অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশের জাল ভিসা তৈরি করে প্রতারণা, গ্রেফতার ২

০১ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৩৫ PM , আপডেট: ০১ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৩৬ PM
গ্রেপ্তার হওয়া চক্রের দুই সদস্য

গ্রেপ্তার হওয়া চক্রের দুই সদস্য © সংগৃহীত

অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত দেশে পাঠানোর নামে জাল ভিসা তৈরি ও কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারী চক্রের দুই সদস্যকে বিপুল পরিমাণ জাল ভিসাসহ গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৪। সোমবার (৩০ মার্চ) গোপন সংবাদ ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ঢাকা মহানগরীর কারওয়ান বাজার এলাকায় যৌথ অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। .

গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন—মো. সাকিউর রহমান ওরফে সুমন (৩৭) ও মো. কোরবান আলী (৩০)। এ সময় তাদের কাছ থেকে জাল ভিসা তৈরির ডিভাইস ও বিপুল পরিমাণ ভুয়া ভিসা জব্দ করা হয়। এর আগেও চীন ও রাশিয়ায় চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎকারী চক্রকে আইনের আওতায় এনেছে র‌্যাব।

মামলার এজাহার ও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ভিকটিম তার এক পরিচিত আত্মীয়ের মাধ্যমে জানতে পারেন যে আসামিরা ‘এসআরএস ইন্টারন্যাশনাল বিডি’ নামক ভিসা প্রসেসিং প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বৈধভাবে লোক পাঠায় এবং কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেয়। সেই সূত্র ধরে আসামি সুমন ভিকটিমকে ২০ লক্ষ টাকার চুক্তিতে অস্ট্রেলিয়াতে চাকুরির প্রস্তাব দিলে ভিকটিম সরল বিশ্বাসে তাতে রাজি হন। এরপর বিভিন্ন সময়ে নগদ ও ব্যাংকের মাধ্যমে আসামিদের মোট ১৯ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা প্রদান করেন তিনি। টাকা পাওয়ার পর আসামিরা ভিকটিমকে দ্রুত ভিসা দেওয়ার আশ্বাস দেয় এবং ‘Australia Group’ নামক একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে তাকে যুক্ত করে। গত ২২ মে ২০২৫ তারিখে আসামিরা ভিকটিমকে ‘ভিএফএস গ্লোবাল’ নামক একটি অফিসে নিয়ে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করে এবং অস্ট্রেলিয়ার ভিসা ও কর্মসংস্থান সংক্রান্ত কিছু ভুয়া কাগজপত্র প্রদান করে। এরপর থেকে আসামিরা ভিকটিমকে বিমানের টিকিট দেওয়ার কথা বলে বারবার তারিখ পরিবর্তন করতে থাকে। এক পর্যায়ে বিমানের টিকিটের কথা বলে আরও ৯৬ হাজার টাকা দাবি করলে ভিকটিম নিরুপায় হয়ে বিকাশের মাধ্যমে আরও ৫০ হাজার টাকা আসামিদের প্রদান করেন। 

পরবর্তীতে আসামিরা টিকিট না দিয়ে বারবার ঘুরাতে থাকলে ভিকটিমের সন্দেহ হয় এবং তিনি আসামিদের সাথে দেখা করতে চাইলে তারা অস্বীকৃতি জানায়। এমতাবস্থায় ভিকটিম ওই হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের অন্যান্য সদস্যদের সাথে যোগাযোগ করে জানতে পারেন গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা আরও বহু মানুষকে একইভাবে বিদেশে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেছে। প্রতারণার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে টাকা ফেরত চাইলে আসামিরা ভিকটিমকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করে তাড়িয়ে দেয়। 

এ ঘটনায় ভিকটিম বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর র‌্যাব-৪ এর একটি আভিযানিক দল জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে এবং ছায়াতদন্ত শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় অবস্থান শনাক্ত করে গত ৩০ মার্চ কারওয়ান বাজার থেকে তাদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় র‌্যাব। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা স্বীকার করেছে তারা দীর্ঘদিন ধরে দেশের সহজ-সরল মানুষকে ইউরোপ ও অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন উন্নত দেশে পাঠানোর নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে আসছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্তে তাদের সংশ্লিষ্ট থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভ্রাট, মাঝপথে বাতিল হলো বিশ্ববিদ্যালয়টির ফাইনাল প…
  • ২৬ এপ্রিল ২০২৬
বিরোধীদল কাউকে বিশ্বাস করছে না, আশা করি আমার ওপরে ভরসা রাখবে
  • ২৬ এপ্রিল ২০২৬
দুদিনেও শাহবাগ থানায় মামলা না নেওয়ার অভিযোগ
  • ২৬ এপ্রিল ২০২৬
ইবতেদায়ী শিক্ষকদের গ্রেড উন্নয়নের সংশোধীত নীতিমালার বিষয়ে ন…
  • ২৬ এপ্রিল ২০২৬
জনবল নিয়োগ দেবে প্রাইম ব্যাংক, আবেদন ৭ মে পর্যন্ত
  • ২৬ এপ্রিল ২০২৬
পেশাদার খুনি দিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ, সংসদে নিরাপত্তা চাইল…
  • ২৬ এপ্রিল ২০২৬