হামলায় দোকান ভাঙচুর © টিডিসি সম্পাদিত
যশোরের শার্শায় গোগা বাজারে এক ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে গুরুতর জখম, তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর এবং নগদ টাকা লুটের ঘটনা ঘটেছে। গত বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত দুই দফায় সংঘটিত এ ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
আহত ব্যবসায়ী কামাল হোসেন বর্তমানে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। একই ঘটনায় তার বৃদ্ধ পিতাও মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোগা বাজার ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার করে আসছেন কথিত বিএনপি নেতা ও যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী হজরত আলী। তার নেতৃত্বে একটি প্রভাবশালী বলয় গড়ে উঠেছে, যার মাধ্যমে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। স্থানীয়দের দাবি, তার প্রভাবের কারণে কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পান না।
সূত্র জানায়, কৃষিজমিতে সেচের পানি দেওয়া নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই কামাল হোসেনের সঙ্গে হজরত আলীর বিরোধ চলছিল। ডিপ টিউবওয়েল ও জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। ঘটনার দিন সকালে হজরত আলীর ডাকে কামাল হোসেন তার বাড়িতে গেলে বড় অঙ্কের নির্মাণসামগ্রী রড ও সিমেন্ট বাকিতে দেওয়ার বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
ওইদিন বিকেলে গোগা বাজারে কামাল হোসেনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে তার কাছে বড় অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়। ব্যবসা পরিচালনা অব্যাহত রাখতে হলে ওই টাকা দিতে হবে এমন চাপ প্রয়োগ করা হয় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
সন্ধ্যার দিকে ২০-২৫ জনের একটি দল বাজারে এসে তার দোকানে হামলা চালায়। ওই সময় কামাল হোসেন দোকানে না থাকায় হামলাকারীরা তার পরিবারের সদস্যদের ওপর চড়াও হয়। তার বৃদ্ধ পিতা ও ছেলেকে বেধড়ক মারধর করা হয়। এতে তার পিতা গুরুতর আহত হন।
এরপর হামলাকারীরা দ্বিতীয় দফায় আবারও দোকানে ফিরে এসে ব্যাপক ভাংচুর চালায়। দোকানের ক্যাশ টেবিল, কাঁচের সামগ্রী, চেয়ারসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভেঙে ফেলা হয়। এ সময় ক্যাশ ড্রয়ারে থাকা প্রায় ৩ লাখ টাকা নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
ঘটনার পর গোগা বাজারসহ আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অনেকেই বলছেন, এ ধরনের ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে।
অভিযুক্ত হজরত আলী তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘অতীতের একটি মামলাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধ থেকেই সামান্য হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি দাবি করেন।’
এ বিষয়ে শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ হোসেন বলেন, ‘ঘটনার বিষয়টি আমরা শুনেছি। তবে এখনো পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ তৎপর রয়েছে।’