বন্ধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের টয়লেট ভেঙে নির্মিত হয়েছে মার্কেট

২১ জুন ২০২১, ১০:৫০ AM
বন্ধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের টয়লেট ভেঙে নির্মিত হয়েছে মার্কেট

বন্ধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের টয়লেট ভেঙে নির্মিত হয়েছে মার্কেট © সংগৃহীত

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের কয়েকটি টয়লেট ভেঙে ১৩ কক্ষ বিশিষ্ট একটি মার্কেট ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়টির শিক্ষক এবং পরিচালনা কমিটির সদস্যরা এ কাজের সঙ্গে জড়িতে রয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা প্রশসানের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, করোনাকালে যখন স্থবির শিক্ষাব্যবস্থা সেই সুযোগ জেনে-বুঝেই এমনটি করা হয়েছে। প্রশাসনের অনুমতি না নিয়ে ম্যানেজিং কমিটির নাম ভাঙিয়ে প্রধান শিক্ষক লাল মাহমুদ মিয়া এসব করছেন। এতে বিদ্যালয় খোলার পর শিক্ষার্থীদের পয়ঃনিষ্কাশনের অসুবিধাসহ নিরাপত্তা ব্যবস্থা বিঘ্নিত হবে।

এর আগে, বিদ্যালয়টির একটি গেট ও নিরাপত্তা বেষ্টনী (বাউন্ডারি) নির্মাণের জন্য ১০ লাখ টাকার বরাদ্দ দেয় জেলা পরিষদ। এর কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রাজেশ এন্টারপ্রাইজ। তাদের কাছ থেকে সাব ঠিকাদার হিসেবে বাউন্ডারি ওয়ালের কাজ করেন বিদ্যালয়ের কোয়াব সদস্য খন্দকার আহম্মদ শাহ মোয়াজ্জিন। তবে ওই বাউন্ডারি ওয়াল ও গেট নির্মাণেও রয়েছে নিম্নমানের কাজের অভিযোগ।

পড়ুন: জবির খেলার মাঠ ভেঙে সিটি কর্পোরেশনের মার্কেট

এদিকে, অনুমতি ছাড়া সরকারি অর্থে নির্মিত এ স্থাপনা ভেঙে এখন বাণিজ্যিক অবকাঠামো নির্মাণের কোন বিধান নেই বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা গ্রহণেরও আশ্বাস দেয় হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. ইশরাত জাহান গণমাধ্যমকে বলেন, বিদ্যালয়ের সরকারি স্থাপনা বা ছাত্রীদের জন্য নির্মিত টয়লেট ভাঙার জন্য কোনো অনুমতি নেয়া হয়নি। যদি স্থাপনা ভেঙে মার্কেট নির্মাণ করা হয় তাহলে ওই বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

রব্বানী নামের স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, কয়েকমাস আগে বিদ্যালয়ের বাউন্ডারি নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। এখন ভেতরে দেখছি মার্কেট নির্মাণ হচ্ছে। মার্কেটের জন্য এবার বাউন্ডারিটি ভেঙে ফেলা হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা জানান, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তার একক ক্ষমতাবলে আর প্রশাসনের কোনো অনুমতি না নিয়েই বিদ্যালয়ের ভেতর মার্কেট নির্মাণ করছেন। প্রধান শিক্ষকের নামেও দোকান বরাদ্দ রয়েছে। মার্কেট নির্মাণের জন্য টয়লেট ভাঙা হয়েছে। এরপর বাউন্ডারি ভাঙা হবে।

ভূঞাপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লাল মাহমুদ মিয়া গণমাধ্যমকে বলেন, বিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য টয়লেট ও বাউন্ডারিসহ যেসব স্থাপনা রয়েছে সেগুলো ভাঙার জন্য ম্যানেজিং কমিটির অনুমতি রয়েছে। মার্কেটের দোকানগুলো বিদ্যালয়ের শিক্ষক, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও বহিরাগতদের মধ্যে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। যারা দোকান বরাদ্দ নিয়েছে তাদের টাকা দিয়েই মার্কেট নির্মাণ করা হচ্ছে। পরবর্তীতে সেই টাকা জামানত হিসেবে থাকবে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহিনুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, বিদ্যালয়ে ২০১২-১৩ অর্থবছরে সেকায়েপ প্রকল্পে ছাত্রীদের জন্য টয়লেট নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া কয়েকমাস আগেই সরকারি টাকায় সেখানে বাউন্ডারির নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে।

তিনি বলেন, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনো অনুমতি ছাড়াই সেগুলো ভেঙে মার্কেট নির্মাণ করছে বলে শুনেছি। করোনাকালে বিদ্যালয় পরিদর্শন করা হয় না। এরই সুযোগ নিয়ে সরকারি স্থাপনা ভেঙে মার্কেট নির্মাণ করা হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আশঙ্কাজনক অবস্থায় লাইফ সাপোর্টে জাবির সেই দগ্ধ শিক্ষার্থী র…
  • ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বিশ্বকাপে ভারত ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত পাকিস্তানের
  • ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ডা. শফিকুর রহমান কোনো আলেম নন, বেহেশতের টিকিটের নামে ভণ্ডাম…
  • ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
গর্ভবতী নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
  • ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নির্বাচনে প্রতিটি সেনাসদস্যকে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে : ওয়া…
  • ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে উপমার লাশ, হিসাব মিলছে না কারও
  • ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬