তোরাঁগুলোয় নিয়ে গেলে জানায়, সে  এখানে আসেনি।

আরও পড়ুন: রাবি শিক্ষার্থীকে ছাত্রলীগ নেতার মেরে ফেলার হুমকির ঘটনায় তদন্ত কমিটি

একই দিন বিকেলে গ্রেফতার হয় ইশতিয়াকের বন্ধু সালমান। নাজমা বলেন, পরে জানতে পারি সুকন্যাকে নিয়ে ইশতিয়াক গেণ্ডারিয়ার একটি শশ্মান ঘাটে যায়। গেণ্ডারিয়ার একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সুকন্যা ও ইশতিয়াক একইসঙ্গে একটি রিকশায় ছিল। আমার মেয়ের হাতে মোবাইল ছিল। সে মোবাইলে কথা বলছিল। রিকশা থামিয়ে পিছনের দিকে তাকাচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজের দুই রিকশা পরে ইশতিয়াককে দেখা যায়। পুলিশকে বলা হয়েছে, সামনের সিসিটিভির ফুটেজগুলো বের করার জন্য কিন্তু তারা করেনি।

পুলিশের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন নাজমা ইসলাম লাকী। তিনি বলেন, কোনো কিছু আমরা জানতে পারিনি। পুলিশ আমাদের পাঁচদিন থানায় শুধু বসিয়ে রেখেছে। বলেছে, তদন্ত করছি আপনারা বসে থাকেন। ইশতিয়াক আমাকে একটা কথাই বলেছে, আন্টি আপনার মেয়ে চলে আসবে কিন্তু আজও আমার মেয়ে আসেনি। ইশতিয়াক এখন কারাগারে আছে।

তিনি বলেন, পুলিশের কাছে তেমন সাহায্য না পেয়ে আমরা গত ১৯ জুলাই মামলাটি ডিবিতে স্থানান্তর করি। মামলার তদন্ত দায়িত্ব পায় ডিবির রমনা বিভাগ। সেখানকার সদস্যরা আমাদের কাছ থেকে সব তথ্য নেয়। কিন্তু গত ১ মাস ২৭ দিন ধরেও মেয়ের কোনো সন্ধান পাচ্ছি না। আমরা কারও কাছে কোনো সাহায্য পাচ্ছি না। ডিবি এবং পুলিশ একই কথা বলছে। আমি শুধু আমার মেয়েটাকে ফিরে পেতে চাই। ডিবি সদস্যরা বার বার বোঝাতে চাচ্ছে আমার মেয়ের মাথায় সমস্যা। কেন বলছে আমি জানি না। আমি শুধু আমার মেয়েকে ফেরত পেতে চাই।

মামলার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম বলেন, মামলাটি আমাদের কাছে ছিল। তবে, সেটি ডিবিতে হস্তান্তর করিয়েছেন নিখোঁজ ছাত্রীর পরিবার। মামলাটি ডিবি তদন্ত করছে।

 

শ্রম অধিকার, শ্রমিক সুরক্ষা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা…
  • ৩১ মার্চ ২০২৬
খুব কঠিন পথে আছি, আপনারা আমাকে হেল্প করুন: চিকিৎসকদের সহযোগ…
  • ৩১ মার্চ ২০২৬
সাতক্ষীরায় তেল সংকটে মোটরসাইকেল বাজারে ধস, বাড়ছে ব্যাটারিচা…
  • ৩১ মার্চ ২০২৬
গাইড বই বাণিজ্যের অভিযোগ শিক্ষক সমিতির বিরুদ্ধে, তদন্তে ‘ধী…
  • ৩১ মার্চ ২০২৬
মিরসরাই বসতঘর থেকে অজগর উদ্ধার
  • ৩১ মার্চ ২০২৬
৯ মাস বয়সী শিশু রাইয়ানের চিকিৎসায় পাশে দাঁড়ালেন প্রধানমন্ত্…
  • ৩১ মার্চ ২০২৬
×
  • Application Deadline
  • April 1, 2026
  • Admission Test
  • April 4, 2026
APPLY
NOW!
UNDERGRADUATE ADMISSION
SUMMER 2026!
NORTH SOUTH UNIVERSITY
Center of Excellence