বাবা-মাকে ফোন করে কান্নাকাটি করেছেন মিন্নি

রিফাত হত্যা মামলা
আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিস  © সংগৃহীত

বরগুনায় আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিসহ অপর ছয় আসামিকে জেলা কারাগারের কনডেম সেলে রাখা হয়েছে। সেখানে আজ বৃহস্পতিবার সকালে মিন্নি তার বাবা-মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময় কান্নাকাটি করেছেন বলে জানা গেছে।

মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন বলেন, সকালের দিকে মিন্নি আমার ও আমার স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছে। সে খুব কান্নাকাটি করেছে। কারাগারে সে ভালো নেই। তাঁকে একা একটি নির্জনকক্ষে রাখা হয়েছে। আমার মেয়ে নির্দোষ। একটি কুচক্রী মহল ষড়যন্ত্র করে আমার মেয়েকে এই মামলায় ফাঁসিয়েছে।

তিনি বলেন, একটি প্রভাবশালী মহলকে আড়াল করার জন্যই আমার নির্দোষ মেয়েকে ফাঁসানো হয়েছে। আমি রায়ের কপি পাওয়ার জন্য আবেদন করেছি। এটি হাতে পেলে দ্রুত উচ্চ আদালতে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবো। আমি আশাবাদী আমার মেয়ে উচ্চ আদালতে নির্দোষ প্রমাণিত হবে।

বরগুনা জেলা কারাগারের তত্ত্বাবধায়ক মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, এই কারাগারে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য কোনো নারী আসামি নেই। ফলে আয়শা একাই কনডেম সেলে আছেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর পাঁচ আসামিকেও কনডেম সেলে রাখা হয়েছে। রিফাত হত্যায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ছয় আসামি ছাড়া কনডেম সেলে আপাতত অন্য কোনো বন্দী নেই।

এর আগে গতকাল বুধবার রায় ঘোষণার পর ছয় আসামিকে বিকেল তিনটার দিকে কারাগারে নেওয়া হয়। এরপর তাদের কারাগারে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের জন্য নির্ধারিত কনডেম সেলে রাখা হয়। রায় শোনার পর থেকে আয়শা বিষণ্ন হয়ে পড়েন। কারাগারে নেওয়ার পর আয়শা চুপচাপ ছিলেন। কারও সঙ্গে তেমন কথাও বলেননি। রাতে খাবার-দাবার দেওয়া হলে সামান্য খেয়েছেন। বাকি পাঁচ আসামি স্বাভাবিক অবস্থায় আছেন।

২০১৯ সালের ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনের সড়কে রিফাত শরীফকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে জখম করে নয়ন বন্ডের গড়া কিশোর গ্যাং বন্ড গ্রুপ। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি হয়।


মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ