মাগরিবের আগ মুহুর্তে ধর্ষণ করে হারুন, জানায় মা-বাবাকেও: নির্মম বর্ণনা

০৮ জুলাই ২০১৯, ১১:২৫ PM

সামিয়া আফরিন সায়মা, সাত বছরের শিশু। রাজধানীর ওয়ারী সিলভারডেল স্কুলের নার্সারিতে পড়ত সায়মা। ওয়ারী বনগ্রামে নির্যাতনের পর হত্যার শিকার হয়। শনিবার দুপুরে ময়নাতদন্ত করেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান সোহেল মাহমুদ। ধরা পড়ে ধর্ষণের আলামত। এরপরই বিষয়টি নিয়ে তোলপাড়। গণামাধ্যমে আলোচনা। অবশেষে ধর্ষক হারুন অর রশিদ গ্রেফতার।

ইতোমধ্যেই ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে হারুন। বলেছে, মাগরিবের আজানের আগ মুহুর্তে ধর্ষণ করে সে। এরপরই আজান হয়। ধর্ষণের পর গলায় রশি পেচিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে।

জবানবন্দীতে হারুন বলেন, ‘সায়মা আমাকে বলে, চাচু চাচু আমাকে ছাদটা দেখিয়ে নিয়ে আসেন। তখন আমি ও সায়মা একসঙ্গে সিঁড়ি দিয়ে ছাদে উঠি এবং তাকে ৯ তলায় একটি খালি রুমে নিয়ে যাই। রুমটি আগে থেকে খোলা ছিল। রুমে গিয়ে আমি তাকে জড়িয়ে ধরার চেষ্টা করি। কিন্তু সে চিৎকার দিয়ে ওঠে। এরপর তার নাক ও মুখ চেপে জড়িয়ে ধরি। সায়মার নাক-মুখ চেপে জড়িয়ে ধরি। সে চিৎকার দিতে থাকে।’

জবানবন্দিতে হারুন বলে, ‘আমার আপন খালাতো ভাই পারভেজের বনগ্রামের বাসায় দুই মাস ধরে থাকি। আমি খালাতো ভাইয়ের রঙের দোকানের স্টাফ। গত ৫ জুলাই সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৬টায় খালাতো ভাইয়ের ছেলে আরাফের (১) জ্বরের ওষুধ নিয়ে আট তলায় তার বাসায় যাই। ওষুধ দিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে ফ্লাটের দরজার সামনে গিয়ে দেখি ৬ষ্ঠ তলার ৬/বি ফ্ল্যাটের আব্দুস সালামের মেয়ে সায়মা এসেছে। সে মাঝে মধ্যে তার মা’সহ খালাতো ভাইয়ের বাসায় আসতো এবং আরাফের সঙ্গে খেলাধুলা করতো। আরাফ অসুস্থ থাকায় সায়মা আমাকে বলে, ‘চাচু চাচু আমাকে ছাদটা দেখিয়ে নিয়ে আসেন।’

তখন আমি ও সায়মা একসঙ্গে সিঁড়ি দিয়ে ছাদে উঠি এবং তাকে ৯ তলায় একটি খালি রুমে নিয়ে যাই। রুমটি আগে থেকে খোলা ছিল। রুমে গিয়ে আমি তাকে জড়িয়ে ধরার চেষ্টা করি। কিন্তু সে চিৎকার দিয়ে ওঠে। এরপর তার নাক ও মুখ চেপে জড়িয়ে ধরি। সে আবার চিৎকার দেয়। তখন আমি তাকে বুকে নিয়ে গলা টিপে ধরি। তখন সায়মা প্রায় আধামরা। এই অবস্থায় তাকে ফ্লোরে শোয়াই......।.... পরে গলাটিপে মেরে ফেলি। এরপর রুমে থাকা রশি দিয়ে তার গলা পেঁচিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করি। কারণ সে আমাকে চেনে। সে বেঁচে থাকলে আমার কথা বলে দেবে। তার মৃত্যুর পর কিচেন রুমের সিংকের নিচে রেখে দেই। এ সময় মাগরিবের নামাজের আজান দেয়।

খালাতো ভাই পারভেজের বাসায় গিয়ে গোসল করে জামা-কাপড় চেঞ্জ করে বাসার নিচে চলে যাই এবং মহল্লায় হাঁটাহাঁটি করি। এরপর রাত ১১টার দিকে আমার নিজের বাড়ি কুমিল্লায় চলে যাই। যাওয়ার পথে রাস্তায় মোবাইলের সিম ফেলে দেই। বাড়িতে যাওয়ার পর ঘটনাটি মা-বাবাকে বলি। ঘটনা শুনে তারা আমাকে বকাবকি করে। আমি আমার ফুফুর বাড়িতে আশ্রয় নেই।”

এর আগে ৫ জুলাই সন্ধ্যার পর থেকে শিশু সামিয়া আফরিন সায়মার খোঁজ পাচ্ছিল না পরিবার। আনুমানিক সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ওয়ারীর বনগ্রাম সড়কের ১৩৯ নং নবনির্মিত ভবনটির নবম তলার ফাঁকা ফ্ল্যাটের ভেতরে সায়মাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। ভবনটির ছয়তলায় পরিবারের সঙ্গে থাকত সায়মা। বাবা আব্দুস সালাম নবাবপুরে মেশিনারিজের ব্যবসা করেন। দুই ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে সবার ছোট সায়মা। পড়তো ওয়ারী সিলভারডেল স্কুলের নার্সারিতে।

আনোয়ারায় সিএনজিচালক সজ্জাদ হত্যায় জড়িত ‘মূল হত্যাকারী’ গ্…
  • ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষায় ভুয়া প্রার্থী আটক
  • ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নির্বাচনে কত শতাংশ ভোট পড়তে পারে, বললেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
  • ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আইইউটি ভর্তি পরীক্ষা, যা জেনে রাখা ভালো
  • ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
শোরুম ম্যানেজার নিয়োগ দেবে মিনিস্টার হাই-টেক পার্ক, পদ ২০, …
  • ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
জামায়াত নেতা হত্যা : প্রধান আসামির হাইকোর্টে জামিন আবেদন
  • ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬