মানববন্ধন করেছে খুলনা ব্লাড ফুড ফাউন্ডেশন © টিডিসি ফটো
খুলনায় এক কিশোরী গৃহকর্মীকে নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্ত পুলিশ দম্পতির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছে খুলনা ব্লাড ফুড ফাউন্ডেশন। শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেলে নগরীর শিববাড়ি মোড়ে অনুষ্ঠিত এ মানববন্ধনে বিভিন্ন সামাজিক, স্বেচ্ছাসেবী ও মানবাধিকারকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।
এর আগে, ১৮ জুন গৃহকর্মীকে শারীরিক নির্যাতনের মামলায় সোনাডাঙ্গা থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) সঞ্জয় কুমার সরকার ও তার স্ত্রী এএসআই পপি রানী সাহাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মানববন্ধনে খুলনা ব্লাড ফুড ফাউন্ডেশনের পরিচালক আর এস হৃদয় চৌধুরী, সংগঠক তামিম হাসান লিওন, জাতীয় নারী শক্তি খুলনা জেলার সংগঠক ইসরাত জাহান লামিয়া, খুলনা ব্লাড ফুড ফাউন্ডেশনের সহ-সভাপতি অর্ণব মণ্ডল এবং জাতীয় নারী শক্তি খুলনা জেলা মহানগরের সংগঠক মোহাম্মদ জাকিয়া ও আমিনুর রহমান সাগর, শাহীন আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, গৃহকর্মী নির্যাতনের মতো ন্যক্কারজনক ও অমানবিক ঘটনা কোনো সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণেরও দাবি জানান তারা।
মানববন্ধনে ব্লাড ফুড ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা মহরম হাসান মাহিম বলেন, "খুলনা একসময় শান্তির নগরী হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে নির্যাতন, হামলা ও হত্যার মতো ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব। সেই বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধেই যখন গৃহকর্মীর ওপর অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে, তখন তা অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগের বিষয়। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার এবং দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং অপরাধীদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত না হলে সমাজে ন্যায়বিচারের প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ন হবে।
সোনাডাঙ্গা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, ভুক্তভোগীর মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযুক্ত পুলিশ দম্পতিকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হবে।
মানববন্ধন শেষে আয়োজকরা নির্যাতনের শিকার কিশোরীর সুচিকিৎসা, নিরাপত্তা এবং পুনর্বাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান।