বক্তব্য রাখছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা © সংগৃহীত
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে দেশের বিভিন্ন থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র লুটকারীরা হয়তো খালে-বিলে ফেলে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেছেন, থানা থেকে লুট হওয়া কিছু অস্ত্র আছে, সেগুলো এখনো উদ্ধার করা যায়নি। সেগুলো হয়তো খাল-বিল-নদীতে ফেলে দিয়েছে। এজন্য উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে পুলিশের লুট হওয়া এই অস্ত্র নির্বাচনকালে ব্যবহার করতে পারবে না এমন প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।
রবিবার (১৮ জানুয়ারি) রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে ৪১তম বিসিএস পুলিশ ব্যাচের শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।
দৈনিক কিছু না কিছু অস্ত্র উদ্ধার হচ্ছে দাবি করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, উদ্ধার হচ্ছে না তা নয়, উদ্ধার হচ্ছে। সীমান্ত দিয়ে যে অস্ত্র আসছে সেগুলোও কিন্তু উদ্ধার হচ্ছে। তবে আপনারা যে পরিমাণ আশা করেন, হয়তো সে পরিমাণ হচ্ছে না।
এ সময় তিনি বলেন, দেশে এখন জঙ্গিবাদ বা চরমপন্থি আগের চেয়ে অনেক অনেক কম। এখন জঙ্গিবাদ নাই বললেই চলে। তবে কিছু ফ্যাসিস্ট জঙ্গি রয়েছে। তারা অন্যান্য দেশে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে। এই জঙ্গিদেরকে যাতে তাড়াতাড়ি দেশে নিয়ে আসতে পরি, যেন আইনের আওতায় নিয়ে আসতে পারি এজন্য আমরা ব্যবস্থা করব।
এর আগে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও শন্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে পুলিশের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেড় লাখ পুলিশ সদস্য পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত রয়েছে। এবার প্রথমবারের মত নির্বাচনি নিরাপত্তাসহ দায়িত্ব পালনের জন্য পুলিশ সদস্যদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
পুলিশের নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নির্বাচনে শতভাগ নিরপেক্ষতা নিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হবে। কোনো প্রার্থী বা এজেন্টের কাছ থেকে অনৈতিক কোনো আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করবেন না। এমনকি দায়িত্ব পালনে তাদের কোনো প্রতিনিধির কাছ থেকে খাবারও গ্রহণ করবেন না। কেন্দ্রে কোনো বিশৃঙ্খলা হলে নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে পরামর্শ করে তা শক্ত হাতে দমন করতে হবে। আশা করি, আপনারা পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে কার্যকর ভূমিকা পালন করবেন।
অনুষ্ঠানে কুচকাওয়াজের অভিবাদন গ্রহণ করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। এ সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব নাসিমুল গণি, পুলিশ মহাপরিদর্শক বাহারুল আলম ও বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির প্রিন্সিপাল তওফিক মাহবুব চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। কুচকাওয়াজে প্যারেড কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার ধীমান কুমার মণ্ডল। দীর্ঘ প্রশিক্ষণের কৃতিত্বের অংশ হিসেবে বেস্ট প্রবেশনার হওয়ার গৌরব অর্জন করেন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন।
এ ছাড়া বেস্ট একাডেমিক অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী আরিফ, বেস্ট ইন ফিল্ড অ্যাক্টিভিটিজ অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার সজীব হোসেন, বেস্ট হর্সম্যানশিপ অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার মোসলেহ উদ্দীন আহমেদ এবং বেস্ট শুটার হওয়ার গৌরব অর্জন করেন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার সালমান ফারুক। তাদের পুরস্কৃত করা হয়।
গত বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ৪১তম বিসিএস পুলিশ ব্যাচের ৯৬ জন প্রশিক্ষণার্থী সমাপনী কুচকাওয়াজের মধ্য দিয়ে কর্মজীবনে প্রবেশ করলেন। কুচকাওয়াজে ৪১তম বিসিএস পুলিশ ব্যাচের ৮৭ জন ছাড়াও ২৮তম বিসিএস ব্যাচের একজন, ৩৫তম বিসিএসের তিনজন, ৩৬তম বিসিএসের একজন, ৩৭তম বিসিএসের দুজন এবং ৪০তম বিসিএসের দুজন প্রশিক্ষণার্থী সহকারী পুলিশ সুপার অংশ নেন।