রংপুরে ৪ হত্যায় জড়িতদের পরিচয় জানা গেল, যেভাবে গ্রেপ্তার

২৩ আগস্ট ২০২৬, ০১:৪৯ PM
রংপুরে চার হত্যার ঘঠনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ

রংপুরে চার হত্যার ঘঠনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ © সংগৃহীত

রংপুর মহানগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় নির্মাণাধীন একটি ভবনের দ্বিতীয় তলায় শিক্ষকসহ চার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ নামে দুই যুবককে আটক করেছে পুলিশ। তারা সম্পর্কে মামাতো ভাই এবং নিহত শিক্ষকের প্রতিবেশী বলে পুলিশ জানিয়েছে। তারা পরিবারের চারজনকে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

রবিবার (২৩ আগস্ট) রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার (ডিআইজি) মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘গণপতি চক্রবর্তী ছিলেন সম্মানিত লোক। গ্রেপ্তাররা উনার ফ্যামিলি ছিল। কারো সাথে কোনো কলহ-বিবাদ কিছু ছিল না। তিনি এখানে বাড়ি করেছেন, পার্শ্ববর্তী বাসার ওপর দিয়ে দুজন খুনি, তাদের নাম মুগ্ধ আর সিদ্ধার্থ, তারা পাশের বিল্ডিংয়ের ওপর দিয়ে উনাদের ছাদে আসে।’

তিনি বলেন, ‘বৃহস্পতিবার দিবাগত শেষ রাতে তারা দুজন মামাতো ভাই ছাদে এসে নেশা করে, ইয়াবা সেবন করে। এ সময় শিক্ষক গণপতি যখন ওপরে শব্দ শুনে ছাদে গিয়ে বসে আড্ডা দেয়ার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করেন। খালি গায়ে কাঁধে গামছা ছিল তার। তিনি তাদেরকে চ্যালেঞ্জ করলে দুজন খুনি তাদের পরিচয় প্রকাশ না করার জন্য হত্যা করে। পরে পরিবারের অন্য সদস্যদেরও হত্যা করেছে।’

গ্রেপ্তার মুগ্ধর (২৩) বাবা কানুদাস। আর সিদ্ধার্থর (১৯) বাবা বিনয়চন্দ্র দাস। তাদের বাড়ি কোতোয়ালি থানা এলাকার মাছুয়াপাড়ায়। তিনি বলেন, হত্যার পর তারা বাথরুমে গোসল করে। পরে ডাইনিং টেবিলে বসে খেজুর খায়। তাদের কাছে থাকা ইয়াবাও সেবন করে। পরে জুমার নামাজের সময় বাইরের লোকজন কমে গেলে দুজন বাসা থেকে বের হয়ে সাথে লুট করে নিয়ে যায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘সিদ্ধার্থ স্বর্ণের দোকানের কারিগর। একটা চুরি করা অলংকার আগুন দিয়ে পরীক্ষা করে। আলামত পেয়ে আমরা অনুমান করেছিলাম স্বর্ণের কাজে অভিজ্ঞ হয়তো কেউ থাকতে পারে। অনুমানটা সঠিক হয় সিদ্ধার্থ স্বর্ণের কাজে অভিজ্ঞ। তারপরে ঘটনাকে ডাকাতি বলে যেন পুলিশ মনে করে সেজন্য তারা ইচ্ছাকৃতভাবে জিনিসপত্রে এলোমেলো করে। বের হয়ে যাওয়ার আগে বাসার দুইটা ফোন ডিটারজেন্ট দিয়ে বালতিতে ভিজিয়ে রাখে যেন কোনও ফিঙ্গারপ্রিন্ট না থাকে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত থেকে ঘটনাটা সারাদিন ঘটায়।’

অন্য খবর: রংপুরে ৪ হত্যা: সংবাদ সম্মেলনে কাঁদলেন পুলিশ কমিশনার

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের খবর পাওয়ার পরপরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান শুরু করে। এরই একপর্যায়ে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধকে আটক করা হয়। তাদের এজন অভিযানের খবর টের পেয়ে রেশম উন্নয়ন বোর্ডের তুতবাগানে লুকিয়ে ছিল। পরে পাশের দখীগঞ্জ শ্মশান থেকে তাকে আটক করে পুলিশ।

হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বিভিন্ন আলামতও উদ্ধারের দাবি করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) সনাতন চক্রবর্তী জানান, আটক দুই যুবক হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছেন। এর আগে শনিবার ভোরে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ নামে ওই দুই যুবককে আটক করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। 

নিহতরা হলেন- রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী বালা (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী (২৫) ও ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী (১২)। গণপতি চক্রবর্তী গত বছরের ডিসেম্বরে রংপুর জিলা স্কুল থেকে শিক্ষকতা পেশা থেকে অবসর নেন। পরে তিনি রংপুর সমবায় মার্কেটে একটি হোমিওপ্যাথি চেম্বারে নিয়মিত চিকিৎসাসেবা দিতেন। 

তার মেয়ে প্রার্থী চক্রবর্তী কারমাইকেল কলেজের ইংরেজি বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ছিলেন। সম্প্রতি তিনি মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। আর ১২ বছর বয়সী ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তী পড়ত রংপুর জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণিতে।

মিসবাহর দশম স্ত্রী হতে চান কনটেন্ট ক্রিয়েটর অ্যাথিনা
  • ২৩ আগস্ট ২০২৬
দুই শিশু বাসায় আটকা—এমন খবরে পুলিশে এসে দেখে মায়ের মরদেহ
  • ২৩ আগস্ট ২০২৬
খেজুরের বিচি, কামড়ানো শসা আর পোড়ানো চুড়ি দেখে শনাক্ত হয় খুনি
  • ২৩ আগস্ট ২০২৬
এইচএসসিতে খারাপ ফল, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ায় মানুষ পাত্…
  • ২৩ আগস্ট ২০২৬
টেকনাফে ৩ কেজি ক্রিস্টাল মেথসহ মিয়ানমারের নাগরিক আটক
  • ২৩ আগস্ট ২০২৬
শরিফুলের আগুনে বোলিংয়ে মুগ্ধ কামিন্স
  • ২৩ আগস্ট ২০২৬