বিএনপি নেতার অভিযোগ সন্ত্রাসীদের তথ্য দেয় পুলিশ, এডিসি বললেন—ফাঁস করলে গাছের সঙ্গে ঝুলাবো, আপনারা পেটাবেন

২০ জুন ২০২৬, ১০:৪৮ PM
কেএমপি অতিরিক্ত কমিশনার রাশিদুল হাসান খান

কেএমপি অতিরিক্ত কমিশনার রাশিদুল হাসান খান © সংগৃহীত

স্থানীয় জনগণের দেওয়া গোপন তথ্য পুলিশের কোনো কর্মকর্তা যদি ফাঁস করে দেন, তবে তাকে গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে পেটানোর প্রকাশ্য হুঁশিয়ারি দিয়েছেন খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার রাশিদুল হাসান খান। সম্প্রতি একটি অপরাধপ্রবণ এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তাঁর দেওয়া এমন বক্তব্যের ২৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে।

বর্তমানে কেএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অ্যাডমিন অ্যান্ড ফিন্যান্স এবং ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করা রাশিদুল হাসান খানকে ভাইরাল ওই ভিডিওতে বলতে শোনা যায়, ‘দারোগা বা ইনস্পেক্টরকে বলার পর কোনো ইনফরমেশন যদি পাস হয়, আমি মুসলমান হিসেবে কথা দিচ্ছি আমি ইনস্পেক্টরকে ঝুলায় দেব, আপনারা পিটায় মারবেন। আপনারা গোপন তথ্য দিবেন, আল্লাহ ছাড়া কেউ জানলে আমি কথা দিচ্ছি গাছের সঙ্গে ঝুলাইয়া পিটাবো।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার নগরীর লবণচরা থানার মহিরবাড়ি খালপাড় এলাকায় ওই মতবিনিময় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল। গত দুই বছরে খুলনায় একাধিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর তৎপরতা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর হাতে এই সময়ে অন্তত ৮৯ জন খুন হয়েছেন এবং গুলি ও কুপিয়ে জখমের ঘটনা ঘটেছে শতাধিক। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অপরাধের ঘটনা ঘটছে এই লবণচরা থানা এলাকায়। মহিরবাড়ি খালপাড় এলাকাটিও চরম অপরাধপ্রবণ হিসেবে পরিচিত। কিন্তু জীবনের ভয়ে ও আতঙ্কে স্থানীয় মানুষ থানায় গিয়ে কোনো অভিযোগ করতে সাহস পান না। এমনকি পুলিশ একাধিক অভিযান চালালেও অপরাধীরা অধরা থেকে যায়। মূলত এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ এবং স্থানীয়দের আস্থা ফেরাতেই বিভিন্ন মোড়ে মতবিনিময় সভার আয়োজন করে পুলিশ।

ওই মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ওয়ার্ড পর্যায়ের এক বিএনপি নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ওই এলাকার ঘরে ঘরে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী রয়েছে। পুলিশের ভেতরেই সন্ত্রাসীদের নিজস্ব লোক থাকায় সাধারণ মানুষ তথ্য দিতে ভয় পায়। পুলিশের কাছে তথ্য দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তা সন্ত্রাসীদের কাছে পৌঁছে যায়। সভায় পুলিশ কর্মকর্তারা যখন স্থানীয়দের কাছে তথ্য চেয়ে সহযোগিতার অনুরোধ করছিলেন, তখন উপস্থিত সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে বলে ওঠেন যে পুলিশই তথ্য ফাঁস করে দেয়। তাই তথ্য চাওয়ার আগে পুলিশ অফিসারদের নিজেদের ভালো হওয়ার পরামর্শ দেন সবাই। জনগণের এই তীব্র ক্ষোভ ও অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই মূলত অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ওই কড়া মন্তব্য করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এই বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে অতিরিক্ত কমিশনার রাশিদুল হাসান খান বলেন, খুলনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি করতে হলে স্থানীয় মানুষের সহযোগিতার কোনো বিকল্প নেই। জনগণ এগিয়ে না এলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব নয়। তবে জনগণের বড় অভিযোগ ছিল মাঠপর্যায়ের অফিসারদের দিকে। তাদের সেই ভয় দূর করতে এবং আশ্বস্ত করতেই তিনি কিছু কড়া কথা বলেছিলেন। তাঁর দাবি, পুরো বক্তব্য না দেখিয়ে একটি অংশ কেটে অন্যভাবে প্রচার করা হয়েছে। তিনি মূলত অধস্তন কর্মকর্তাদের এই কড়া বার্তাটিই দিতে চেয়েছেন যে, জনগণের দেওয়া তথ্য ফাঁস করলে বাহিনীর ভেতরের কেউই নিস্তার পাবে না এবং তাকে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে।

‘ছাত্রলীগ-যুবলীগের অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’—বিএনপির মিছিল…
  • ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
যারাই জড়িত হোক, আইনের আওতায় আসবেন—সালমানের স্টুডিও ভাঙচুর ই…
  • ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বাংলাদেশে নভেম্বর পর্যন্ত এলএনজি পাঠাতে পারবে না কাতার
  • ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৪৩ জনকে চাকরি দেবে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ক্রীড়া পরিদপ্তর
  • ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
গ্যাসের বাজারে নজর, দাম বাড়ালে কঠোর ব্যবস্থা: জাহেদ উর রহমান
  • ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আইডিকলে সহকারী ম্যানেজার পদে জনবল নিয়োগ
  • ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬