ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো © টিডিসি সম্পাদিত
গতকাল অনুষ্ঠিত হয় সরকারি ৬ ব্যাংকের ক্যাশ অফিসার নিয়োগের ভর্তি পরীক্ষা। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) প্রাক্তন শিক্ষার্থীর জন্য প্রক্সি দিতে গিয়ে ধরা পড়েন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক প্রাক্তন শিক্ষার্থী।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শনিবার সকাল ১০টায় শুরু হওয়া ঘণ্টাব্যাপী সে পরীক্ষায় মতিঝিল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ঢাবির শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগ থেকে ২০১৫ সালে স্নাতক ও ২০১৬ সালে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা প্রাক্তন শিক্ষার্থী মাজহারুল ইসলামের হয়ে প্রক্সি দিতে যান সাদ্দাম হোসেন। তিনি ঢাবির গণিত বিভাগ থেকে ২০১৮ সালে স্নাতক ও ২০১৯ সালে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।
পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে কেন্দ্র পরিদর্শক তার হাতে থাকা উপস্থিতি তালিকা থাকা আবেদনকারী মাজহারুল ইসলামের স্বাক্ষরের সাথে সাদ্দাম হোসেনের স্বাক্ষরে অমিল খুঁজে পান। পরবর্তীতে সাদ্দাম হোসেনকে ধরে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পরীক্ষা কেন্দ্রের দায়িত্বশীল ম্যাজিস্ট্রেটের শরণাপন্ন হন।
ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে সাদ্দাম হোসেন প্রক্সি দেয়ার বিষয়ে স্বীকারোক্তি দেন। পরবর্তীতে মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেন মতিঝিল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়সহ ৬টি কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ঢাকা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ডালিয়া নওশিন লুবনা।
মুচলেকায় সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘শনিবার ক্যাশ অফিসার পরীক্ষায় আমি একটি গর্হিত অপরাধ করেছি। আমি এই অপরাধ অনুধাবন করতে পেরেছি এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ভুল আর কখনও করব না। না হলে আইন আমলে আসবে।’
বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সূত্রে জানা যায়, সরকারি কর্ম কমিশন আইন অনুযায়ী কেউ প্রক্সি দিতে গিয়ে ধরা পড়লে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাকে অর্থদণ্ড, দুই বছরের জেল কিংবা উভয় দণ্ড দণ্ডিত করতে পারেন। কিন্তু সাদ্দাম ধরা পড়ার পরেও তাকে কেন ছেড়ে দেয়া হল, তা বোধগম্য হয় বলেও জানিয়েছেন তারা।
পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, পরীক্ষায় প্রক্সি, প্রশ্ন ফাঁস কিংবা ডিভাইস বহন ইত্যাদি পন্থা অবলম্বনের মাধ্যমে পরীক্ষায় অসদূপায় অবলম্বনের ব্যাপারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক অনেক কঠোর। তবে তারা শাস্তি দিতে পারে না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান গণমাধ্যমকে বলেন, এ ধরনের ঘটনা ধরা পড়লে দায়িত্বরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে তুলে দেওয়া হয়।
তবে এ বিষয়ে মতিঝিল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ঢাকা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ডালিয়া নওশিন লুবনা গণমাধ্যমকে জানান, মুচলেকা নিয়ে সাদ্দাম হোসেনকে ছেড়ে দেয়ার ঘটনাটি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন।