গৃহবধূকে নির্মমভাবে নির্যাতন © সংগৃহীত
খুলনা মহানগরীতে যৌতুকের ৫ লাখ টাকা না পেয়ে দুই সন্তানের জননী এক গৃহবধূকে নির্মমভাবে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে। নির্যাতনের একপর্যায়ে ওই গৃহবধূর মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) প্রতিবেশীদের সহায়তায় দুই বছরের শিশুকে নিয়ে পালিয়ে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেওয়ার পর এই তথ্য জানান তিনি।
ঘটনাটি ঘটেছে খুলনা মহানগরীর দৌলতপুর থানাধীন পাবলা সাহাপাড়া রোডে খায়রুল ইসলামের ভাড়া বাড়িতে। অভিযুক্ত স্বামী ফয়সাল আহমেদ দীপ ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন। গুরুতর আহত অবস্থায় ভুক্তভোগী গৃহবধূ লুবাবা জামান প্রমিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, ২০২০ সালে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে দৌলতপুরের মোশাররফ হোসেনের ছেলে ফয়সালের সঙ্গে খালিশপুরের লুবাবা জামান প্রমির বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে চার বছরের এক কন্যা ও দুই বছরের এক পুত্র সন্তান রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ফয়সাল ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এবং নেশার টাকা জোগাড়ের উদ্দেশ্যে প্রায়ই প্রমিকে যৌতুকের জন্য চাপ দিতেন।
সবশেষ মঙ্গলবার রাত ৩টা থেকে শুরু করে বুধবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত টানা ৯ ঘণ্টা প্রমির ওপর নির্যাতন চালানো হয়। একপর্যায়ে ফয়সাল ব্লেড বা কাঁচি দিয়ে প্রমির মাথার চুল কেটে দেন। ভুক্তভোগী প্রমি বলেন, ‘সন্তানদের কথা ভেবে সব সহ্য করেছি। কিন্তু এবার মারধরের পর আমার চুলও কেটে দেওয়া হয়েছে।’ ভুক্তভোগীর মা নাসরিন শাবানা অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
প্রতিবেশীরা জানান, অভিযুক্ত ফয়সালের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ভয়ে এতদিন কেউ মুখ খোলার সাহস পাননি। তার বিরুদ্ধে থানায় মাদক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের একাধিক মামলা রয়েছে বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনাটি আমরা মৌখিকভাবে জেনেছি। তবে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’