মো. আবুল হায়াত © টিডিসি ফটো
আদালতের আদেশ অমান্য উপজেলা ভূমি কর্মকর্তাকে দিয়ে তদন্ত করার দায়ে নাটোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. আবুল হায়াতকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) আদেশ দিয়েছে আদালত।
গত মঙ্গলবার (৩ জুন) নাটোরের লালপুর আমলি আদালতের অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রওশন আলম এ আদেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ৭ মে লালপুর থানার দুড়দুরিয়া ইউনিয়নের মনিহারপুর গ্রামের মো. ইদু সরকার অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এজাহার দাখিল করেন। মো.রবিউলসহ ৪ জন আসামি ইদু সরকারের জমি জোরপূর্বক ভোগ দখল করেছে। এরপর ১৭ মে বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য নাটোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে (সার্বিক) আদেশ দেন ম্যাজিস্ট্রেট। পরে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ২৪ মে লালপুরের সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার আদেশ দেন। এরপর লালপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) লালপুর গত ২৬ মে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।
লালপুর আমলি আদালতের স্টেনোগ্রাফার মো. নাজমুল ইসলাম কারণ দর্শানোর আদেশের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, লালপুর থানার ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের একটি মামলার তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে আদেশ দেন আদালত। কিন্তু মামলাটি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. আবুল হায়াত নিজে তদন্ত না করে লালপুরের সহকারী কমিশনার (এসি ল্যান্ড) মো. আজিজুল কবিরকে দিয়ে তদন্ত করান এবং সহকারী কমিশনার আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন।
মামলাটি নিজে তদন্ত না করে উপজেলা ভূমি কর্মকর্তাকে দিয়ে তদন্ত করানোর বিষয়টি আদালতের আদেশের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন, দায়িত্ব ও কর্তব্যে অবহেলা এবং আদালত অবমাননার শামিল বলে উল্লেখ করা হয়। মো. আবুল হায়াতের বিরুদ্ধে কেন আদালত অবমাননার প্রসিডিং গ্রহণ করা হবে না সেই কারণ জানাতে আগামী ২২ জুনের মধ্যে লিখিতভাবে কারণ দর্শানোর আদেশ দেন ম্যাজিস্ট্রেট। লিখিত কারণ দর্শানোর ব্যর্থতায় আইনানুগ আদেশ দেয়া হবে বলেও আদেশে উল্লেখ করেন।