সীতাকুণ্ডে জঙ্গলে শ্বাসনালী কাটা সেই শিশুটির সঙ্গে কী হয়েছিল?

০৩ মার্চ ২০২৬, ০৪:১০ PM , আপডেট: ০৩ মার্চ ২০২৬, ০৪:২২ PM
শ্বাসনালি কেটে হত্যাচেষ্টার শিকার মেয়ে শিশুটি

শ্বাসনালি কেটে হত্যাচেষ্টার শিকার মেয়ে শিশুটি © সংগৃহীত

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের পাহাড়ি এলাকায় শ্বাসনালি কেটে হত্যাচেষ্টার শিকার মেয়ে শিশুটি শেষ পর্যন্ত মারা গেছে। শিশুটির চাচা জানিয়েছেন, রাত সাড়ে তিনটার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই শিশুটি মারা যায়। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় ইতোমধ্যেই মামলা হয়েছে এবং তারা ঘটনার সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করছে।

রবিবার (১ মার্চ) শিশুটির মা বাদী হয়ে রবিবার অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে যে মামলা করেছিলেন, সেটি এখন হত্যা মামলায় পরিণত হবে বলে জানিয়েছেন সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মহিনুল ইসলাম।

শিশুটির রক্তাক্ত একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হলে এটি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে এবং শিশুটির সবশেষ অবস্থা নিয়ে মানুষ আগ্রহী হয়ে ওঠে। পুলিশ, শিশুটির চাচা ও স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বাসা থেকে প্রায় দশ কিলোমিটার দূরে, যেখানে শিশুটিকে গুরুতর আহত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল, সেটি ভূমি থেকে প্রায় এক হাজার ফুট উঁচু পাহাড়ি এলাকা।

সীতাকুণ্ড ইকোপার্ক থেকে চন্দ্রনাথ মন্দিরে ওঠার রাস্তার একটি অংশে সংস্কারের কাজ করছিল শ্রমিকরা। গত রবিবার শিশুটি যখন দুর্গম পাহাড় থেকে ওই রাস্তা ধরে হেঁটে নেমে আসছিল তখনো তার গলা থেকে রক্ত ঝরছিল বলে শ্রমিকরা স্থানীয় সাংবাদিকরা জানিয়েছেন। শিশুটি প্রথমে রাস্তার কাজে থাকা এক্সকাভেটরের কাছে এসে কিছু বলার চেষ্টা করছিল। কিন্তু শ্বাসনালি কাটা থাকায় গলা থেকে কোনো শব্দ আসছিল না। দ্রুত সেখানে থাকা শ্রমিকরা কাপড় দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে সেখানে কাজ করার বালুর গাড়িতে করে তাকে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায় বলে বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন একজন সাংবাদিক।

ওই রাতেই শিশুটিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। গলায় অস্ত্রোপচারের পর সোমবার সকালে তাকে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেলে নেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে তার মৃত্যু হয়।
শিশুটির চাচা আব্দুল আজিজ বলছেন, তাদের পরিবার বসবাস করে সীতাকুণ্ডের ছোট কুমিরার মাস্টারপাড়ায়। আর যেখানে তার ভাতিজিকে পাওয়া গেছে সেটি হলো ইকোপার্কের অনেক ভেতরে দুর্গম পাহাড়ি এলাকা।
তিনি জানান, ‘সেখানে বাচ্চাটাকে কে নিয়ে গেল এটাই এখন বড় বিষয়। আমরা চাই এটা খুঁজে বের করা হোক। সে মারা গেছে নির্যাতনের কারণে। দায়ীরা শাস্তি পাক এটাই আমাদের চাওয়া।’

শিশুটির পিতা শ্রমজীবী মানুষ এবং প্রায় আট বছর বয়সি মেয়ে শিশুটি তিন বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে দ্বিতীয় বলে জানিয়েছেন মি. আজিজ। তিনি বলেন, ‘হয়ত নির্যাতন করে গলা কেটে ওকে মেরেই ফেলতে চেয়েছিল। কেমন করে ছোট্ট মানুষটা তখন বাঁচল ও ফেরার চেষ্টা করলো জানি না।’

সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মইনুল ইসলাম বলেছেন, কী করে শিশুটি এত দূরে গেল এবং কারা এর সাথে জড়িত এই সব কিছু নিয়ে তদন্ত চলছে। তিনি জানান, ‘একটু সময় দিন আমাদের। আমরা জড়িত সবাইকেই চিহ্নিত করবো ও আইনের আওতায় আনতে পারব আশা করছি।’

জানা গেছে, কয়েক মাস আগে শিশুটির বাবা যৌথ পরিবার থেকে আলাদা হয়ে গেলেও শিশুটি প্রায় প্রতিদিনই তার দাদীর কাছে ছুটে যেতো এবং বাবা-চাচাদের বাড়িতে ছুটোছুটি করতো বলে পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেছেন। চাচার বাসায় থাকা দাদীর কাছে গেলে শিশুটি নিজের বাড়িতেও ফিরতে চাইতো না। অনেক সময় বাবা-মা গিয়ে তাকে বাড়িতে নিয়ে যেতে হতো বলে বলছেন শিশুটির স্বজনরা।

শিশুটির চাচা আব্দুল আজিজ বিবিসিকে বলেছেন, ‘ওইদিনও খুব সকালে মাকে বলেছিল সে খেলতে যাচ্ছে। মা বলছিল তার ভাইকে নিয়ে যেতে। কিন্তু একাই বের হয়ে যায় সে। আমরা ধারণা করি সে হয়ত অন্য দিনের মতো আমাদের বাড়ির দিকেই আসার জন্য বের হয়েছিল। এরপর কীভাবে ওই পাহাড়ের দুর্গম এলাকায় গেলো, কে তাকে নিয়ে নিয়ে গেল এটিই রহস্য।’

বাংলাদেশিদের জন্য অভিবাসী ভিসা বন্ধের কারণ জানাল যুক্তরাষ্ট…
  • ১১ জুলাই ২০২৬
বাসের সিটে বসা নিয়ে শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ ছাত্রদল নেত…
  • ১১ জুলাই ২০২৬
জাতীয় গবেষণা রিপোজিটরি: বাংলাদেশের গবেষণায় নতুন দিগন্ত
  • ১১ জুলাই ২০২৬
২৫ বছরেই না ফেরার দেশে বিশ্বকাপ খেলা তরুণ ফুটবলার 
  • ১১ জুলাই ২০২৬
পেছাতে পারে ইংল্যান্ড-নরওয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল
  • ১১ জুলাই ২০২৬
রাবির হরিজন পল্লিতে বাণিজ্যিকভাবে শূকর পালন, দুর্গন্ধে অতিষ…
  • ১১ জুলাই ২০২৬
×
  • Application Deadline
  • JULY 26, 2026
  • Admission Test
  • AUGUST 01, 2026
APPLY
NOW!
UNDERGRADUATE ADMISSION
FALL 2026!
NORTH SOUTH UNIVERSITY
Center of Excellence