ঢাকায় আসার মূল্য যেন জীবন দিয়ে দিতে হলো জবির সাবেক ছাত্র আবুল কালামকে

২৬ অক্টোবর ২০২৫, ০৮:২৩ PM
স্ত্রী ও দুই সন্তানের সঙ্গে আবুল কালাম আজাদের এই ছবি এখন শুধুই স্মৃতি

স্ত্রী ও দুই সন্তানের সঙ্গে আবুল কালাম আজাদের এই ছবি এখন শুধুই স্মৃতি © সংগৃহীত

প্রতিদিনের মতো নারায়ণগঞ্জ থেকে রাজধানীর মতিঝিলে এসেছিলেন আবুল কালাম আজাদ। সেখান থেকে দুপুরে ফার্মগেট এলাকায় আসেন তিনি। এ সময় মেট্রোরেলের পিলারের বিয়ারিং প্যাড খুলে পড়ে তার ওপর। এতে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান তিনি। গণমাধ্যমে তার মৃত্যুর খবর জানতে পারেন পরিবারের সদস্যরা।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চার বোন ও ছয় ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট আবুল কালাম আজাদ। ছোট থাকতেই বাবা জলিল হাফেজের মৃত্যুর পর ঢাকায় বড় হয়েছেন তিনি। একই বয়সে হারিয়েছেন মাকেও। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষে চাকরি করতেন একটি ট্রাভেলস এজেন্সিতে।

জানা গেছে, সংসারের স্বাচ্ছন্দ্য ফেরাতে ২০১২ সালে মালয়েশিয়ায় যান আবুল কালাম (৩৮)। সেখান থেকে ফিরে ২০১৮ সালে পাশের গ্রামে আইরিন আক্তারকে বিয়ে করেন। তাদের ছয় বছরের ছেলে ও চার বছর বয়সী মেয়ে রয়েছে। তারা বসবাস করতেন নারায়ণগঞ্জের পাঠানটুলী এলাকায়। মতিঝিলের একটি ট্রাভেল এজেন্সিতে কাজ করতেন। প্রতিদিন অফিসে আসতেন নারায়ণগঞ্জ থেকে।

নিহত আবু কালাম আজাদের বড় বোন সেলিনা বেগম আহাজারি করতে করতে বলছিলেন, ‘ছোট থেকে কষ্ট করে বড় হয়েছে আমার ভাই। সেই পরিবারটা সামলাচ্ছিলই। ঢাকায় গেলে এমন মৃত্যু হবে—আমরা কিভাবে মানব? তার দুই সন্তানকে এখন কে দেখবে?’

আবু কালাম আজাদের এমন মৃত্যুতে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ঈশ্বরকাঠি গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আত্মীয়-স্বজনের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে এলাকা। তার ভাবি আছমা বেগম বলছিলেন, ‘বেলা ১২টার দিকে আবুল কালামের সঙ্গে আমার কথা হয়। দুই-এক দিনের মধ্যে বাড়িতে আসবে বলেছিল। ইলিশ মাছ কিনে রাখতে বলেছিল। ভাই আর আসল না।’

আরও পড়ুন: ছেলেকে পাঠিয়েছিলাম ডিগ্রি নিতে, এখন সে লাশ হয়ে ফিরেছে—নিহত জুবায়েদের বাবা

আবুল কালামের চাচাতো ভাই আব্দুল গনি মিয়া চোকদারের ভাষ্য, ‘আধুনিক এই প্রকল্পে যদি এমন নিরাপত্তা বিপর্যয় হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় নিরাপদ? দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।’

নড়িয়া সদরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া কীর্তিনাশা নদীতীরের ঈশ্বরকাটি গ্রাম। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, বাড়িতে চার ভাইয়ের টিনের চারটি বসতঘর। একটিতে থাকতেন আবুল কালাম। বড় ভাই খোকন চোকদার বলেন, ‘সে ফিরবে প্রাণহীন দেহ নিয়ে। স্বজনেরা অপেক্ষায় আছি, পরিবারের সঙ্গে কেন এমন হলো? তার কেন অকালে প্রাণ হারাতে হলো। স্ত্রী–সন্তানকেইবা কে দেখবে?’

পরিবারটিকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হচ্ছে জানিয়ে ইউএনও মো. আব্দুল কাইয়ুম খান বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ইমাম নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, মিলেছে সত্…
  • ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আফগানিস্তানের বেশ কয়েকটি স্থাপনা ‘ধ্বংসে’র দাবি পাকিস্তানের
  • ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
শিশু তাহিয়া হত্যা মামলা তুলে নিতে কারা পরিবারকে হুমকি দিচ্ছ…
  • ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
অরক্ষিত জাবির মনপুরা, বেড়েছে মাদকসেবীদের আড্ডা 
  • ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
১০ বছর আগে ঢাবির হল থেকে বের করে নির্যাতন ছাত্রলীগের, মামলা…
  • ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
তাবাসসুম হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেফতার
  • ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬