প্রতীকী ছবি © সংগৃহীত
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলায় ১১ বছর বয়সী চতুর্থ শ্রেণীর এক স্কুলছাত্রীকে মুখ ও হাত-পা বেঁধে ধর্ষণের চাঞ্চল্যকর ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। উপজেলার রানা হিজল গ্রামে পাশবিক এ ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বাদী হয়ে মোহনগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে সেটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করেছে পুলিশ।
এ ঘটনায় মুন্না(২৫)কে একমাত্র আসামি করা হয়েছে। প্রধান অভিযুক্ত মুন্না উপজেলার রানা হিজল গ্রামের শহিদ আলম ওরফে ছোট্টন (৫৮) এর ছেলে।
সোমবার (১৫ জুন) মামলা রুজুর সত্যতা নিশ্চিত করেন মোহনগঞ্জ থানার ওসি মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন।
পারিবারিক সূত্র ও এজাহার থেকে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থী। পরিবারটি অত্যন্ত দরিদ্র হওয়ায় কোনো সহায়-সম্পত্তি না থাকায় তারা গ্রামের জনৈক এক তালুকদারের বসতবাড়িতে বসবাস করে আসছিলেন।
গত ১২ জুন রাত আনুমানিক ১০ টার দিকে শিশুটি প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘরের বাইরে বের হয়। এ সময় পূর্ব থেকে ওত পেতে থাকা একই এলাকার যুবক মুন্না (২৫) শিশুটির মুখ গামছা দিয়ে পেঁচিয়ে টেনে-হেঁচড়ে জনৈক তালুকদারের একটি পরিত্যক্ত রান্নাঘরের ভেতরে নিয়ে যায়।
সেখানে মুন্না শিশুটির মুখ, হাত ও পা গামছা দিয়ে বেঁধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ধর্ষণ শেষে ঘটনাটি কাউকে না জানানোর জন্য শিশুটিকে ধারালো ছুরি দেখিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। ভয়ে শিশুটি প্রথমে বিষয়টি পরিবারের কাউকে জানায়নি।
আরও পড়ুন : ডুবে থাকা জাহাজ থেকে মিলল যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ
ধর্ষণের ফলে শিশুটির প্রচণ্ড শারীরিক ক্ষতি ও রক্তক্ষরণ শুরু হয়। রক্তক্ষরণ বন্ধ না হওয়ায় গতকাল (রবিবার) শিশুটি ব্যথায় কাতর হয়ে তার ফুফুকে (২৮) বিষয়টি খুলে বলে। পরবর্তীতে ভুক্তভোগীর ফুফু তাৎক্ষণিকভাবে শিশুর বাবাকে বিষয়টি অবগত করেন।
ঘটনা জানার পর শিশুর বাবা ও ফুফু অভিযুক্ত মুন্নার বাবার কাছে বিচার চাইতে যান। অভিযুক্তের বাবা ঘটনাটি শুনে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য ভুক্তভোগীর পরিবারকে চরম ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন এবং হুমকি দিয়ে বলেন, “তোরা যদি এ বিষয়টি এলাকার কাউকে বলিস বা আইনের আশ্রয় গ্রহণ করিস, তাহলে তোদের একজনকেও এলাকায় থাকতে দিব না। তোদের সব কয়টাকে হত্যা করিয়া লাশ গুম করিয়া ফেলাইব।”
এ বিষয়ে মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় থানায় গতকাল রাতে মামলা রুজু করা হয়েছে। ভুক্তভোগী শিশুটিকে শারীরিক পরীক্ষার জন্য আজ (সোমবার) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ওসি আরও বলেন, “প্রাথমিক তদন্তে ধর্ষণের সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।ঘটনার আরও বিস্তারিত ও সুনির্দিষ্ট তথ্য উদঘাটনের জন্য আমাদের গভীর তদন্ত চলমান রয়েছে।” আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে বলেও জানান তিনি।