নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের দেওভোগ এলাকার ফরিদ আহমেদ, তাঁর স্ত্রী এবং ইউএনও আরিফা জহুরা © ফাইল ফটো
জাতীয় জরুরি তথ্য সেবা ৩৩৩ নম্বরে কল করে খাদ্যসহায়তা চেয়ে উল্টো শাস্তির ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। এতে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফা জহুরাকে ওই ঘটনা থেকে দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে। কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য আইয়ুব আলীকে দায়ী করা হয়েছে।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শামীম ব্যাপারী গত বৃহস্পতিবার রাতে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহর কাছে ওই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। এতে বলা হয়েছে, ইউপি সদস্যের ভুল তথ্যের জন্যই এমন ঘটনা ঘটেছে। তিনি ইউএনওকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেননি।
আগামীকাল রোববার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা থাকলেও তদন্ত কমিটি বৃহস্পতিবার রাতে তা জমা দিয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক। তিনি জানান, পাঁচ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনের সঙ্গে ১২৬ পৃষ্ঠার কাগজপত্র যুক্ত করা হয়েছে। এর সঙ্গে ভিডিও ফুটেজও সংযুক্ত করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: সারাদেশে এক হচ্ছে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের মূল্য
তদন্ত প্রতিবেদনে খাদ্যসহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে একজনের তথ্যে নির্ভর না করে স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা, মসজিদের ইমাম ও প্রয়োজনে সাংবাদিকদের কাছ থেকে তথ্য সহায়তা নেওয়া যেতে পারে বলে সুপারিশ করা হয়েছে।
কিছুদিন আগে লকডাউন চলাকালে ৩৩৩ নম্বরে কল করে খাদ্যসহায়তা চান কাশিপুর ইউনিয়নের দেওভোগ এলাকার ফরিদ আহমেদ। এরপর তাঁর চারতলা বাড়ি ও হোসিয়ারি কারখানা থাকার খবর পেয়ে খাদ্যসহায়তা না দিয়ে উল্টো দুই দিনের মধ্যে ১০০ জনের মধ্যে খাদ্য বিতরণের সময় বেঁধে দেন ইউএনও আরিফা জহুরা। এ নির্দেশনা না মানলে তিন মাসের জেল হতে পারে বলে তখন ফরিদকে জানান ইউপি সদস্য আইয়ুব।
আরও পড়ুন: ঢাবির ১০০ বছরের পুনর্মিলনী ফেসবুক গ্রুপে!
জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনে ভুক্তভোগী ওই ব্যক্তি ইউএনওর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করেননি।
ফরিদের সহায়তা চাওয়ার ঘটনা গণমাধ্যমে প্রকাশের পর আলোচনা শুরু হয়। পরে জানা যায়, ফরিদ আহমেদ হোসিয়ারি কারখানায় ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা বেতনে কাজ করেন। তাঁর এক ছেলে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ও দুই মেয়ে আছে। বড় মেয়ের অলংকার বন্ধক রেখে চড়া সুদে ঋণ ও ধার করা টাকায় খাবার বিতরণ করে ইউএনওর নির্দেশ পালন করেন ফরিদ আহমেদ।