বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা দিয়ে সামনে শিক্ষার্থীদের অবস্থান © টিডিসি
নিজ বিভাগের অফিস কক্ষে কর্মচারীর হাতে নিহত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনার নৃশংস হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার নিশ্চিতের দাবিতে প্রতিবাদ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এ সময় শুরুতে প্রশাসন ভবনের গেটে এবং পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন তারা।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদ ভবনের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে বিভাগের শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রশাসন ভবনের সামনে এসে জমায়েত হয়। এ সময় প্রশাসন ভবনের গেটে তালা ঝুলিয়ে দেয় তারা। কিছুক্ষণ পরে কর্মকর্তাদের কেউ একজন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করার অভিযোগে ক্ষিপ্ত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটেও তালা ঝুলিয়ে দেয় তারা। এতে দুপুর ১টার বাস বন্ধ হয়ে যায়।
এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘বিচার বিচার বিচার চাই, ম্যাম হত্যার বিচার চাই’; ‘ফাঁসি ফাঁসি ফাঁসি চাই, খুনিদের ফাঁসি চাই’; ‘রশি লাগলে রশি নে, খুনিদের ফাঁসি দে’; ‘জাস্টিস জাস্টিস, উই ওয়ান্ট জাস্টিস’; ‘আমার ম্যাম কবরে, খুনি কেন বাহিরে’; ‘প্রশাসনের অনেক গুণ, দিনদুপুরে মানুষ খুন’; ‘দিনে দুপুরে মানুষ মরে, প্রশাসন কী করে’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।
শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘সাজিদ হত্যার বিচার না হওয়ায় এই ঘটনা ঘটেছে। সাজিদ হত্যার বিচার হলে ফজলু আমাদের ম্যাম কে হত্যা করার সাহস করত না। ফজলু ছাড়াও শ্যাম সুন্দর সরকার, হাবিব, বিশ্বজিৎসহ যে কয়জন জড়িত, তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনতে হবে। নইলে আগে সাজিদ আব্দুল্লাহ হত্যা হয়েছে, তারপর আমাদের ম্যাডাম খুন হয়েছে, এরপরে আমি আপনি খুন হবো না তার নিশ্চয়তা কে দিবে?’
এ সময় প্রশাসনের কাছে ৪ দফা দাবি জানান শিক্ষার্থীরা। দাবিগুলো হলো নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সব দোষীর দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে; পরিবারের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ ও একজন সদস্যের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে হবে; নির্মাণাধীন হল আসমা সাদিয়া রুনার নামে নামকরণ করতে হবে এবং বিভাগে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার ওসিকে শিক্ষার্থীদের সামনে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসে তাদের দাবি বাস্তবায়নের ব্যাপারে আলোচনার দাবি জানান শিক্ষার্থীরা। বেলা দেড়টায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের প্রশাসন ভবন অবরোধ কর্মসূচি চলছে।