নারীকে নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল © সংগৃহীত
রাজধানীর গুলশানের একটি মাদ্রাসার ভবনের চতুর্থ তলার কক্ষ থেকে চুরি করতে গিয়ে ওই প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীদের হাতে আটক হওয়ার পর শাস্তি হিসেবে শীতের সকালে এক নারীকে খুঁটিতে বেঁধে পানি ঢেলে নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শনিবার (৩ জানুয়ারি) ফেসবুকে এমন একটি ভিডিও ভাইরালের পর এ ঘটনায় জড়িত ৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ। তারা সবাই ওই মাদ্রাসার শিক্ষার্থী বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আজ রবিবার (৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাকিবুল হাসান দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে ৫ জনকে আটক করেছি। ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা দায়ের করতে বাদী হয়নি। পরবরর্তীতে ওই নারীকে পুলিশ খুঁজে পাওয়া যায়নি।
তিনি বলেন, আটককৃত ৫ জনই ঘটনাস্থলের পাশের মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। তবে তাদের মধ্যে তিনজন অপ্রাপ্তবয়স্ক রয়েছেন। আটককৃতদের বিষয়ে ঊর্ধ্বতনদের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জানা যায়, গত শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে গুলশান নর্দা এলাকার মারকাজুত তা'লীম আল ইসলামী মাদ্রাসার সামনে এই ঘটনা ঘটে। কয়েকজন ব্যক্তি ওই নারীকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে গায়ে পানি ঢেলে নির্যাতন করেন। নির্যাতনের সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
নির্যাতিত নারীর পরিচয় সম্পর্কে ওসি মোহাম্মদ রাকিবুল হাসান বলেন, ওই নারী ভবঘুরে। তিনি ওইদিন সকালে ওই মাদ্রাসায় ঢুকেছিলেন বলে জানিয়েছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। পরে তারা তাকে চুরির অভিযোগে আটক করে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে গায়ে পানি ঢেলে দেয়।
পুলিশ ও স্থানীয়রা বলেন, সেদিন সকাল সাড়ে ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে মাদ্রাসার দুই শিশু শিক্ষার্থী দেখতে পায়, ওই নারী মাদ্রাসার লোকমান নামের একজন শিক্ষকের কক্ষে তার হ্যাঙ্গারে ঝুলিয়ে রাখা পাঞ্জাবির পকেটে হাত দিচ্ছেন। শিশু শিক্ষার্থীরা চিৎকার করলে পাশের কক্ষ থেকে একরাম নামের আরেক শিক্ষক বেরিয়ে আসেন এবং ওই নারীকে আটক করেন। ওই নারীকে তারা পুলিশে সোপর্দ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পরে নিজেরাই ‘শাস্তি’ দিয়ে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। শাস্তির প্রক্রিয়া হিসেবে নারীকে খুটিতে বেঁধে পানি ঢালে পরে ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর কয়েকজন ওই নারীকে উত্তরাগামী একটি বাসে তুলে দেন।
ওই নারীকে ‘শাস্তি’ দিতে দেখতে থাকা কেউ একজন ভিডিও করে পরে ফেসবুকে পোস্ট করেন। পুলিশ ভিডিও দেখে ৫ জনকে শনাক্ত করেছে। তবে ওই নারীকে এলাকার কেউ চিনতে পারেননি। ওই নারী ওই এলাকার নন বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ এখন পর্যন্ত ওই নারীকে শনাক্ত করতে পারেনি।