বিশিষ্টজনদের বিবৃতি

মিডিয়া ট্রায়ালের শিকার হতে পারেন ডা. মিতু

১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৪:৪৩ PM
ডা. আকাশ ও মিতু

ডা. আকাশ ও মিতু © সংগৃহীত

তরুণ চিকিৎসক মোস্তফা মোরশেদ আকাশের আত্মহত্যার জের ধরে তার স্ত্রী ডা. তানজিলা হক চৌধুরী মিতু মিডিয়া ট্রায়ালের শিকার হতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং মানবাধিকার কর্মীরা। 

মঙ্গলবার এক সংবাদ বিবৃতিতে ৪৮ বিশিষ্টজন এই আশঙ্কা প্রকাশ করেন। বিবৃতিতে বলা হয়, গভীর উদ্বেগের সঙ্গে আমরা লক্ষ্য করছি, গত ৩১ জানুয়ারি চট্টগ্রামে সংগঠিত হওয়া চিকিৎসক মোস্তফা মোরশেদ আকাশের আত্মহত্যার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচণ্ড বিদ্বেষ ও ঘৃণা উদ্রেগকারী বক্তব্য প্রকাশিত হচ্ছে। এর নির্মম শিকার হচ্ছেন আকাশের স্ত্রী চিকিৎসক তানজিলা হক চৌধুরী মিতু এবং তার পরিবার। বিচারাধীন এই ঘটনাটিকে ‘মিডিয়া-ট্রায়াল’-এর দিকে নিয়ে যেতে পারে বলে আমরা আশঙ্কা করছি। 

তাঁরা বলেন, আকাশের আত্মহত্যাকে কেন্দ্র করে পূর্বানুমানের ভিত্তিতে সমাজের গৎবাঁধা দৃষ্টিভঙ্গি আরোপ করে মিতুকে অভিযোগ করার ঘটনা ব্যাপক হারে ঘটছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও সেই একই প্রবণতা দ্বারা পরিচালিত হয়ে মামলা হওয়ার আগেই আইন বহির্ভূতভাবে মিতুকে গ্রেফতার করে এবং পরবর্তীতে রিমান্ডে নিয়েছে, যা উদ্বেগজনক।

সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশে আত্মহত্যার প্রবণতা বেড়ে চলছে উল্লেখ করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য দিয়ে জানানো হয়, বাংলাদেশে প্রতিদিন গড়ে ২৮ জন আত্মহত্যা করছে, যা কোনভাবেই আমরা সমর্থন করতে পারি না। আমরা সমাজে এই বাস্তবতা দেখছি যে, একটি মানসিক পরিস্থিতিতে কেউ আত্মহত্যা করেন আবার বেশিরভাগ মানুষ সেই একই পরিস্থিতিতে বা তার চেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে পড়েও আত্মহত্যা করে না। আমাদের মনে রাখা প্রয়োজন, মানবিক এবং সামাজিক সম্পর্কের নতুন ধারা এবং মাত্রা আমাদের সমাজে প্রবেশ করেছে। সারাবিশ্বেই মানুষ এখন অপর মানুষের সাথে সম্পর্কের মাত্রা নিজে নির্ধারণ করাকে অধিকার ভাবছে। এটা অপরাধ হিসাবে বিবেচিত হওয়া উচিত নয়। এজন্য আত্মহত্যার দায় অন্যকে দেওয়া এবং প্ররোচনার জন্য অভিযুক্ত করার বিষয়টি অত্যন্ত সচেতনভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন, যেন আত্মহত্যা করা ইতিবাচক হিসাবে প্রতিফলিত না হয়।

তারা বলেন, কে কোন পরিস্থিতিতে চরম হতাশ হয়ে জীবনকে অর্থহীন মনে করবে তা বলা মুশকিল। তবে যাদের এই ধরণের প্রবণতা থাকে পরিবারের সদস্যরাই সবার আগে তা বুঝতে পারে। তাই তাদের মানসিক শক্তি জোগানো, জীবন সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা তৈরি করা পরিবারের সদস্যদের কাজ৷ বিষয়টির সার্বিক সমাধানে সমাজ ও রাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনও জরুরি। 

বিবৃতিতে বলা হয়, পৃথিবীতে প্রতিটি প্রাণ অমূল্য এবং প্রতিটি মানুষের ন্যায় বিচার পাবার অধিকার রয়েছে। তাই আমরা অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, অপরাধ প্রমাণিত হবার আগেই আকাশের আত্মহননের দায় যেন কিছুতেই অন্যায্যভাবে মিতুর কাঁধে চাপিয়ে দিয়ে মিতুকে এবং তার পরিবারকে লোকলজ্জা ও সামাজিক চাপের মধ্যে ফেলা না হয়। কেননা, বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগে অন্যায়ভাবে কাউকে দায়ী করে তার কাঁধে দোষ চাপানো হলে সেটিও অবিচার হবে এবং সেখানেও লঙ্ঘিত হবে মানবাধিকার। 

বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন- সিনিয়র আইনজীবী শাহদীন মালিক, মানবাধিকার কর্মী খুশী কবির, লেখক রেহনুমা আহমেদ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক আনু মুহাম্মদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক গীতি আরা নাসরীন, আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, ব্লগার ও অনলাইন অ্যক্টিভিস্ট আরিফ জেবতিক, ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি লাকী আক্তার। 

ইবিতে শিক্ষক হত্যার বিচার দাবিতে বিক্ষোভ, প্রধান ফটকে তালা
  • ১৫ এপ্রিল ২০২৬
৫ লাখ সরকারি কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী
  • ১৫ এপ্রিল ২০২৬
ঢাবির বাস দুর্ঘটনায় আহত ১১, যে কারণে প্রশাসনকে দায় দিলেন ডা…
  • ১৫ এপ্রিল ২০২৬
উৎসবমুখর পরিবেশে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে পহেলা বৈশাখ উদ…
  • ১৫ এপ্রিল ২০২৬
উৎসবমুখর পরিবেশে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে পহেলা বৈশাখ উদ…
  • ১৫ এপ্রিল ২০২৬
পুনরায় আলোচনা শুরুর আগে ইরানকে যে ২ শর্ত দিল যুক্তরাষ্ট্র
  • ১৫ এপ্রিল ২০২৬