শিক্ষার্থী জাহিদুর রহমানকে নির্যাতনের ঘটনায় স্মারকলিপি দিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা © টিডিসি
খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) শিক্ষার্থী নির্যাতনের একটি পুরোনো অভিযোগকে কেন্দ্র করে আবারও উত্তাপ ছড়িয়েছে ক্যাম্পাসে। ইসিই বিভাগের শিক্ষার্থী জাহিদুর রহমানের ওপর সংঘটিত নির্যাতনের ন্যায়বিচার, তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ ও ক্ষতিপূরণের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন কুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীরা, যা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, বিগত ফ্যাসিস্ট শাসনামলে জাহিদুর রহমানের ওপর সংঘটিত নির্যাতনের ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করলেও দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও তদন্ত প্রতিবেদন এখন পর্যন্ত জনসম্মুখে প্রকাশ করা হয়নি। এমনকি ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী একাধিকবার লিখিত ও মৌখিকভাবে প্রতিবেদনটির অনুলিপি চাইলেও তা তাকে সরবরাহ করা হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়ে জাহিদুর রহমান তিন দিন ধরে প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। তার দাবিগুলো ন্যায়সংগত ও যৌক্তিক হলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, কুয়েটে এর আগেও একাধিক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার তদন্ত কমিটি গঠিত হলেও সেসব প্রতিবেদন জনসম্মুখে প্রকাশ করা হয়নি এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি। এতে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের ওপর নিপীড়নের অভিযোগের বিষয়টি বারবার আলোচনায় এসেছে।
স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীদের দাবির মধ্যে রয়েছে জাহিদুর রহমানের ওপর সংঘটিত নির্যাতনের তদন্ত প্রতিবেদন অবিলম্বে প্রকাশ ও ভুক্তভোগীকে অনুলিপি প্রদান, তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে অভিযুক্ত শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ, পূর্বপ্রদত্ত আশ্বাস অনুযায়ী ন্যায়সঙ্গত ক্ষতিপূরণ প্রদান, পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্বে গঠিত সকল তদন্ত কমিটির অনিষ্পন্ন ও গোপন রাখা প্রতিবেদন জনসম্মুখে প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট অনিয়মের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ।
এ ছাড়া তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ সংক্রান্ত শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে কোনো অবস্থাতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ করা যাবে না বলেও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।
শিক্ষার্থীরা আশা প্রকাশ করে বলেন, প্রশাসন বিষয়গুলোর গুরুত্ব অনুধাবন করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। অন্যথায় ন্যায়বিচার ও স্বচ্ছ প্রশাসনের দাবিতে কর্মসূচি জোরদার করা হবে, যার দায়ভার সম্পূর্ণভাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকেই নিতে হবে।
স্মারকলিপিতে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দাবিসমূহ বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।