প্রতীকী ছবি © সংগৃহিত
প্রেমের সম্পর্ক ভাঙ্গার কারণ জানতে চাইলে ‘গোলামের বাচ্চা’ বলে গালি দেয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে স্কুলছাত্রী নাজমিন আক্তারকে (১৬) হত্যা করে নাজিম উদ্দিন (২৩)। বুধবার (১ মার্চ) দুপুরে সিলেটের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট লায়লা মেহের বানুর আদালতে (দ্বিতীয় আদালতে) ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে এ কথা জানিয়েছেন নাজিম উদ্দিন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বিয়ানীবাজার থানার ওসি হিল্লোল রায় বলেন, জবানবন্দি গ্রহণের পর আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার (১৬ মার্চ) দুপুরে সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার শেওলা ইউনিয়নের বালিঙ্গা গ্রামে নিজ বাড়ির কক্ষে রক্তাক্ত অবস্থায় নাজমিনকে (১৬) পাওয়া যায় । সে বালিঙ্গা উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী। এ সময় রক্তমাখা একটি দা ফেলে পালাতে দেখা যায় ওই বাড়িতে আশ্রিত নাজিমকে। খবর পেয়ে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে। পরে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে বিয়ানীবাজারের আঙ্গারুলি গ্রামে বোনের বাড়িতে আত্মগোপন থাকা অবস্থায় এলাকাবাসীর সহায়তায় পুলিশ নাজিমকে আটক করে।
এ ঘটনায় রাতে নাজমিনের পালক বাবা সামসুল হক চৌধুরী বাদী হয়ে নাজিমকে একমাত্র আসামি করে হত্যা মামলা করেন। নাজিম আদালতে জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় সকালে তার জবানবন্দি জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রেকর্ড করা হয়।
জবানবন্দিতে নাজিম জানিয়েছেন, এক বছর আগে তাদের দুজনের মধ্যে সম্পর্ক হয়। প্রায় ছয় মাস আগে মেয়েটি সম্পর্কটি ভেঙে দেয়। সম্পর্ক ভাঙার কারণ চাইলে মেয়েটি তাকে ‘গোলামের বাচ্চা’ বলে গালি দেয়। ‘গোলামের বাচ্চা’ গালি শোনার পর থেকে সে ক্ষুব্ধ ছিল। সেই সময় থেকে নাজিম মেয়েটিকে হত্যার পরিকল্পনায় ছিলেন।
জবানবন্দিতে সে আরো জানায়, সম্প্রতি মেয়েটির বিয়ে অন্য একটি স্থানে চূড়ান্ত হওয়ায় সেই ক্ষোভ আরও বেড়ে যায়। এরপর এক সপ্তাহ ধরে সুযোগ খুঁজছিলেন গালির শোধ নেওয়ার। মঙ্গলবার সকাল থেকে তিনি বাড়ির সামনে একটি দা নিয়ে কাজ করার ভঙ্গিতে ছিলেন। বাড়ির পুরুষেরা সবাই যখন বাইরে চলে যান, তখন তিনি দা নিয়ে ঘরে ঢোকেন। বাড়িতে থাকা মেয়েটির পালক মা ও ভাইয়ের স্ত্রী যখন রান্নাঘরে ছিলেন, তখন নাজিমন টেলিভিশনের কক্ষে একা বসে টেলিভিশন দেখছিল। এই সুযোগে পেছন দিক থেকে তার গলায় দা দিয়ে মেয়েটিকে কোপ দেন।